দোহাকুলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ অভিভাবকদের

0

 

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা সদরের দোহাকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী অভিভাবকরা এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন হয়েছে।
ভুক্তভোগী অভিভাবকরা জানিয়েছেন, দোহাকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাইল ইসলাম তার ইচ্ছা মাফিক বিদ্যালয় চালাচ্ছেন। বিকেল চারটা পর্যন্ত বিদ্যালয় চলার কথা থাকলেও তিনি অধিকাংশ দিন দুইটার আগেই ছুটি দিয়ে দেন। প্রধান শিক্ষকের কমপক্ষে দুইটি ক্লাস নেয়ার কথা থাকলেও তিনি একটি ক্লাসও নেন না। নানা অজুহাতে তিনি মহিলা অভিবাবকদের ডেকে এনে তাদের সাথে সারাক্ষণই গল্প গুজবে সময় পার করেন। দীর্ঘদিন এ কাজটি করার কারণে প্রধান শিক্ষক রেজাউলের কিছু ভক্ত মহিলা অভিভাবকের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওইসব অভিভাবককে দিয়ে অন্য শিক্ষকদের উপর অশোভন আচরণ করান। এতে করে বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক মানসিক চাপে পড়েছেন।
বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেজাইল ইসলাম তার নিজ গ্রামের জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করাকালিন সারক্ষণই গ্রাম্য রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাতেন। এ বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি একটি হত্যা মামলার আসামি হন। শুকদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করাকালিন শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা লোপাটের অভিযোগে সেখানকার অভিভাবকরা ঝাঁটা মিছিল করে। মহিরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করার সময়ে অন্যান্য শিক্ষকের সাথে চরম অশোভন আচরণ করার অপরাধে রেজাইল ইসলামকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। পূর্ব পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করার সময়ে লিপিকা খাতুন নামে এক শিক্ষকের সাথে চরম অশোভন আচরণ করেন। এতে করে ওই শিক্ষিকার স্বামী রেজাইল ইসলামকে মারপিট করেন। অবস্থার বেগতিক দেখে সেখান থেকে তাকে বদলি করা হয়। রেজাইল ইসলাম যেখানেই চাকরি করেছেন সেখানেই তিনি কোন না অঘটন ঘটিয়ে বদলি হয়েছেন। সর্বশেষ তিনি কর্মরত আছেন দোহাকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখানেও সেই একই পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে দোহাকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাইল ইসলাম বলেছেন, তিনি শুনেছেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেছেন।
বাঘারপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাহাবুবুর রহমান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তদন্তের জন্য একজন সহকারী শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।