খেলার খবর

সেঞ্চুরিতে ৭২ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন স্মৃতি মান্ধানা
স্পোর্টস ডেস্ক॥ প্রথমবারের মতো গোলাপি বলে টেস্ট খেলার উপলক্ষ দারুণভাবে রাঙালেন স্মৃতি মান্ধানা। দলকে উপহার দিলেন অসাধারণ এক সেঞ্চুরি। সঙ্গে ভারত নারী দলের এই ব্যাটার ভাঙলেন ৭২ বছরের পুরনো একটি রেকর্ড। ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের বিপক্ষে দিবা-রাত্রির টেস্টের প্রথম দিন শেষে মান্ধানা অপরাজিত ছিলেন ৮০ রানে। শুক্রবার দ্বিতীয় দিন সেটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ৯৩ রান থেকে এলিস পেরির তিন বলের মধ্যে দুটি বাউন্ডারি মেরে তিনি স্পর্শ করেন তিন অঙ্ক। চার টেস্টের ক্যারিয়ারে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। ক্যাচ দিয়ে থামেন ১২৭ রানে। ২১৬ বলে ২২ চার ও একটি ছক্কায় সাজানো রেকর্ড গড়া ইনিংসটি। মেয়েদের টেস্টে অস্ট্রেলিয়ায় কোনো সফরকারী ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এটিই। আগের রেকর্ড ছিল ইংল্যান্ডের মলি হাইডের। ১৯৪৯ সালে সিডনিতে দলের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনে নেমে তিনি করেছিলেন অপরাজিত ১২৪ রান। আরও কিছু কীর্তি গড়েছেন মান্ধানা। প্রথম নারী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে টেস্ট ও ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির অনন্য কীর্তিও গড়লেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতের কোনো ব্যাটারের এটি প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয়। প্রথমটি করেছিলেন সন্ধ্যা আগারওয়াল; ১৯৮৪ সালে মুম্বাইয়ে প্রথম ইনিংসে ১৩৪ রান করেছিলেন এই ওপেনার। আর অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের হয়ে আগের সেরা ছিল ১৯৯১ সালে রজনি ভেনুগোপালের ৫৮ রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করা চার নারী ক্রিকেটারের একজন মান্ধানা। বাকি তিন জন হলেন-ইংল্যান্ডের বাকওয়েল, ক্লাইরি টেইলর ও নিউ জিল্যান্ডের ডেবি হকলি।

বিশ্বকাপেও স্পিনাররা ভালো করবেন, বিশ্বাস নাসুমের
স্পোর্টস ডেস্ক॥ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এসেছে প্রথম সিরিজ জয়। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডকে প্রথমবার হারানো গেছে টি-টোয়েন্টিতে। এত প্রাপ্তির মধ্যেও শঙ্কার পাহাড় বেড়েছে। ঘরের মাঠে স্পিন-বান্ধব উইকেট বানিয়ে সাফল্য পেলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘খেসারত’ দিতে হতে পারে, এই আলোচনা এখনও থামেনি। তবে নাসুম আহমেদের বিশ্বাস, বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের স্পিনাররা ভালো করবেন। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন নাসুম। নিজেকে চিনিয়েছেন সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়ে। দুই সিরিজে ১০ ম্যাচের সবক’টিতে খেলেছেন বাঁহাতি স্পিনার। প্রায় প্রতি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছেন তিনি। কিন্তু মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটের মতো তো হবে না সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের বিশ্বকাপের উইকেট। আইসিসির টুর্নামেন্টে সবসময় স্পোর্টিং উইকেট হয়। সেই জায়গায় স্পিন নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা কি থেকে গেলো না? নাসুম অত কিছু ভাবছেন না। প্রথমবার বিশ্ব আসরে নামতে যাওয়ার আগে চ্যালেঞ্জেরও কিছু দেখছেন না। বরং ভালো করার বিশ্বাস তার মনে। আজ মিরপুরে অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমকে নাসুম বলেছেন, ‘আসলে এখানে (বিশ্বকাপে) চ্যালেঞ্জ বলতে কিছু নেই। ভালো করতে হবে যেকোনও উইকেটে। আমাদের চেষ্টা থাকবে ভালো করার। আমরা ভালোই করবো ইনশাআল্লাহ।’ বিশ্বকাপ খেলতে ৩ অক্টোবর ওমানে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশ খানিকটা সময় পাচ্ছে। তাছাড়া ১৭ অক্টোবর লড়াইয়ে নামার আগে দুটি ওয়ার্ম-আপ ম্যাচও খেলতে পারবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। সঙ্গে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের বোলাররা ভালো ধারণা পাবেন সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে। এই দুই ক্রিকেটার আইপিএল খেলতে এখন আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। প্রথম পর্ব পেরোতে পারলে বাংলাদেশের সুপার-১২ মিশন শুরু হবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতেই। সাকিব-মোস্তাফিজের কাছ থেকে উইকেটের ধারণা পাওয়াকে বাড়তি প্রাপ্তি মনে করছেন নাসুম, ‘অবশ্যই তারা ওখানে অনেকদিন ধরে আছে। সেখানকার উইকেট সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা থাকবে। অবশ্যই এটার একটা ধারণা পাবো আমরা।’

এমসিসির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লেয়ার কনর
স্পোর্টস ডেস্ক॥ ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা হিসেবে কিছুদিন আগেই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে ব্যাটসম্যানের জায়গায় ব্যাটার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার ক্লাবটির ২৩৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্টও নির্বাচিত করেছে এমসিসি। ইংল্যান্ডের সাবেক অ্যাশেজ জয়ী অধিনায়ক ক্লেয়ার কনর পেয়েছেন এই গুরু দায়িত্ব। এর ফলে কুমার সাঙ্গাকারার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন কনর। অবশ্য গত বছরের এজিএমেই কনরকে এই পদের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনার প্রকোপে তার নিয়োগ স্থগিত রাখা হয় এক বছর। দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত কনর বলেছেন, ‘এমসিসি প্রেসিডেন্ট হতে পেরে নিজেকে সম্মানিত মনে করছি। এখন ড্রেসিংরুম থেকে বোর্ডরুম- আমার যে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার, সেটি আগামী ১২ মাস ব্যবহার করে ক্লাব নেতৃত্ব ও কমিটিকে সহায়তার চেষ্টা করবো।’ কনর আবার ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডেরও মেয়েদের ক্রিকেট ডিরেক্টর। সাবেক নারী এই ক্রিকেটার ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক করেন ১৯৯৫ সালে, ১৯ বছর বয়সে। এর পর ২০০০ সালে পান অধিনায়কত্ব। ক্যারিয়ারে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে স্বীকৃত কনর বামহাতি স্পিনার ছিলেন। ২০০৫ সালে ৪২ বছর পর ইংলিশ মেয়েদের প্রথম অ্যাশেজ জয়ের অধিনায়কও ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বেই ইংল্যান্ড সিরিজ জেতে ১-০তে।

আইপিএল ছাড়া নিয়ে যা বললেন গেইল
স্পোর্টস ডেস্ক॥ ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেই আইপিএল খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে উড়ে গেছেন ক্রিস গেইল। ব্যস্ত সূচিতে এমনিতেই নিঃশ্বাস ফেলার উপায় নেই, এর ওপর আবার দুনিয়াজুড়ে চলমান করোনাভাইরাসে জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। জৈব সুরক্ষা বলয়ে একরকম ‘বন্দি’ জীবনই কাটাতে হচ্ছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে সতেজভাবে ফিরতে তাই ‘বন্দি’ থেকে ‘মুক্তি’ নিয়েছেন গেইল। চলতি আইপিএলে আর খেলবেন না ক্যারিবিয়ান হার্ডহিটার। এবারের আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের জার্সিতে খেলছিলেন গেইল। করোনা বিরতির পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্বে পাঞ্জাবের খেলা তিন ম্যাচের দুটিতে খেলেছেন ৪২ বছর বয়সী তারকা। যদিও সুবিধা করতে পারেননি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১৪ রান করার পর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে আউট হন মাত্র ১ রানে। টানা জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকায় হাঁপিয়ে উঠেছেন গেইল। তাই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বলয় ভাঙতে চেয়েছেন। নিজের মতো কিছু সময় কাটিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা তার। ১৭ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। ক্যারিবিয়ানদের প্রথম লড়াই অবশ্য সুপার-১২ থেকে। আইপিএল ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে গেইল বলেছেন, ‘গত কয়েক মাসে আমি ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) পর আইপিএলের বাবলের মধ্যে আছি। আমি আমার মানসিক প্রশান্তি ও নিজের সতেজতা চাই। যাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সাহায্য করতে পারি।’ পাঞ্জাব কিংস তার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ রানের মালিক, ‘আমাকে সময় দেওয়ার জন্য পাঞ্জাব কিংসের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার শুভকামনা ও প্রত্যাশা সবসময় থাকবে দলের সঙ্গে। সামনের ম্যাচগুলোর জন্য শুভকামনা।’ এই বছর গেইলের চেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন মাত্র ছয় খেলোয়াড়। ক্যারিবিয়ান হার্ডহিটার ৩৭ ম্যাচ খেলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস, কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস ও পাঞ্জাবের হয়ে।

হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরলেন পেলে
স্পোর্টস ডেস্ক॥ প্রায় এক মাসের কাছাকাছি হাসপাতালে কাটানোর পর ঘরে ফিরেছেন পেলে। কোলন (বৃহদন্ত্র) টিউমারের অস্ত্রোপচারের পর থেকে হাসপাতালের বেডে শুয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি। গত ৪ সেপ্টেম্বর সাও পাওলোর আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয় ৮০ বছর বয়সী পেলের। এর ১০ দিন পর আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) ছাড়েন রেকর্ড তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী তারকা। কিন্তু ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার’ জন্য ফের পেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সময় পোস্ট দিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের উদ্বেগ-চিন্তা না করতে বলেন তিনি। এবারও হাসপাতাল ছাড়ার বিষয়টি নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন পেলে, ‘বাড়ি ফেরা নিয়ে আমি খুবই আনন্দিত।’ এছাড়া হাসপাতালের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালের পুরো দলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আপনাদের সবাইকেও ধন্যবাদ, যারা অসংখ্য ভালোবাসাময় মেসেজ পাঠিয়ে আমার জীবনকে পরিপূর্ণ করেছে।’ গত ৩১ আগস্ট রুটিন চেক-আপ করতে গিয়ে বৃহদন্ত্রের টিউমার ধরা পড়ে পেলের। এরপর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও মেডিকেল টিম জানিয়েছে, নিয়মিত কেমোথেরাপি চলবে পেলের।

সবার আগে প্লে-অফে চেন্নাই
স্পোর্টস ডেস্ক॥ সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হারিয়ে সবার আগে আইপিএলের প্লে-অফ নিশ্চিত করল তিনবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস। বৃহস্পতিবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় চেন্নাই। ঋতুরাজ গায়কোয়াড় ও ফ্যাফ ডু প্লেসি উদ্বোধনী জুটিতে ৭৫ রান যোগ করে দলকে সহজ জয়ের পথে নিয়ে যান। গায়কোয়াড় ৩৮ বলে ৪৫ ও ডু প্লেসি ৩৬ বলে ৪১ রান করেন। ১০৮ রানের মাথায় ৪ উইকেট হারানোর পর আম্বতি রাইডু ও মহেন্দ্র সিং ধোনির অবিচ্ছিন্ন ৩১ রানে নিশ্চিত হয় চেন্নাইয়ের জয়। রাইডু ১৭ ও ধোনি ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। এর আগে ঋদ্ধিমান সাহার ৪৬ বলে ৪৪ রানের ইনিংসে ভর করে ৭ উইকেটে ১৩৪ রান করতে পারে হায়দরাবাদ। চেন্নাইয়ের পক্ষে জস হ্যাজলউড ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন। আইপিএলে যা তার সেরা বোলিং। এদিনের ম্যাচসেরাও তিনি। ১১ ম্যাচে ৯ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত চেন্নাইয়ের। বাকি তিন ম্যাচের একটিতে জয়ে পেলেই সেরা দুইয়ে থেকে ১০ অক্টোবর কোয়ালিফাই খেলা নিশ্চিত হবে দলটির। সেই ম্যাচে জিতলে নিশ্চিত হয়ে যাবে ফাইনাল। হারলেও ১৩ অক্টোবর দ্বিতীয় কোয়ালিফাই খেলার সুযোগ থাকবে। এদিকে ১১ ম্যাচে মাত্র দুটিতে জয় পাওয়া হায়দরাবাদের আইপিএল থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।

ভাগ