চাঙ্গা হয়ে উঠেছে এশিয়ার এলএনজি বাজার

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ দেশে দেশে শীত বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদা। এ বাড়তি চাহিদা জ্বালানি পণ্যটির বাজার পরিস্থিতি চাঙ্গা করে তুলেছে। শীতের প্রকোপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এলএনজির দাম। এ ধারাবাহিকতায় এশিয়ার বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে দুই বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চে উন্নীত হয়েছে। শীতের প্রকোপ আরো বাড়লে জ্বালানি পণ্যটির বাজার বর্তমানের তুলনায় আরো চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে। খবর রয়টার্স ও ইকোনমিক টাইমস।
শীত মৌসুমের সঙ্গে এলএনজির দামের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। শীতের প্রকোপ বাড়লে ঘর গরম করার কাজে এলএনজির চাহিদা বাড়তে শুরু করে। বিশেষত চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোয় জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়ে। এ সময় দেশে দেশে বিদ্যুতের চাহিদাও থাকে বাড়তির দিকে। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোও এলএনজি কেনা বাড়িয়ে দেয়। সব মিলিয়ে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। বেড়ে যায় এলএনজির দাম।
এবারো এর ব্যতিক্রম হয়নি। শীত মৌসুম শুরু হতেই এলএনজির চাহিদা ও দাম দুটোই বাড়তে শুরু করেছে। এ ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সপ্তাহে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার বাজারে জানুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট বা এমএমবিটিইউ (২৭ দশমিক শূন্য ৯৬ ঘনমিটার) এলএনজির গড় দাম দাঁড়িয়েছে ১১ ডলার ১০ সেন্টে। আগের সপ্তাহের তুলনায় জ্বালানি পণ্যটির গড় দাম মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে ৩ ডলার বেড়েছে। এ সময় ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট এলএনজির দাম বেড়ে ১০ ডলার ৫০ সেন্টে উন্নীত হয়েছে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটাই এশিয়ার বাজারে জ্বালানি পণ্যটির সর্বোচ্চ দাম।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এশিয়ার বাজারে প্রতি বছরই নভেম্বর-ডিসেম্বরে এলএনজির দাম চাঙ্গা হয়ে ওঠে। পুরোদমে শীত শুরুর আগেই অনেক দেশ জ্বালানি পণ্যটির আমদানি বাড়িয়ে মজুদ করতে শুরু করে। পুরো শীত মৌসুমজুড়ে এলএনজির চাহিদা ও আমদানি বাড়তির দিকে থাকে। এ পরিস্থিতি জ্বালানি পণ্যটির বাজার পরিস্থিতি চাঙ্গা রাখে। এবারো তাই হয়েছে। শীত শুরু হতে না হতেই এলএনজির দাম রেকর্ড গড়ছে।
রেফিনিটিভ ইকনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে বেইজিং, টোকিও ও সিউলের তাপমাত্রা বর্তমানের তুলনায় অনেকটা কমে যেতে পারে। বাড়বে শীতের প্রকোপ। ফলে এসব দেশে ঘর গরমের কাজে এলএনজির চাহিদা আরো বাড়বে। বাড়তি চাহিদার চাপ সামাল দিতে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া জ্বালানি পণ্যটির আমদানি আরো বাড়ালে এশিয়ার বাজারে এলএনজির দাম আরো চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের আমদানি চিত্র এলএনজির সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিতে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে চীনা অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসায় দেশটি এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে শুরু হয়েছে শীত মৌসুম। সব মিলিয়ে বাড়তি চাহিদার চাপ সামাল দিতে চীনা আমদানিকারকরা চলতি বছরের নভেম্বরে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে উন্নীত করেছে। এ পরিস্থিতি এলএনজির বাজার চাঙ্গা করতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।
আগামী দিনগুলোয় চীনে এলএনজির আমদানি আরো বাড়তে পারে। পেট্রোচায়না ও চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশন (সিএনওওসি) এলএনজি কেনার জন্য সাংহাইয়ে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের কথা জানিয়েছে। সম্প্রতি জানুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে এলএনজি আমদানির জন্য ছয়টি কার্গো বুকিং দিতে দরপত্র ছেড়েছে পাকিস্তান। এসব কারণে জ্বালানি পণ্যটির দাম দীর্ঘমেয়াদে বাড়তির দিকে থাকতে পারে। যদিও জুনের পর থেকে এখন পর্যন্ত এশিয়ার বাজারে এলএনজির দাম পাঁচ গুণের বেশি বেড়েছে।
এদিকে চীনের ফেরান এনার্জি গ্রুপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শেনিয়ারি এনার্জি ইনকরপোরেশনের মধ্যে সম্প্রতি একটি চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠানটি চীনা প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে দেশটির বাজারে সব মিলিয়ে ২৬ জ্বালানিবাহী কার্গো এলএনজি রফতানি করবে। ২০২১-২৫ সালের মধ্যে এলএনজি নিয়ে এসব কার্গো যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে পৌঁছতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের হেনরি হাবের বাজার আদর্শ অনুযায়ী রফতানিযোগ্য এসব এলএনজির সম্ভাব্য দাম নির্ধারিত হবে। বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটাই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্বালানি চুক্তি।