ব্যাংকের কাছে সরকারি ১৮ প্রতিষ্ঠানের দেনা বেড়েই চলেছে

কেএমএ হাসনাত॥ সরকারি ১৮টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নেওয়া পাওনা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩৩ ৪৫১ কোটি টাকা। অনেক প্রতিষ্ঠান আবার ঋণ নিয়ে তা সঠিক সময়ে পরিশোধ করেনি। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমানই প্রায় ৬৯ কোটি টাকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারি শেষে এ ধরনের ১৮টি সরকারি সংস্থার কাছে ব্যাংকগুলোর বকেয়া পাওনার স্থিতি ছিল ৩৩ হাজার ৪৫১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের কিছু ঋণ আবার খেলাপি হয়ে পড়েছে। এর পরিমাণ ৬৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঞ্জিভূত ব্যাংক ঋণ ও খেলাপি ঋণ কমেছে। গত ২০২০ সালের জানুয়ারি শেষে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের পুঞ্জিভূত ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৯ হাজার ৩৪২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং ৯টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে ১৩ মাসের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঞ্জিভূত ঋণ কমেছে ৫ হাজার ৮৯১ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং খেলাপি ঋণ কমেছে ১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ বছর দেনার শীর্ষে রয়েছে ‘বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন’ (বিএসএফআইসি)। প্রতিষ্ঠানটির পুঞ্জিভূত ব্যাংক ঋণ বাড়ছেই। গত ২০২০ সালের জানুয়ারি শেষে সংস্থাটির ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৪৯১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি শেষে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৮১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ‘বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড’ (বিপিডিবি)-এর দেনার পরিমাণ কমেছে। গত বছর বিপিডিবি’র ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৬৯১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এক বছরে এটি কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। বর্তমানে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হলেও দেনার দায়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন’ (বিপিসি)। তবে গত এক বছরে সংস্থাটির পুঞ্জিভূত ব্যাংক ঋণ কমেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি শেষে বিপিসি’র ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৩৪৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি শেষে এটি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৮৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
পরিসংখ্যানে অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে ‘বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন’ (বিসিআইসি)-এর দেনার পরিমাণ ৩ হাজার ৫১৫ কোটি ৭ লাখ টাকা। যা গত বছর ছিল ৪ হাজার ১০৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। বিএডিসি’র দেনার পরিমাণ ৩ হাজার ৪০২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। যা গত বছর ছিল ৩ হাজার ১৩৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ‘বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন’ (বিজেএমসি)-এর দেনার পরিমাণ ৯৭১ কোটি ২৩ লাখ টাকা যা গত বছর ছিল ৯৩৫ কোটি ৭ লাখ টাকা। ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড’ (আরইবি)-এর ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ৯৭০ কোটি টাকা,গত বছর ছিল ১ হাজার ১৪৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ‘বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড’ (বিডব্লিউডিবি)-এর দেনার পরিমাণ ৫৬৭ কোটি ৩ লাখ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬৯৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ‘পেট্রোবাংলা’র ব্যাংক ঋণের পরিমান ৩৩৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা, গত বছর ছিল ২ হাজার ২০৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ’ (টিসিবি)-এর দেনার পরিমাণ ২৬৭ কোটি ২ লাখ টাকা যা গত বছর ছিল ৫৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ‘বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থা’ (বিএসইসি)-এর দেনার পরিমাণ ১১৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যা গত বছর ছিল ১ হাজার ৪১১ কোটি ৭ লাখ টাকা।
এছাড়া ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন’ (বিআরটিসি)- এর দেনার পরিমাণ ৯৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, গত বছরের একই ছিল। ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ’ (সিপিএ)-এর দেনার পরিমাণ ৯৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা, সংস্থাটির গত বছর দেনা ছিল ১১৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ‘বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন’ (বিটিএমসি)-এর দেনার পরিমাণ ২৫ কোটি ২ লাখ টাকা, যা গত বছর ছিল ২০ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ‘বাংলাদেশ টি বোর্ড’ (বিটিবি)-এর দেনার পরিমাণ ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকা, গত বছর ছিল ১০৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং ‘বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন’ (বিএসসি)-এর দেনার পরিমাণ ২ কোটি ১ লাখ টাকা। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গত ফেব্রুয়ারি মাসে পরিসংখ্যান আমাদের কাছে পাঠিয়েছে। তার ওপর ভিত্তি করেই এই প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। তবে জুুন শেষে দেখা যাবে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠানানের কাছে ব্যাংকের পাওনা আরও বেড়েছে।

ভাগ