ধনীদের ‘ঘোড়া রোগ’

জসিম উদ্দিন
বাগধারাটি ‘গরিবের ঘোড়া রোগ’। একজন দরিদ্র মানুষ সামর্থ্য রাখেন না, এমন কিছু পাওয়ার আকাক্সক্ষাকে এভাবে প্রকাশ করা হয়। এ কথার মধ্যে একটি তাচ্ছিল্য রয়েছে। ‘গরিবতা’কে এখানে হেয় করা হয়েছে। মানুষ হিসেবে তার সাধ আহ্লাদকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। মূল কথা হচ্ছে, যা পাওয়ার তোমার যোগ্যতা নেই; তা তুমি চাইবে কেন? যদিও অনেক মনীষী নির্ধন হওয়াকে ‘মহান’ বলেছেন। ভাষা যখন এভাবে অভাবী বঞ্চিত মানুষকে আঘাত করছে তখন ধনীদের অবস্থাটা কী? সমাজের ধনীদের দিকে আমরা তাকাতে পারি। তারা তাদের ধনসম্পদকে কী কাজে লাগাচ্ছে? তারা কি এসব দিয়ে মহান কিছু অর্জন করে ফেলছে? এ নিয়ে গবেষণা হতে পারে। তবে মোটা দাগে আমরা দেখি, ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানবতার বৃহত্তর কল্যাণে কোনো কাজে আসে না; সামান্য কিছু ব্যতিক্রম আমরা পাবো। করোনা মহামারীর এ দুর্যোগের সময় বিশ্বব্যাপী গরিবদের নির্মম ভোগান্তি দেখা গেছে। উদ্বৃত্ত সম্পদের মালিকেরা উদারতা দেখালে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। এখন চলছে টিকাবৈষম্য। ধনী দেশগুলো তাদের দেশে করোনার টিকা দেয়া শেষ করেছে। ব্যবসায় ও অর্থসংক্রান্ত প্রকাশনা ব্লুমবার্গের ৩ অক্টোবরের সারণিতে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ৬১ শতাংশের বেশি নাগরিককে দুই ডোজ টিকা দিয়েছে। যুক্তরাজ্য ৭০ শতাংশ, ফ্রান্স ৭৩ শতাংশ ও জার্মানি ৬৫ শতাংশ নাগরিককে টিকা দেয়া সম্পন্ন করেছে। সংক্রামক ব্যাধি করোনার পূর্ণ নিরোধক হওয়ার জন্য জনসংখ্যার যে অংশকে টিকার আওতায় আনা আবশ্যক তারা সেটি পূর্ণ করেছে। তারা এখন পরিকল্পনা করছে বুস্টার ডোজ দেয়ার জন্য; অর্থাৎ তারা করোনা আক্রান্ত হওয়ার সব আশঙ্কা থেকে মুক্ত হয়ে যেতে চায়। মডার্না, ফাইজার ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার পশ্চিমা ভার্সনে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা গড়ে ৯০ শতাংশের বেশি। তার পরও তারা বাড়তি সাবধানতার জন্য অতিরিক্ত তৃতীয় ডোজের ব্যবস্থা করছে। এ দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গরিব ৯২টি দেশের ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি মানুষকে দ্রুত টিকার আওতায় আনার আবেদন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছে। তাদের আওয়াজে এ পর্যন্ত কার্যকর সায় দিচ্ছে না উন্নত-সমৃদ্ধ এসব দেশ।
আফ্রিকান ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নেতারা বিশ্বের কাছে তাদের জনগণকে টিকাদানে সাহায্য আহ্বান করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসের বাড়ি আফ্রিকায়। তিনি জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদকে ঘিরে বিশ্ব সম্মেলনের সময় পুনঃপুন এ দাবি জানিয়ে আসছেন। বøুমবার্গের সারণিতে দেখা যাচ্ছে, আফ্রিকার জাম্বিয়ার ২ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছে। তানজানিয়ায় পেয়েছে দশমিক ৩ শতাংশ এবং কঙ্গোতে পেয়েছে মাত্র দশমিক ১ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে এক হাজার মানুষের ৭০০ জনকে টিকা দেয়া হলেও কঙ্গোতে হাজারে মাত্র একজন মানুষ এ টিকা পেয়েছে। জুন মাসে ধনী দেশগুলো ১০০ কোটি ডোজ টিকা দরিদ্র দেশগুলোকে দান করার ঘোষণা দেয়। সেই ঘোষণা অনুযায়ী তারা টিকা সরবরাহ করেনি। তবে এরই মধ্যে তারা নিজেদের জন্য টিকার বিশাল মজুদ গড়ে তুলেছে। তার সংখ্যাও এক শ’ কোটি ডোজের বেশি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এসব টিকা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে পরিত্যক্ত হবে। হিসাব মতে, গরিব দেশগুলোর জন্য ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি ডোজ টিকার প্রয়োজন। মাত্র একটি ধনী দেশই গরিবদের জন্য এ টিকা দান করে দিতে পারে। অন্তত যেসব দেশ উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র বানায় তাদের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র, জঙ্গিবিমান না বানিয়ে সেটি দিয়ে এই টিকা ক্রয় করে দেয়া যায়। এক ডোজ টিকার মূল্য সর্বোচ্চ ৩৭ থেকে সর্বনিম্ন ২ ডলার। গড়ে ১০ ডলারে ৫০০ কোটি ডোজ টিকার দাম মাত্র পাঁচ হাজার কোটি ডলার। গরিব জনগণকে নিরাপদ করতে এ অর্থ দান করা জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর একাই একটি দেশের পক্ষে সম্ভব। উপর্যুপরি অনুরোধ করার পর শেষ পর্যন্ত জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলন সামনে রেখে মোট মিলে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ কোটি ডোজ টিকা দানের ঘোষণা দিয়েছে।
ধনীরা করছে কী?
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্ট অব ওয়্যার’ প্রকল্প বিগত দুই দশকে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, তারা এ জন্য আট ট্রিলিয়ন ডলার অর্থ খরচ করেছে। অন্য আরো বেশ কিছু পেশাদার সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এ যুদ্ধের খরচ নিরূপণ করেছে। তাতে দেখা গেছে, আরো নানাবিধ খরচ ও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ক্ষতি এর চেয়ে বহুগুণ বেশি। এ যুদ্ধের মাশুল হিসেবে ভবিষ্যতে বহু দিন এ জন্য তাদের খরচ করে যেতে হবে। এর মধ্যে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে সামরিক অভিযান চালাতে তাদের ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ব্যয় করতে হয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ায় খরচ করতে হয়েছে ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন। সন্ত্রাস নির্মূল করার নামে তারা নিজেরাই সারা বিশ্বে ১০ লাখ মানুষ হত্যা করেছে। জোরপূর্বক তিন কোটি ৭০ লাখ মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়া করেছে। অন্য হিসাবে, সব মিলিয়ে ছয় কোটি মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ আনা হয়েছে তারা মানবতার কী ক্ষতি করেছে তার হিসাব কোথাও নেই বা বলতে হয় সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ যে ক্ষতি করেছে সে তুলনায় মানবতার কোনো ক্ষতিই কথিত সন্ত্রাসীরা করেনি। অর্থকড়ি, মানুষের প্রাণ ও ঘরবাড়ির ক্ষতির বস্তুগত হিসাব করা যায়। তবে ভয়ভীতি শঙ্কা নিকটাত্মীয় হারানোর দুঃখ এগুলো কোনো সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা যায় না। যুদ্ধের ভয়ঙ্কর থাবার মধ্যে পড়ে যাওয়া মানুষদের বেঁচে থাকাটা আরো কঠিন হয়ে ওঠে। উদ্বাস্তু মানুষদের দুর্দশা আর লাঞ্ছনা আরো বড় অভিঘাত তৈরি করে। বিগত দুই দশকজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের জেরে বিপুলসংখ্যক মানুষ হতাশ মানবেতর জীবনযাপন করছে। ডিঙ্গি নৌকায় ভ‚মধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার দৃশ্য নিত্য ঘটে চলেছে। সমুদ্রের বালুচর সাক্ষী হয়ে রয়েছে বহু মানুষের লাশের। এরপর ইউরোপে গিয়ে তারা পড়ছে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে। বর্ণবাদী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ওপর করছে নানা অত্যাচার-নিপীড়ন। সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের দায়টি বিশেষত ইউরোপসহ ধনী দেশগুলোর ওপর চলে আসে। সামরিক জোট ন্যাটোর অধীনে ইউরোপ নিবিড়ভাবে এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। এতে তাদের সামরিক বাহিনী দেশের জনগণের বাজেটের অর্থ খরচ করেছে। বাকি ধনী দেশগুলোও বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে এর দায় এড়াতে পারে না। তারা অন্যায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নেয়নি। সুবিধাজনক ‘নিরপেক্ষ’ নীতি গ্রহণ যুদ্ধকে কার্যত সমর্থন করেছে। মূল যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া, যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদের অহঙ্কারে এসব ভয়াবহ সীমা লঙ্ঘন করলেও তার একটুও দায় নিতে হয়নি। জীবন হারানো নিজ দেশের সৈনিকদের স্ত্রীদের বিধবা ভাতা প্রদান, পঙ্গু অক্ষম খোঁড়া হয়ে যাওয়া সৈনিকদের বাকি জীবনের ভরণপোষণের দায়িত্ব অবশ্য তাদের পালন করতে হচ্ছে। এ যুদ্ধের এতটুকুই তাদের খেসারত। একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি কিংবা নিরপরাধ মানুষ হত্যার জন্য তাদের এখনো কৈফিয়ত দিতে হচ্ছে না।
আফগানিস্তান ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন দক্ষিণ চীন সাগরে
পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া মিলে নতুন একটি ‘সামরিক ক্লাব’ করেছে। ১৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের এক ঘোষণার মাধ্যমে ‘অকাস’ নামে সেটি আত্মপ্রকাশ করেছে। এ ক্লাবের প্রধান কাজ হচ্ছে, ত্রয়ী মিলে পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরি করবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য। সহযোগী প্রধান দেশটি সবার আগে এ ধরনের সাবমেরিন তৈরি করে। তার পর ১৯৫৮ সালে তাদের প্রাণের বন্ধু যুক্তরাজ্যকে সে প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে। নতুন চুক্তিটি বিশ্বমোড়লদের ক‚টনামি ও ভণ্ডামিকে প্রকাশ করে দিলো। এর পেছনে সামরিক আধিপত্য বিস্তারের বাইরে অর্থনৈতিক লাভালাভে সঙ্কীর্ণ একটি লোভী দৃষ্টিভঙ্গিও কাজ করেছে। ২০১৬ সালে উন্নত সাবমেরিন তৈরি করে দেয়ার জন্য ফ্রান্সের সাথে চুক্তি করে অস্ট্রেলিয়া। বিগত চার বছরে চুক্তি অনুযায়ী কিছু অগ্রগতি হয়েছিল। ২০৩৫ সালে সাবমেরিন হস্তান্তর করার কথা ছিল। এ বাবদ ৯০ বিলিয়ন ডলারের লোভনীয় অফারটি একান্তভাবে ছিল ফ্রান্সের। অকাস হওয়ার আগে হঠাৎ অস্ট্রেলিয়া চুক্তি বাতিল করে ফ্রান্সের সাথে। বিপুল বাণিজ্য হারানোর শোকে ফ্রান্স ক্ষোভে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট একে ‘চরম বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে উল্লেখ করেছেন। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফ্রান্স তার রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে কথা বলছেন ক‚টনীতির ভাষায়, সেটি শিষ্টাচারবহিভর্‚ত। ফ্রান্সের কাঁচা অর্থ লাভের ব্যবসাটি বেনিয়া ব্রিটিশরা তাদের রক্তের বন্ধু আমেরিকানদের সাথে ষড়যন্ত্র করেই একপ্রকার বাগিয়ে নিলো। এ ধরনের একটি সামরিক জোট গঠনে ফ্রান্সকে সাথে না রাখা, অন্য দিকে বাণিজ্যটা কেড়ে নেয়ার কষ্ট ফ্রান্সকে বহুদিন কুরে কুরে খাবে।
পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে বৈশ্বিক চুক্তি কার্যকর রয়েছে। এর আওতায় নতুন করে কোনো দেশ পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারে না। অন্য দিকে এর ভাণ্ডার ও মজুদ বাড়ানোর কাজও বিশ্বে চলছে না। অস্ট্রেলিয়ার জন্য তৈরি এ সাবমেরিনে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পরমাণু জ্বালানি ব্যবহার করা হবে। এতে ব্যবহৃত ইউরোনিয়াম পরমাণু বোমা তৈরির উপযুক্ত। এ চুক্তিটি কি সরাসরি পরমাণু অস্ত্রবিস্তার রোধ চুক্তি লঙ্ঘন করছে না? না, এ কাজ যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্বে হবে বলে ‘ছাড়’ পাওয়া যাবে। বিশ্ব মাতব্বরদের কাজ নিয়ে সম্ভবত কেউ কিছু বলতে পারবে না। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি দেখা দিয়েছে, অস্ট্রেলিয়াকে কেন পরমাণু ক্লাবে টেনে আনা হচ্ছে? মূলত দেশটি চীনের পাশে হলেও অতটা কাছে নয়। দক্ষিণ চীন সাগরের মোটামুটি দূরবর্তী প্রান্তে এর অবস্থান। বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের প্রতিপক্ষরা হলো ভিয়েতনাম, কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন। এসব দেশের সাথে সাগর নিয়ে চীনের বিরোধ। এ বিরোধে সবসময় অংশীদার হতে চাচ্ছে আমেরিকা। তারা তাইওয়ানকে নিয়ে সবসময় চীনের বিরুদ্ধে একটি প্রক্সি ওয়্যার অব্যাহত রেখেছে। বিগত দুই দশকে দেখা গেছে, ভারতকে কাছে টেনে চীনের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করানো হয়েছে। ভারত আঞ্চলিক ইজারা নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু চীনের সাথে মল্লযুদ্ধে যায়নি। এ সুযোগে প্রতিবেশী দেশগুলোতে নানা ধরনের গোলযোগ সৃষ্টি করে নিজেদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সে শক্তি ব্যয় করেছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমেরিকার অনেক বন্ধু ভারতীয় আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। ভারত দ্বারা চীনকে কোনো ধরনের মোকাবেলা করানো যায়নি। ভারতকে দিয়ে চীনকে পেছন থেকে আটকে ধরার আমেরিকার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। যেকোনো মূল্যে চীনকে আটকাতে চায় আমেরিকা। আফ্রিকার দরিদ্র মানুষকে করোনা থেকে বাঁচানোর চেয়ে এই ‘খেলা’ তাদের বেশি বিনোদন দেয়। আধিপত্য বিস্তার ও ব্যবসা দুটোকে একসাথে পাওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সাথে তারা জোট বেঁধেছে। এর দ্বারা চীনের বিরুদ্ধে কার্যকর পরোক্ষ যুদ্ধও বেগবান করা যাবে, যা জাপান ও ভারতকে দিয়ে সম্ভব হচ্ছিল না। এমনকি চীনের সাথে বিরোধে জড়ানোতে অনাগ্রহী আসিয়ান সদস্যদের দ্বারাও সম্ভব নয়। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারীরা ব্রিটিশ আমেরিকানদের উত্তরাধিকার বহন করে। এর মানে তারা তাদের পিতৃপুরুষের কাছেই ফিরে যাচ্ছে। ধনী দেশগুলোর উদ্বৃত্ত সম্পদ তা হলে কী কাজে এলো? নজিরবিহীন যে ক্লাব তারা গড়ে তুলতে যাচ্ছে, এতে ওই অঞ্চলে আরো বিপুল সামরিকীকরণ হবে। ফলে নতুন নতুন অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতা বাড়বে। সারা বিশ্বের উদ্বৃত্ত অর্থের একটি অংশ এর পেছনে ব্যয় হতে থাকবে। মোটকথা হচ্ছে, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের বিপুল অর্থের অপচয় বহু মানুষের প্রাণহানি ও বহু মানুষকে উদ্বাস্তু করার পর আমেরিকা আবারো অন্য একটি আক্রমণাত্মক প্রকল্পই গ্রহণ করল। এর দ্বারা মানবতার কোনো উপকার হওয়ার সম্ভাবনা নেই। উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে এসব ধনী দেশ মানুষের গরিবি লাঘব হতে পারত। তা না করে তারা পছন্দ করে নিলো যুদ্ধ হাঙ্গামা বাড়ানোর কাজ। কোনো একটি দামি খাবার খেতে না পারলে যদি গরিবের ঘোড়া রোগ হয়, তা হলে ধনীদের এই অনাচারকে কি ‘ধনীদের ঘোড়া রোগ’ বলা যাবে?

ভাগ