শার্শা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ২৫ শিক্ষকের অভিযোগ

0

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের শার্শা সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন তার অধীনস্তরা। বিদ্যালয়ের ২৫ জন শিক্ষক অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দিয়েছেন। এর আগে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম পরীক্ষা কেন্দ্রের সদস্য সচিব থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার ৩ বছর বহিষ্কার ও ১৫ দিনের কারাদ- দেয়া হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি।
শার্শা সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমকি বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতি বছর এই বিদ্যালয় থেকে জিপিএ -৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা শতকরা ৭০ শতাংশ।
শার্শা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন তোতা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। সরকার জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করলেও প্রত্যেক পরীর্ক্ষার্থীর কাছ থেকে বিভিন্নভাবে রেজিস্ট্রেশন ফি আদায় করেছেন। অন্যদিকে স্কুলের ইট, বালি খোয়া নিজের বাড়ি নির্মাণ কাজে ব্যবহার করে ধরা পড়েছেন। তাছাড়া বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাত,বই ও পরীক্ষার খাতা বিক্রির সুস্পষ্ট অভিযোগ করা হয় শিক্ষাবোর্ডে। তদন্ত কমিটি সাটিফিকেট জাল ও দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।
শার্শা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান জানান, বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক বিগত দিনে পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব থাকাকালে বিলম্বে খাতা দেওয়া ও খাতা বিক্রির অভিযোগ ও ইউএনওর মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়লেও তিনি কীভাবে এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন?
ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান আরও জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন তৎকালীণ শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্র্মকর্তা এটিএম শরিফুল আলম। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ১৯৮৫ সালে এসএসসি ও ৭ বছর পর এইচএসসি পাস করেন। ৫ বছর বিরতির পর যশোর এমএম কলজের নিয়মিত ছাত্র বলে দাবি করেন তদন্ত কমিটির কাছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এটিএম শরিফুল আলম জানান, ২০০৯ সালের দারুল এহসান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় (বারিধারা ক্যাম্পাস) থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স পাস করেন বলে দাবি করেন তিনি। কিন্ত ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশন শুধুমাত্র ধানমন্ডি ক্যাম্পাসকে অনুমোদন দিয়েছিল, বারিধারা ক্যম্পাসকে কোনো অনুমোদন দেয়নি বলে তিনি তদন্তে উল্লেখ করেন। মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক হতে গেলে অবশ্যই তাকে মাস্টার্স পাস হতে হবে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন,‘আমার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। কোনো ঘটনার সাথে আমার সম্পৃক্ততা নেই।’
র্শাশা উপজলো নির্বাহী অফিসার নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে।