যশোরে পণ্যের অস্বাভাবিক দামে হতভম্ব সাধারণ মানুষ

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ যশোরের বাজারে নিত্যপণ্যের ঘাটতি নেই। চাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল, সবজি, মুরগির ডিম সরবরাহ পর্যাপ্ত। তারপরও সর্বত্র হাহাকার। মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের মাছ ধরা ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অন্যান্য সাদা মাছের দাম বেড়েছে। পণ্যের মূল্যের উর্ধ্বগতিতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। খেটে খাওয়া মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য। কৃষি বিপণন অধিদফতরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪ অক্টোবর থেকে খুচরা বাজারে ভোক্তাদের কাছে ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করার কথা। অথচ বাজারে ৪৫ টাকার নিচে আলু মিলছে না। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন সরকারের ঘোষণার আগে বেশি দামে আলু কেনা। নতুন দামের আলু এখনও কেনা হয়নি। তাই আগের দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
শুক্রবার যশোরের বড়বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের কোনো ঘাটতি চোখে দেখা যায়নি। আলু, পেঁয়াজ, সবজি বাজারে ঠাঁসা থাকলেও ক্রেতার অভাবে অনেক দোকানিকে ঠাঁই বসে থাকতে দেখা যায়। অগ্নিমূল্যের বাজারে ক্রেতাদের নাভিশ^াস উঠছে। পণ্যের মূল্যের অস্বাভাবিক দামে হতভম্ব সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে করুণ অবস্থা খেটে খাওয়া মানুষগুলোর। খুচরা বাজারে ভালো মানের বাংলামতি চাল ৫৬, মিনিকেট চাল ৪৮ থেকে ৫১, কাজললতা চাল ৪৯, বিআর-২৮ চাল ৪৮ থেকে ৪৯ ও মোটা স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৩ থেকে ৪৪ টাকা কেজি দরে। সরকার আলুর দাম খুচরা পর্যায়ে ৩০ টাকা কেজি দর বেঁধে দেওয়ার পরও এ পণ্যের দামে লাগাম লাগানো যায়নি। বড়বাজারে ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে। এ সপ্তাহে আদা ও রসুনের দাম বেশ খানিকটা বেড়েছে। গত সপ্তাহের থেকে কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে শুক্রবার আদা বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। রসুনেও ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। বড়বাজার হাটখোলা রোডের আড়তদার নিউ আমিন অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হক জানান, তিনি শুক্রবার পাইকারি ৪০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করেছেন। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন ৮০ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন ৬৫ টাকা কেজি। এইচএমএম রোডের আড়তদার নিউ মদিনা ভা-ারের স্বত্বাধিকারী মো. জিয়া জানান, সরকার আলুর দাম নির্ধারণ করার আগেই তাদের ঘরে বেশি দামের আলু কেনা। নতুন বেঁধে দেওয়া আলু এখনও কেনা হয়নি। সে কারণে আগের দামেই আলু বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের বাজার এ সপ্তাহেও অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার বড়বাজারে লুজ সয়াবিন তেল ৯৮, সুপার তেল ৯৪, পাম তেল ৯০ ও সরিষার তেল প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গরমকালে পাম তেলের চাহিদা বাড়ায় (অসাধু ব্যবসায়ীরা সয়াবিন তেলে ভেজাল দেয়) গত সপ্তাহের থেকে কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে।
সবজির বাজারে লাগাতার উর্ধ্বমুখী বহাল রয়েছে। শিম ১২০, উচ্ছে ৯০ থেকে ১০০, টমেটো ৮০, গাজর ৮০, বরবটি ৭০ থেকে ৮০, ফুলকপি ৮০ থেকে ১০০, করলা ৬০ থেকে ৭০, বেগুন ৬০ থেকে ৭০, কাঁচকলা ৬০, পটল ৫০ থেকে ৬০, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০, ওল ৫০ থেকে ৬০, মুলো ৫০, কচুরলতি ৪০ থেকে ৫০, কচুরমুখি ৪০ থেকে ৫০, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০, পেঁপে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে ও লাউ প্রতিটা ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মা ইলিশ রক্ষায় গত ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর মোট ২২ দিন নদ-নদীতে ইলিশসহ সবরকম মাছ ধরা নিষিদ্ধ। বড়বাজার এখন ইলিশশূন্য। এ কারণে মাছ বাজারে অন্যান্য সাদা মাছের আমদানি বেড়েছে। ইলিশ বিক্রি বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে অন্যান্য মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। শুক্রবার কেজির ওপরের সাইজ রুই মাছ প্রতি কেজি ২২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, ইলিশ থাকাকালীন বিক্রি হচ্ছিল ২০০ টাকায়, কাতল মাছ কেজির ওপরে বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা, আগে বিক্রি হচ্ছিল ১৫০ টাকায়। এ ছাড়া দুই কেজি ওজনের ভেটকির কেজি বিক্রি ৫০০ টাকা, ৪/৫ টায় কেজি বেলে ১০০০ টাকা, ৪/৫ টায় কেজি শিং ১২০০ টাকা, ২০ টায় কেজি বাগদা ৬৫০ টাকা, ২০ টায় কেজি পারসে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এদিকে মুরগির দাম এখনও নাগালের মধ্যে আছে। শুক্রবার ব্রয়লার মুরগি ১২০, সোনালী ১৯০, লেয়ার ২৩০ ও দেশি মুরগি ৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। খাসির মাংস ৭৫০, ছাগী ৬০০ ও গরুর মাংসের কেজি ৫০০ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে মুরগির ডিমের দাম এ সপ্তাহে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি হালি দেশি মুরগির ডিম ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার বাজারে করতে আসা চাকরিজীবী রহমান মুন্সি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সরকারের বেঁধে দেওয়া দরের চাইতে প্রতি কেজি আলুতে ১৫ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে, সবজির দাম লাগামছাড়া, চাল, তেল, পেঁয়াজ সব পণ্যের দাম অনেক বেশি। সামান্য বেতনে চাকরি করে সংসার চালানো দায় হয়ে গেছে।’ দিনমজুর ক্রেতা মফিজ মোল্লা বলেন, ‘করোনার মধ্যে কাজের পরিবেশ এখনও তেমন আসেনি, প্রায় দিনই বেকার সময় কাটাতে হচ্ছে, এর ওপর বাজারে সব জিনিসের দাম অস্বাভাবিক, তিন বেলা খাওয়া তো দূরের কথা বাজার করে একবেলা খাবার জোটানোও সম্ভব হচ্ছে না।’

ভাগ