ভাড়ার শিক্ষকে চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়!

0

শেখ আব্দুল হাকিম, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)॥ দিন চুক্তিতে শিক্ষক ভাড়ায় নিয়ে চলছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের খোলপেটুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৪৩৩ জন শিক্ষার্থীর এ বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে আছেন চার জন শিক্ষক। তারা কেউ বিদ্যালয়ে আসেন না। নিজেদের বেতনের টাকা দিয়ে রেখেছেন ভাড়ার শিক্ষক! উল্লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, অফিস কক্ষে টেবিল চেয়ারে ধুলো বালির কড়া আস্তরণ, মাকড়সার জাল- দেখলে মনে হবে যেন ভুতুড়ে কোন কক্ষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মাসে এক-দুইদিন স্কুলে আসেন। অফিসের কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে থাকেন বলে জানান। টানা ১৮ বছর এ বিদ্যালয়ে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন। বিদ্যালয়ে খাতা কলমে দেখা যায় চারজন শিক্ষক। কিন্তু সহকারী শিক্ষক মিরা বালা প্রশিক্ষণে আছেন, ফরহাদ হোসেন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে আছেন। অপর সহকারী শিক্ষক বুদ্ধদেব জোয়ার্দার বিদ্যালয়ে আসেন অনিয়মিত। স্থানীয় বাবু খান, শাহাদাত হোসেন ও কুমকুম আক্তার নামে তিনজনকে দিন চুক্তিতে শিক্ষক বানিয়ে ৪৩৩ জন ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদান করান প্রধান শিক্ষক ও সহকারীরা। অভিভাবক আবুল কালাম ও মরিয়ম বেগম জানান, বিদ্যালয়টি বর্তমানে ম্যানেজিং কমিটি নেই। শিক্ষক সংকট রয়েছে। অভিভাবকদের সাথে শিক্ষকদের কোন সম্পর্ক নেই। হেড স্যার আসেন না। থাকেন শ্যামনগরে। তিন জন প্যারা শিক্ষক দিয়ে নিজের কাজ সারেন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির প্রাক্তন সভাপতি হাফেজ মাহমুদুল হাসান জানান, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে জমিদাতা হিসেবে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সকল কার্যক্রমে আমি ছিলাম। কিন্তু বিগত কয়েক বছর বিদ্যালয়ের কার্যক্রম দেখে হতাশ হচ্ছি। বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোন ম্যানেজিং কমিটি নেই, শিক্ষকও নেই। শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, হেড স্যার শ্যামনগরে থাকেন। মাঝে মধ্যে আসেন, আবার চলে যান। আমরা স্কুলে এসে খেলাধূলা করি। যে স্যারেরা আছেন তারা কিছু বলেন না। সহকারী শিক্ষক বুদ্ধদেব জোয়ার্দারকে অনিয়মিতভাবে স্কুলে আসার কথা জানতে চাইলে তিনি প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যথাসময়ে উপস্থিত থাকেন বলে দাবি করলেও হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে বলেন, হাজিরা খাতা আলমারিতে, আর চাবি প্রধান শিক্ষকের  কাছে। স্যার যখন আসেন তখন স্বাক্ষর করে নেন। গাবুরা ইউনিয়নের খোলপেটুয়া গ্রামের হাবিবুল্লাহ বলেন, এই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে দেলোয়ার হোসেন বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। তার হেয়ালিপনায় বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এখনো ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। প্রধান শিক্ষক নিজে স্কুল করেন না। আর বিদ্যালয়ে শিক্ষক রাখার বদলে নিজের স্বার্থের জন্য শিক্ষকদের বদলিতে সুপারিশ করেন। প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, স্কুলে শিক্ষক সংখ্যা কম। আমি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলার পরও তারা শিক্ষক দিচ্ছেন না। আমি একা আর কত দেখবো। আমি নিয়মিত স্কুলে যাই। গত এক সপ্তাহ ছুটিতে ছিলাম। শ্যামনগর উপজেলা সদরে বাসা থাকায় মাঝে মাঝে অনিয়ম হচ্ছে। তবে আর হবে না। শ্যামনগর উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিজ মিঞা বলেন, প্রধান শিক্ষক নিজে স্কুল না করে বেতনের টাকায় তিনজন প্যারা শিক্ষক দিয়ে স্কুল চালানোর বিষয়ে সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্যারা শিক্ষকদের টাকা দিয়ে স্কুলে রাখা যাবে না।