আলোচিত পুটখালী সীমান্তে ২০ পিস স্বর্ণের বারসহ ২ পাচারকারী আটক

0

সুন্দর সাহা॥ যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে ২০ পিস স্বর্ণের বারসহ জসিম সিন্ডিকেটের ২ পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) সকালে শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী সীমান্ত থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃরা হলো, বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে লিটন হোসেন (২৫) ও একই এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে হাফিজুর রহমান (২৮)।
বিজিবি জানায়, স্বর্ণ পাচারের গোপন খবরে, বেনাপোল বালুন্ডা কেষ্টপুর গ্রামস্থ পাকারাস্তার উপর থেকে বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ২০ পিস স্বর্ণের বার (ওজন ৩.৮৯১ কেজি), ১টি মোটর সাইকেল, ৩টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৬,৩৯০ টাকাসহ তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃত স্বর্ণের বার এবং অন্যান্য মালামালের আনুমানিক সিজার বাজার মূল্য- দুই কোটি উনপঞ্চাশ লক্ষ একান্ন হাজার নব্বই টাকা) বলে জানায় বিজিবি। ২১খুলনা ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক মোহাম্মদ মনজুর-ই-এলাহী, আটককৃত স্বর্ণ পাচারকারীদের স্বর্ণের বার এবং অন্যান্য মালামাল সহ বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ্য করা হয়েছে। ট্রেজারিতে সোনা জমা করার কার্যক্রমের জন্য এ বিষয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে।
সীমান্তের সূত্রগুলো জানায়, আটককৃত প্রভাবশালী জসিম সিন্ডেকেটের। জসিম হচ্ছে আন্তর্জাতিক সোনা চোরাচালানী চক্রের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান হোতার ভাই। প্রভাবশালী এই সিন্ডেকেটের ৫ গাড়ি অর্থাৎ ৫০ পিস সোনা জসীমের কাছে দেয়া হলেও প্রধান হোতার পরামর্শে তিন গাড়ি অর্থাৎ ৩০ পিস সোনা নিয়ে জসিম নিয়ে সটকে পড়ে। বিজিবির হাতে আটক হয় দুই গাড়ি অর্থাৎ ২০ পিস সোনাসহ তার দুই সাগরেদ। সূত্র আরও জানায়, পুটখালী চোরাই সীমান্ত ঘাটের আলোচিত তিন ডনের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন মণ মণ সোনা পাচার হয়ে চলে যাচ্ছে ভারতের অপু, বস্ গৌতম, ছোট গৌতম, পিন্টু, বরুণ এবং ডাকুসহ সহ অন্তত ১০জনের ডেরায়। সূত্র বলছে, এছাড়া আরও অন্তত সাতটি সোনার চালান আজ ভারতে পাচার হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনই এই চক্রের বিপুল পরিমাণ সোনা পাচার করা হলেও বাগআঁচড়া সোনা চোরাচালানীচক্রের হোতার বাড়ি থেকে বেশি সোনা পাচার করা হচ্ছে। পাচারের আগে অধিকাংশ সোনা ওই বাড়িতে তোলা হয়। বিজিবি ছাড়া প্রায় সব ঘাট ম্যানেজ করেই চলে সোনা পাচারের এই ব্যবসা। এসব সোনা পাচারের জন্য এই বাড়িতে রয়েছে মাফিয়া ডনের এক স্ত্রী। তার কাছ থেকেই সব সোনা পুটখালী সীমান্তে নেয়া হয়। তাপর ”ত্রিরত্ন-সিন্ডিকেট”র মাধ্যমে ভারতে পাচার করা হয়। এরা ভারতে সোনা পাচার করে আর ভারত থেকে ফেনসিডিল ও অস্ত্র পাচার করে এনে দেশময় ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ বিষয়ে জানার জন্য বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি কামাল হোসেন ভূঁইয়ার সােথ যোগােযাগ করা হলে তিনি লোকসমাজকে জানান, “বিজিবি সোনাসহ আসামীদের থানায় সোপর্দ্য করেছে। এদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার এদের রিমান্ডের আবেদনসহ কোর্টে সোপর্দ্য করা হবে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”