২১ বছর পর কাল পৌরসভা নির্বাচন ঝিকরগাছায়

0

ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ রাত পোহালেই দীর্ঘ ২১ বছর পর ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও ১১ কাউন্সিলর প্রার্থী ছাড়া অন্য সকল প্রার্থী উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। শুক্রবার প্রচারণার শেষ দিন বিরামহীন ছুটে চলেছেন ৬ মেয়র প্রার্থী, ৬১ কাউন্সিলর প্রার্থী ও ১৮ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা। তবে স্বতন্ত্র একজন মেয়র ও ১১ কাউন্সিলর প্রার্থী কিছুটা কৌশলে তাদের প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন।
এদিকে আগামীকাল ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটাররাও চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। শুক্রবার বিকেলে পৌর সদরের ২,৩,৪,৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে ঘুরে কয়েকজন ভোটারের কাছে জানতে চাইলে এবারকার ভোটে বেশিরভাগ ভোটারই নতুন জনপ্রতিনিধির প্রত্যাশা করছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে দাবি করেছেন, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ইমরান হাসান নিপুন (কম্পিউটার প্রতীক) ও একেএম আমানুল কাদির টুলু (খেজুরগাছ প্রতীক)। বিশৃঙ্খলা করার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাচন অফিসার অপূর্ব কুমার বিশ^াস জানিয়েছেন, ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচন শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ৯টি ওয়ার্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জন্য ৯জন ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশসহ পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। ঝিকরগাছা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের জন্য ৯টি কেন্দ্রে ৯ জন ইন্সপেক্টরসহ ৪ শতাধিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। উল্লেখ্য, ঝিকরগাছা উপজেলা শহরকে ১৯৯৮ সালের ৪ এপ্রিল ৩য় শ্রেণির পৌরসভা হিসাবে ঘোষণা হয়। তার প্রায় ৩ বছর পর ২০০১ সালের ৪ এপ্রিল পৌরসভার ১ম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বর্তমানে ২১ বছর পার হলেও ২য় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়া পৌরসভার আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এদিকে দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় এবারকার নির্বাচনে বর্তমান মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামালের (নৌকা প্রতীকের) বিরুদ্ধে আরও ৫জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ইমরান হাসান নিপুন (কম্পিউটার প্রতীক), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক এ.কে.এম আমানুল কাদির টুল্লু (নারকেল গাছ প্রতীক), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ছেলিমুল হক সালাম (জগ প্রতীক), আব্দুল্লাহ আল সাঈদ (রেল ইঞ্জিন প্রতীক) ও ইমতিয়াজ আহমেদ শিপন (মোবাইল ফোন প্রতীক)। এছাড়া অপর বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যেমে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও ব্যালটে তার (চামচ প্রতীক) থাকবে বলে জানা গেছে।