বিশাল সমাবেশের পর যশোরে বিএনপির বিরুদ্ধে পুলিশের লাগাতার অভিযান

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ গত ২২ এপ্রিল যশোরে বিএনপির বিশাল সমাবেশের পর ওই দিন রাত থেকেই দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। নেতৃবৃন্দের অভিযোগ ওই দিন সকাল থেকে পথে পথে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে সমাবেশে বাধা দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে পুলিশ তাদের ধরপাকড় শুরু করেছে। এবং একটি মিথ্যা অভিযোগের মামলায় আটক দেখানো হচ্ছে। ২২ ডিসেম্বর যশোর টাউন হল মাঠে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলের চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে এই গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশটি এক পর্যায়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বাধা মোকাবেলা করে।
এদিকে যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড.সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু গতকাল এক বিবৃতিতে পুলিশের লাগাতার ধরপাকড়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সাথে মিথ্যা-কাল্পনিক মামলা সৃষ্টি ও নিরপরাধী নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার বন্ধ এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দাবি করা হয়েছে। ২২ ডিসেম্বর বুধবার গভীর রাত থেকে পুলিশ অভিযানে নামে। এদিন রাতে যশোর শহর এবং সদর উপজেলার বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালায়। ওই রাতে ১০ জনকে গ্রেফতারের পর তাদেরকে একটি পুরনো (পেন্ডিং) মামলায় আদালতে সোপর্দ করে। পরদিন বৃহস্পতিবার রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২০ জনকে আটক করে। এবং ৪২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে।
শুক্রবার রাতে বাঘারপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আব্দুল হাই মনাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আরো ২০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এই নিয়ে মোট ৩৭জনকে আটক করলো পুলিশ। এর আগে গত শুক্রবার দিনে ১৭জনকে আটক করা হয়েছিলো। শুক্রবার আটক অন্যরা হলেন, সদর উপজেলার বানিয়ালি গ্রামের আব্দুর রশিদ, যশোর উপশহর ১ নম্বর সেক্টরের বিল্লাল হোসেন, সদরের জগহাটি গ্রামের মল্লিকপাড়ার আব্দুল মান্নান, এনায়েতপুর গ্রামের স্বপন, ফুলবাড়ি গ্রামের জয়নাল আবেদীন, গাইদগাছি গ্রামের মশিয়ার রহমান, সদুল্যাপুর গ্রামের রুহুল আমিন, শ্রীপদ্দী গ্রামের সরদারপাড়ার রুহুল আমিন লাল্টু, ভাতুড়িয়া গ্রামের আসানুর রহমান, চাঁচড়া মজিদপাড়ার মঈন আলী, চাঁচড়া শিব মন্দির এলাকার সোহাগ হোসেন, ম-লগাতি গ্রামের মিরাজ, বাঘারপাড়ার হাবুল্লা গ্রামের মোক্তাদির হোসেন টগর, বেনাপোল পোর্ট থানার গাতিপাড়ার জুলফিকার আলী জুলু, কাগজপুকুরের সোহরাব হোসেন, বাগআঁচড়া সাতমাইল মাঠপাড়ার হারুন মোল্লা, বাগআঁচড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের আমিনুর রহমান মনির, গোড়পাড়ার হারুন খা ও সদর উপজেলার হাশিমপুর বাজারের কামরুল ইসলাম বিশ্বাস।
আটকদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করেছে। পুলিশের ওই মামলায় বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে গত ২৪ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে শহরের লালদিঘির পূর্বপাড়ে শ্রী হরিসভা মন্দিরের সামনে বিএনপির কিছু লোক অর্ন্তঘাত ও ধংসাত্মক মূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে উচ্ছেদ ও রাষ্ট্র যন্ত্রকে দূর্বল করার চেষ্টায় জড়ো হয়েছে। এই সংবাদ পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে দেখতে পায় আসামিরা সরকার ও রাষ্ট্র বিরোধী শ্লোগান দিচ্ছে। এসময় সেখান থেকে ১৭জনকে আটক করা হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়। আটককৃতদের কাছ থেকে ৬টি ককটেল ও তিনটি ব্যাগে রাখা ছোট সাইজের ৪৯টি পাথর উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা ওইদিন পুলিশের কাছে পলাতক আসামিদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করে।
ওই মামলায় যশোরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ২০জনকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজন ওই মামলার এজাহারনামীয় এবং অন্যরা সন্দিগ্ধ।
শার্শা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুজ্জামান মধু বলেছেন , গত ২২ ডিসেম্বর যশোরে বিএনপির সমাবেশে যাওয়ায় বিভিন্ন নেতাকর্মীর নামের তালিকা করে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। যে কারণে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের শতাধিক নেতাকর্মী বাড়ি ছাড়া হয়েছে। তিনি আটককৃতদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।
বাঘারপাড়া যুবদলের আহবায়ক এখলাছ হোসেন বলেন, যশোর টাউন হল ময়দানের স্মরণকালের বৃহত্তম গণসমাবেশের পর থেকে পুলিশ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে পুলিশের লাগাতার অভিযানে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, গত ২২ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী বিএনপির চেয়ারপার্সন তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে যশোর টাউন হল ময়দানে যে জনসমুদ্র সৃষ্টি হয়েছিল ত ব্যর্থ করতে প্রশাসন সকল পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ করে কার্যত স্ব-ঘোষিত হরতাল করেছিল। আর এই প্রতিকুল অবস্থা মোকাবেলা করে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছে। জনতার এই উচ্ছ্বাস ও সরব উপস্থিতি যশোরের রাজনীতিতে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে। সাবু বলেন, জনগণের বাঁধভাঙ্গা উপস্থিতি দেখে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ বিএনপি নেতা কর্মীদের নামে কাল্পনিক ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ইতিমধ্যে যশোর সদর, শার্শা, কেশবপুর, বাঘারপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা দায়ের অব্যাহত রেখেছে। গত ২৩, ২৪, ২৫ ডিসেম্বর সর্বমোট ৪৭ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। সাবু বলেন, আমরা যশোর জেলা বিএনপি সহনশীল রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা আশা করি, বিনাকারণে কোন ঘটনা ছাড়াই মিথ্যা কাল্পনিক মামলা সৃষ্টি ও নিরপরাধী নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার বন্ধ করা হবে। এবং গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি করছি।