শ্রদ্ধায় স্মরণ ভাষা শহীদদের

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ সোমবার যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আমাদের লোকসমাজ সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্য নিয়ে ডেস্ক রিপোর্ট।
যশোর: শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেছেন যশোরবাসী। দিবসটি শুরুর পরপরই যশোর শহরের বকুলতলায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও এম এম কলেজ মাঠে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ভাষা দিবসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। রোববার রাত ১২ টার আগেই যশোর বকুলতলাস্থ নবনির্মিত শহীদ মিনার ও শহরের সরকারি এমএম কলেজ মাঠে অবস্থিত শহীদ মিনারের দিকে মানুষের ঢল নামে। রাতে ফুল ও পুষ্পস্তবক হাতে রাস্তায় বের হন হাজারো মানুষ। অমর একুশের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে তারা হাজির হন শহীদ মিনারে। পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী শ্রেষ্ঠ বাঙালি সন্তানদের শ্রদ্ধা জানান তারা। একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে শুরু করে সোমবার ভোর হতেই শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ভিড়ে ফের মুখর হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গন। দিনভর শ্রদ্ধা জানান নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।
১২ টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে যশোরের জেলা প্রশাসন। এসময় জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদার এমপির নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগ। পরে একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, জেলা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুযাহারুল ইসলাম মন্টুর নেতৃত্বে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলমের নেতৃত্বে যশোর জেলা জাসদ, যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, পৌরসভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি খান পলাশ, প্রেসক্লাব যশোরের পক্ষে সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সম্পাদক এস এম তোহিদুর রহমান, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল ও সম্পাদক এইচ আর তুহিন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের পক্ষে সভাপতি এম আইউব ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান, যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষে সভাপতি শেখ দিনু আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোর্শেদ আলম, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে মুনিরুজ্জামান মুনীর ও নুর ইমাম বাবুল, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফা ফরিদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর নেতৃত্বে জেলা যুবলীগ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ, জেলা যুব মহিলা লীগ, জেলা শ্রমিক লীগ, জেলা যুব শ্রমিক লীগ, যশোর জেলা ছাত্রলীগ, যশোর পৌর ছাত্রলীগ, সদর উপজেলা ছাত্রলীগ, এম এম কলেজ ছাত্রলীগ, জেলা তরুণ লীগ, দৈনিক স্পন্দন পরিবার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, শহর আওয়ামী লীগ, জাগো তারুণ্য, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর যশোর অফিস, জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদ, যশোর গণপূর্ত বিভাগ, যশোর কারাগার, শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ফ্রেন্ডস ক্লাব, জেলা কৃষক লীগ, সিভিল সার্জন যশোর, শিল্পকলা একাডেমি, যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, যশোর ইনস্টিটিউট, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ, জেলা যুবলীগ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, যশোর জেনারেল হাসপাতাল, যশোর মেডিকেল কলেজ, যশোর বিএমএ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, যশোর জিলা স্কুল, যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোর কালেক্টরেট স্কুল, যশোর সরকারি কলেজ, জেলা শিশু একাডেমি, মুক্তিযোদ্ধা পাঠাগার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, যশোর কলেজ, বাদশাহ ফয়সাল ইসলামী ইনস্টিটিউট, সেবা সংঘ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, বাসদ (মার্কসবাদী) যশোর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ আরও অনেক সংগঠন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছাড়াও সরকারি এমএম কলেজ মাঠে অবস্থিত শহীদ মিনারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তার অঙ্গসংগঠনসমূহ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মার্কসবাদী, এমএম কলেজ কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এসময় সেখানে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমসহ বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা জানান, খুলনায় একুশের প্রথম প্রহরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। নগরীর শহীদ হাদিস পাকের্র কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ অর্পণকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খুলনা জেলা ও মহানগর কমান্ড, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন, কেএমপির কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা, রেঞ্জ ডিআইজির দপ্তর, জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার, জেলা পরিষদ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সিটি কর্পোরেশন, খুলনা প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, স্কুল-কলেজ, পেশাজীবী সংগঠন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠন ও এর নেতৃবৃন্দ।এ দিকে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধাসরকারি,স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ভবন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। ভোর হতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।তাছাড়া বাদজোহর কালেক্টরেট জামে মসজিদসহ সকল মসজিদে শহীদদের রূহের মাগফিরাত ও দেশের কল্যাণ, শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে অনুরূপ বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
স্টাফ রিপোর্টার অভয়নগর (যশোর) জানান, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নওয়াপাড়া শংকরপাশা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাজারো মানুষের ঢল নামে। এ সময় বাজানো হয় অমর একুশের কালজয়ী গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’। রাত ১২ টা ১ মিনিটে ভাষা শহীদদের প্রতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথম শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, নওয়াপাড়া পৌরসভা, উপজেলা আওয়ামীলীগসহ অঙ্গ সংগঠন, থানা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন, উপজেলা সমন্বয় পরিষদ, উপজেলা কলেজ ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাব, দৈন্কি নওয়াপাড়া, রোটারী ক্লাব অব নওয়াপাড়া, নওয়াপাড়া ইনস্টিটিউট, উদীচীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। অপরদিকে অভয়নগরে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মাদ পাঠাগারের উদ্যোগে আলোচনা সভা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় পাঠাগারের সভাপতি মো. ঈব্রাহিম খলিলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকের পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবে সভাপতি নজরুল ইসলাম মল্লিক। উপস্থিত ছিলেন পাঠাগারের উপদেষ্টা আব্দুল মজিদ সরদার, সহসভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জালালউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনু মিয়া,প্রমুখ।
স্টাফ রিপোর্টার জানান, যথাযোগ্য মর্যাদায় বাঘারপাড়ায় শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাঘারপাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেয় উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পৌরসভা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। বেলা ১১ টায় বাঘারপাড়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা জানান, চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। রাত ১২টা ১ মিনিটে ভাষা শহীদদের প্রতি প্রথম শ্রদ্ধা জানান চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান। এরপর পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবু হাসানসহ চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিট, আওয়ামী লীগ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা, জাতীয়তাবাদী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ক্লাব সভাপতি সরদার আল-আমিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্লাবের সদস্যরা অংশ নেন।
খাজুরা (যশোর) সংবাদদাতা জানান, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা সরকারি শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেন মহাবিদ্যালয়। একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২ টা ১ মিনিটে কলেজ চত্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষে পাঁচ ও ব্যক্তি পর্যায়ে দু’জন করে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া সকাল আটটায় মির্জাপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজের শহীদ মিনারে অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম নেতৃত্বে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কলেজ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারীরা অংশ নেন। এদিকে, সদর উপজেলার হাশিমপুর ও আয়েশা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। অপরদিকে খাজুরা, চন্ডিপুর, বন্দবিলা, জহুরপুর, লেবুতলা ও ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রদ্ধাঞ্জলি অপর্ণ এবং রহেলাপুর দাখিল মাদরাসায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
স্টাফ রিপোর্টার, কেশবপুর(যশোর) জানান, কেশবপুরে মহান শহীদ ও আর্ন্তজাতিক মার্তৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। দিনে আগে কালো ব্যাজ ধারণ, আলোচসাভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। কেশবপুর চারুপীঠ আর্ট স্কুল ও ডাক্তার হাসনাত ফাউন্ডেশন উদ্যোগে সোমবার বিকেলে শহরের আল আমিন মডেল একাডেমির হলরুমে চিত্রাঙ্কনের বিজয়ীদেরকে পুরস্কৃত করে।
ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, খুলনার ডুমুরিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস পালিত হযেছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। প্রভাত ফেরিতে ডুমুরিয়া মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সহ সহযোগী সংগঠন, বিএনপি ও অংগসংগঠন, জাতীয় পাটি, মাওলানা আহমদ আলী সংসদ, পল্লী বিদুৎ সমিতি, সাংস্কৃতি সংসদ, আলাপ নিকেতন, বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পাটি, শহীদ স্মৃতি মহিলা কলেজ, ডুমুরিয়া মহাবিদ্যালয়, গণশিল্পি সংস্থা, সরকারি বালিকা বিদ্যালয, নিরাপদ সড়ক চাই, ইজিবাইক মালিক সমিতি, ডুমুরিয়া প্রেস ক্লাব, গুটুদিয়া ব্লাড ডোনার্স ক্লাব, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স। অনুরূপভাবে উপজেলার চুকনগরেও যথাযথভাবে পালিত হয়েছে দিবসটি। এখানে সর্ব প্রথম চুকনগর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে চুকনগর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রীয শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এরপর চুকনগর ডিগ্রি কলেজ, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, আটলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, সাগরদ্বীপ দুবলার চরে প্রথমবারের মতো পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দুবলার আলোরকোল জেলেপল্লীর পাঁচ সহস্্রাধিক মৎস্যজীবী একযোগে সমবেত হয়ে নানা আনুষ্ঠানিকতায় স্মরণ করেন ভাষা শহীদদের। এ উদ্দেশ্যে সেখানে এবছরই নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার । দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দীন আহম্মেদ জানান, মৎস্য আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে সম্পৃক্ত হাজার হাজার মানুষ প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে এই সাগরদ্বীপে অবস্থান করেন । দেশপ্রেমিক জেলেদের মাঝে এই দিবসটির প্রতি অনেক আবেগ থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে ভাষা শহীদদের স্মরণ করতে পারেন না । সে বিষয়টি মাথায় রেখে এ বছর দুবলার চরে বনবিভাগের সহায়তায় নির্মাণ করা হয়েছে শহীদ মিনার। এরপর প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাষা শহীদদের স্মরণে এখানে পালন করা হবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
ফুলতলা (খুলনা) অফিস জানায়, ফুলতলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সাথে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে উপজেলা পরিষদ ও আসাদ রফি গ্রন্থাগারের শহীদ মিনারে রাত ১২টা ১মিনিটে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। এ সময় ইউএনও সাদিয়া আফরিনের নেতৃতে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদের পক্ষে আলহাজ শেখ আকরাম হোসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষে কাজী জাফর উদ্দিন ও কাজী আশরাফ হোসেন আশু, ফুলতলা থানা পুলিশের নেতৃত্বে ওসি মো. ইলিয়াস তালুকর্দা উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষে কাজী আশরাফ হোসেন আশু, মৃনাল হাজরা ও আবু তাহের রিপন, উপজেলা বিএনপির পক্ষে মনির হাসান টিটো, ওয়াহিদুজ্জামান নান্না, শহীদ আসাদ রফি গ্রন্থাগারের পক্ষে আরিফুজ্জামান বাবলু, বণিক কল্যাণ সোসাইটির পক্ষে রবীন বসু ও মনির হাসান টিটো, ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষে প্রভাষক গৌতম কুন্ডু (মার্কসবাদী) গাজী নওশের আলী, জাতীয় পার্টির পক্ষে সাইদ আলম মোড়ল, প্রেসক্লাব ফুলতলার পক্ষে তাপস কুমার বিশ্বাস, মো. নেছার উদ্দিন, উপজেলা প্রেসক্লাবের পক্ষে শামসুল আলম খোকন ও মাজহারুল ইসলাম,মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সনজিত বসু, ওয়াহিদ মুরাদ পিন্টু পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। একইভাবে ২১ ফেব্র“য়ারি সকালেও বিভিন্ন দল, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করা হয়। অনেক সংগঠন দিবসটি উপলক্ষো আলোচনা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে।
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান রনি’র নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ভাষা শহীদদের স্মরণে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২ টা ১ মিনিটে মহেশপুর উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী পায়ে হেঁটে মহেশপুর হাইস্কুল মাঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় মহেশপুর উপজেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি মেহেদী হাসান রনি, সাধারণ সম্পাদক দবীর উদ্দিন বিশ্বাস, মহেশপুর পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. আমিরুল ইসলাম খান চুন্নু, পৌর সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ খান, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া, সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল ফারুক বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক নুরুল ইসলাম এরশাদ, সদস্য সচিব সুরুজজামান সুরুজ, ছাত্রদলের আহবায়ক কামরুল হাসান রতন, সদস্য সচিব আব্দুল মালেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শালিখা (মাগুরা) সংবাদদাতা জানান, মাগুরার শালিখায়া যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা। এ উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সোমবার রাত ১২ টা ১ মিনিটে উপজেলা সদর আড়পাড়া সরকারি আইডিয়াল হাইস্কুল মাঠে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সংসদ সদস্য ড. বীরেন শিকদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিফ-উল হাসান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) তিথি মিত্র, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন, থানা পুলিশের ওসি বিশারুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাড. শ্যামল কুমার দে, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন শিকদার, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আনিচুর রহমান মিল্টন, সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান চকলেট, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাস্টার আবু বক্কর প্রমুখ।
বাগেরহাট সংবাদদাতা জানান, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন হাজারো মানুষ। সোমবার ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবক হাতে নানা শ্রেণিপেশার কয়েক হাজার মানুষ আসেন শহীদ মিনারে। রাত ১২টা বাজার সাথে সাথে বাগেরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর পরেই শহীদ মিনারের বেদিতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগ, বাগেরহাট জেলা পরিষদ, বাগেরহাট পৌরসভা, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, সরকারি পিসি কলেজ, বাগেরহাট মেরিন ইনস্টিটিউট, গণপূর্ত বিভাগ, সড়ক বিভাগ, এলজিএইডি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাগেরহাট প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোহাম্মাদ রিজাউল করিম, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ভুইয়া হেমায়েত উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নকিব নজিবুল হক নজু, মীর ফজলে সাইদ ডাবলু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোছাব্বেরুল ইসলাম প্রমুখ শ্রদ্ধা জানান।