ফেসবুক প্রতারক চা দোকানি প্রদীপের বিত্তশালী বনে যাওয়া নিয়ে আলোচনায় মুখর কপিলমুনি

কপিলমুনি (খুলনা) সংবাদদাতা ॥ ফেসবুকে ফেইক আইডির মাধ্যমে নিজেকে জার্মান প্রবাসী পরিচয়ে ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদ পেতে বিভিন্নজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গত ৫ জুলাই যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে আটক হয় পাইকগাছার কপিলমুনির চা বিক্রেতা প্রদীপ ঘোষ। তালার ঘোষনগরস্থ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। চা বিওক্রতা থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া প্রদীপকে নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। তার গ্রেফতারের পর থেকে কপিলমুনি ও তালার প্রত্যন্ত এলাকায়, চায়ের দোকান থেকে ভ্যান স্ট্যান্ড পর্যন্ত সকলের আলোচনায় স্থান পায় চা প্রদীপের গ্রেফতারের বিষয়টি।
আলোচনায় আসে অন্যের দোকানের সামনে টেবিল পেতে বসা একজন চা বিক্রেতা থেকে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার রহস্য নিয়ে। তালার জালালপুর এলাকায় বিয়ে করে কপিলমুনি পালপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা চা বিক্রেতা প্রদীপ ঘোষ কিছুদিন আগে তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের ঘোষনগর এলাকায় জমি কিনে রাতারাতি তুলে দেন আলিশান বাড়ি। প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবনের ফাউন্ডেশনে দ্বিতল বাড়ি। চাল চলনেও আসে আমূল পরিবর্তন। নিজের ব্যবহারের জন্য কেনেন দু’টি মোটর বাইক, হাতের আঙ্গুলগুলোতে ম্যাচিং করে স্বর্ণের আংটি, গলায় মোটা স্বর্ণের চেইন। কপিলমুনি বাজারের চায়ের দোকানটিও এখন আর তেমন খুলতে দেখা যায়না। এখন আর তিনি লোকের কাছ থেকে ধার নেননা বরং লাখ লাখ টাকা ধার দেন।
এলাকাবাসী জানায়, তালা উপজেলার এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির পরিবারে নিজ
মেয়েকে পাত্রস্থ করার পর থেকেই তার চাল চলনে পরিবর্তন আসে। বিভিন্ন সময়ে ওই
জনপ্রতিনিধি ও তার আত্মীয়দের পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন প্রদীপ ঘোষ। সুত্র জানায়, প্রদীপ দিনের বেশির ভাগ সময় মোবাইলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যয় করতেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে তিনি কি করতেন সেটাইি অজানা ছিল সবার। তবে বছর খানেক আগে মোবাইলে প্রতারণার মাধ্যমে জনৈকা মহিলার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা
হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়।
সর্বশেষ ৫ জুলাই যশোর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে বিপুল পরিমাণ টাকা,স্বর্ণালংকার, ব্লাঙ্ক চেক, স্ট্যাম্পসহ প্রতারণার অন্যান্য আলামতসহ গ্রেফতারের পর থেকে এলাকাময় আলোচনায় আসেন প্রদীপ।
প্রসঙ্গত, গত ৫জুলাই যশোর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে নিজ বাড়ি থেকে হাতিয়ে নেওয়া নগদ ১০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ও বিভিন্ন ডকুমেন্টসসহ গ্রেফতার হন প্রদীপ। সূত্র জানায়, সেরাতে প্রদীপের বাড়িতে অভিযানের সময় মাত্র ৯৭ হাজার টাকা ও অন্যান্য আলামত পাওয়া যায় সেখানে। বাকি ১০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক পার্শ্ববর্তী জালালপুর এলাকায় তার এক শ্যালক দেবাশীষের কাছ থেকে উদ্ধার হয়।
যশোর জেলা পুলিশের প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, প্রদীপ ঘোষ সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেকে ঝড়সড় ব্যবসায়ী ও জার্মান প্রবাসী নামে পরিচয় দিয়ে একটি ফেইক আইডি খুলে। এসময় সে নিজেকে জার্মান প্রবাসী পরিচয় দিয়ে জমি কেনার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রীতা রাণী দাসের নিকট থেকে গত জুনের বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে নগদ, বিকাশ ও চেকের মাধ্যমে মোট ২০ লাখ ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।
এসময় প্রদীপ ওইশিক্ষিকার কাছ থেকে জমির দলিল তৈরির নামে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইেজের ৩ কপি ছবি, স্বাক্ষরযুক্ত নন জুডিশিয়াল ব্লাঙ্ক স্ট্যাম্প, স্বাক্ষরযুক্ত ৩টি চেক গ্রহণ করেন। এরপর ওই শিক্ষিকা প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে আতœসাৎকৃত টাকাসহ অন্যান্য উপকরণগুলি উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে যশোর কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন। যার নং-৮। তারিখ-০৩/০৭/২০২১।
এরপর যশোর পুলিশ সুপার মামলাটির তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখায় অর্পণ করলে তারা
তালা উপজেলার ঘোষ নগরে অভিযান চালিয়ে প্রদীপ কুমার ঘোষ ওরফে সঞ্জিত ওরফে সৌম্মদীপ ঘোষ ওরফে সুশান্ত ঘোষ (৫১) কে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেন।
এসময় পুলিশ তার কাছ থেকে নগদ ১০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা, বাদীর স্বাক্ষর সম্বলিত
ব্লাঙ্ক চেক, বাদীর স্বাক্ষরিত ব্লাঙ্ক নন-জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্প-৩টি, বাদীর এনআইডি কার্ডের ছায়ালিপি ২টি, ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, বিভিন্ন দলিলের ছায়ালিপি, ৩টি মোবাইল সেট (ফেসবুক আইডি ব্যবহৃত ও বিকাশ নাম্বার) সম্বলিত, প্রদীপের ১টি পাসপোর্ট, সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেন।

ভাগ