মানবতাবিরোধী অপরাধ: ৪ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রস্তুত

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত হত্যা, লুণ্ঠন-নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে লালমনিরহাটের পলাতক চারজনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। চলতি সপ্তাহেই প্রতিবেদনটি মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচারকাজে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে দাখিল করা হবে। চার আসামি হলেন- মো. এনামুল হক ওরফে মৌলভী বাহেজ উদ্দিন, মোহাম্মদ জালালউদ্দিন, নুরুল হক ও আজাহার আলী। আসামিরা সবাই জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক। তাদের বিরুদ্ধে মোট চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমণ্ডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক এম. সানাউল হক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ১৯৭১ সালে চারটি ঘটনায় মোট ১২ জন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নিরীহ নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে হত্যা, আটক-নির্যাতন ও ৩০টি বাড়িঘরে লুণ্ঠনসহ অগ্নিসংযোগে ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে এই চারজনের বিরুদ্ধে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি এই চারজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়ে শেষ হয় ২৮ ডিসেম্বর। মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। ১০৪ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে তিন খণ্ডে। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার এটি ৮১তম প্রতিবেদন। সংবাদ সম্মেলনে এম. সানাউল হক ছাড়াও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মো. ফারুক হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিতি ছিলেন। এসময় এম. সানাউল হক বলেন, পলাতক চার আসামি মুক্তিযুদ্ধের সময় ও বর্তমানেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক। তারা সবাই হাতীবান্ধা উপজেলার বাসিন্দা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ চার আসামির বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় নিরীহ ১২ জনকে হত্যা, আটক, নির্যাতন ও কমপক্ষে ৩০টি বাড়িঘর লুণ্ঠনসহ অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাত্তরের ১৫ আগস্ট আসামিরা হাতীবান্ধা থানার ২নং গড্ডীমারী গ্রামের আব্দুল মতিন শেখ, মইজউদ্দিন, তইজউদ্দিন ও রহিজউদ্দিন, আলাউদ্দিন, নুরী বেওয়া ওরফে নুরজাহান, মফিজউদ্দিন, মধু মুন্সী, পরান আলী, কোরান আলী, হামজেলাসহ কয়েকজনকে হত্যার উদ্দেশ্য সানিয়াজান নদীর তীরে নিয়ে যায়। সেখানে আসামিদের নির্দেশে পাক সেনারা তাদের গুলি করে হত্যা করে। আসামিরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নিরীহ জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করতে হাতীবান্ধা থানার বিভিন্ন গ্রামে হামলা, নির্যাতন, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ চালায়।