আবুল মাল আবদুল মুহিতের জীবনাবসান

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ চিরবিদায় নিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
শুক্রবার রাত ১২টা ৫৬মিনিটে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে মুহিতের মৃত্যু হয়। তার ছোট ভাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এ মোমেনের বরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তায় এ খবর জানায়।
গতবছর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই বর্ষীয়ান সদস্য। বার্ধক্যের নানা সমস্যাও পেয়ে বসেছিল।
শারীরিক দুর্বলতার কারণে সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলে মার্চের প্রথম সপ্তাহে। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ফিরে গিয়েছিলেন নিজের জেলা সিলেটে।
১৬ মার্চ সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দেওয়া সম্মাননা গ্রহণ করে মুহিত বলেছিলেন, “আমি আমার জীবনকে নিয়ে গর্বিত।ৃ অনেকে হয়ত একে আত্মগরিমা বলবেন। কিন্তু এটা অন্যায় নয়। বরং এর জন্য নিজেকে গড়ে তুলতে হয়।”
আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভার দিয়েছিলেন মুহিতের ওপর। সেই দায়িত্ব তিনি পালন করে গেছেন টানা দশটি বছর।
সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে দেশের অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত রচনায় আবুল মাল আবদুল মুহিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অগ্রযাত্রায় আবুল মাল আব্দুল মুহিতের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্রয়াত আবুল মাল আবদুল মুহিতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মুহিতের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত সফল এ অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ স্বীয় কর্মের মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।”
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের সদস্য মুহিতের ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তান দূতাবাসে চাকরিরত অবস্থায় পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রথম সরকারে যোগ দেওয়ার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত মুহিতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।