বয়স্ক ও শিশুদের উপস্থিতি নিয়ে সতর্কতা নেই ঈদ বাজারে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনা সংক্রমণের মধ্যেও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই যশোরের ঈদের বাজারে প্রতিনিয়ত বয়স্ক ও শিশুদের উপস্থিতি বাড়ছে। ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক বিষয়টি বিবেচনায় লকডাউনের মধ্যে সরকারি নির্দেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার প্রধান শর্ত ছিলো স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে সামাজিক দূরত্ব মানার। পাশাপাশি বাজারে শিশু-কিশোর ও বয়স্কদের আসার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হয়।
এসব নির্দেশনার কোনো কিছুই যশোরের বাজারগুলোতে মানা হচ্ছে না। বরং বাজারে বয়স্কদের পাশাপাশি একশ্রেণির অসচেতন মা-বাবা করোনার এই মহামারির মধ্যেও মুখে মাস্ক না দিয়ে তাদের অপ্রাপ্ত বয়সের সন্তানদের নিয়ে আসছেন ঈদের বাজারে। এ পরিস্থিতিতে দোকান মালিক ও কর্মচারীরাও করোনা সংক্রমণের চরম ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন।
দেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের হার যখন চরম পর্যায়ে চলে যায় তখন সরকার দেশে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা দেয়। এরই প্রেক্ষিতে দেশের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। দেশের অর্থনীতির কথা বিবেচনায় নিয়ে গত ৮ এপ্রিল সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই যশোরের বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। গত কয়েক দিনে যশোরের বাজারগুলোতে হাজার হাজার মানুষের পদভারে মুখর হয়ে পড়ে। তবে এসব মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো প্রবণতাই ছিলোনা। এ নিয়ে গণমাধ্যম ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এ অবস্থায় প্রশাসনের উদ্যোগে শহরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজারে আসার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানানো হয়। কোথাও কোথাও স্বাস্থ্যবিধি না মানার অপরাধে জরিমানা আদায় করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতকিছুর পরও কোনো প্রচারণা বা উদ্যোগ কাজে আসছেনা। প্রতি দিনই শিশু-বয়স্কসহ নানা পেশার মানুষের ঢল নামছে যশোরের বাজারগুলোতে।
শনিবার দুপুরে যশোর দড়াটানা মোড়ে এসে দেখা যায় দলে দলে নারী-পুরুষ যাচ্ছেন যশোর এইচএমএম রোড এলাকার দিকে। এসব মানুষের কারোর হাত ধরে বাজারে যাচ্ছে ছোট্ট শিশুরাও। তাদের মুখে নেই কোনো মাস্ক, হাতে নেই গ্লাভস। উৎসব আমেজে ছুটছে তারা বাজারের দিকে। প্রচ- ভিড়ের মাঝে ঠেলাঠেলি করে তারা দোকানে প্রবেশ করছে। এইচএমএম রোডে গিয়ে দেখা যায় ছিট কাপড়, জুতা ও কসমেটিকস দোকানগুলোতে শত শত মানুষ গায়ে গায়ে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করছেন। কারোর মধ্যে বিন্দুমাত্র সচেতনতা নেই।
এইচএমএম রোডে কথা হয়, সাবিহা সুলতানা নামে এক মহিলার সাথে। তিনি দুই কন্যা শিশুকে নিয়ে এসেছেন ঈদের বাজার করতে। সাবিহা সুলতানার মুখে মাস্ক পরা থাকলেও তার শিশু সন্তান দুটির মুখে ছিলোনা কোনো মাস্ক। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বাচ্চাদের নিয়ে কেনো বাজারে এসেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন ভিড় হবে তা বুঝতে পারিনি।
একই কথা বলেন, বয়সী আলী যাকের। মেয়ের সাথে তিনি বসুন্দিয়া থেকে বাজারে এসেছেন। মেয়েদের অনুরোধে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বাজারে আসতে বাধ্য হয়েছি বলে জানান। মেয়েরা বায়না ধরেছে বাজারে নিয়ে পছন্দ করে পাঞ্জাবি পায়জামা কিনে দেবে। তিনি বলেন, বাজারে এতো মানুষ হবে তা বুঝতে পারিনি।
এদিকে প্রতিটি দোকানের সামনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার কথা থাকলেও তা কোথাও দেখা যায়নি। ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়। দোকান মালিকরা বলেন, ক্রেতাদেরকে বারবার বলা সত্ত্বেও তারা এসব স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলেন না। এতে আমরা চরম ঝুঁকিতে রয়েছি। এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, ঈদের বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাইকিং করা হয়েছে। তাছাড়া পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তৎপর রয়েছেন। বিশেষ করে বাজারে বয়স্ক ও শিশুদের না নিয়ে আসার জন্য নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তারপরও মানুষ অসেচতন অবস্থায় বাজারে আসছেন।

ভাগ