রাজগঞ্জে ফসফেট সারের সঙ্কট,ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন

ওসমান গণি, রাজগঞ্জ (যশোর) ॥ যশোর মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারসহ আশপাশ এলাকার ছোট বড় হাটবাজারের দোকানগুলোতে সরকারি বরাদ্দকৃত ফসফেট সারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার কৃষকরা ফসফেট সার সংগ্রহ করতে না পারায় তাদের ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এসব ফসলের মধ্যে ওল কচু ও মুখি কচু অন্যতম। এসব ফসলের জন্য ফসফেট পটাশ সার দিয়ে জমি প্রস্তুত করে বীজ বপন করতে হয়। কিন্তু সরকারি বরাদ্দকৃত ফসফেট কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চাষিরা বাধ্য হয়ে চড়া দামে বেসরকারিভাবে তিউনেশিয়া ও মরক্কো সার কিনে জমিতে প্রয়োগ করছেন।
ঝাঁপা ইউনিয়নের ষোলখাদা গ্রামের আবুল কালাম জানান, তিনি ১৪’শ ওলের বীজ বপন করেছেন। বাজার থেকে চড়া দামে ফসফেট সার কিনে জমিতে দিয়েছেন বলে জানান তিনি। একই ইউনিয়নের হানুয়ার গ্রামের শরিফুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, মিজানুরসহ ৭/৮ জন কৃষক ৩০ টাকা কেজি দরে ফসফেট কিনে মুখি কচু লাগিয়েছেন। এছাড়া একই গ্রামের কাসেম ঢালী, এক বস্তা (৫০ কেজি) ফসফেট ১৭’শ টাকা দরে কিনে ১০ কাঠা জমিতে মুখি কচুর চাষ করেছেন। অথচ সরকারি বরাদ্দকৃত ফসফেট সার ৫০ কেজি বস্তার দাম ১১’শ টাকা। অধিক দামে সার কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার চাষিরা। রাজগঞ্জ বাজারের সাব ডিলার আব্দুল মজিদ জানান, গত মাসে তিনি ২০ বস্তা ফসফেট বরাদ্দ পেয়েছিলেন। এই সার আনার সাথে সাথে ১১’শ টাকা দামে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ মাসে তিনি কোন সার পাননি। সার ব্যবসায়ী রাশেদ, তবিবুর রহমান ও ডি.এম বাবুর আলী জানান, তাদের চলতি মাসে কোন ফসফেট বরাদ্দ দেয়া হয়নি। তবে অন্যান্য সারের দোকানে বেসরকারিভাবে ফসফেট সার পাওয়া যাচ্ছে। তবে ৫০ কেজি ওজনের বস্তা প্রতি সার ১৬ থেকে ১৭ ’শ টাকা বিক্রি হচ্ছে বলে তারা জানান। এ ব্যাপারে মনিরামপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সরকারি বরাদ্দকৃত সার নিয়ন্ত্রণকারীর দায়িত্ব নিয়োজিত কর্মকর্তা সঞ্চয় কুমার দাস বলেন, সরকার ফসফেট সারের বরাদ্দ কম দিচ্ছে। এর পরিবর্তে ডিএপি সার বেশি বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষকদের বুঝাতে হবে ডিএপিতে ফসফেট রয়েছে। তিনি এই সার দিয়ে চাষ করতে পরামর্শ দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার বলেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ডিলাররা জানালে সেই মোতাবেক ফসফেট বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ভাগ