জনগণের ক্ষমতায়ন রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়ন সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা

ইকতেদার আহমেদ
যেকোনো রাষ্ট্রের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিকাশের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। জনগণের ক্ষমতায়ন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সার্বভৌমত্ব একটি অপরটির পরিপূরক। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে সাফল্যমণ্ডিত করতে হলে সর্বাগ্রে রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় জনগণের ক্ষমতায়ন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান বিশ্বের গণতান্ত্রিক ও উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে উপরোক্ত তিনটি বিষয়ের যথাযথ অনুশীলনের কারণে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা খুব একটা পরিলক্ষিত হয় না। এ বাস্তবতায় আমাদের অবস্থান ও করণীয় নির্ণয়ার্থে আলোচ্য নিবন্ধের মাধ্যমে আলোকপাতের এ প্রয়াস।
আমাদের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানের প্রথম ভাগে আমাদের দেশ বাংলাদেশকে একটি ‘প্রজাতন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজাতন্ত্র রাজতন্ত্রের বিপরীত। প্রজাতন্ত্র রাজা ব্যতীত এমন একটি সরকারব্যবস্থা যাতে জনগণ ও তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির ওপর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে। আমাদের সংবিধানে স্পষ্টত উল্লেখ রয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে সে ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এ সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে। সার্বভৌমত্ব বিষয়ে সংবিধানের অবস্থান সুস্পষ্ট। সংবিধানে বাংলাদেশকে একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র আখ্যা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের পর দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হয়নি। এর মূলে রয়েছে রাজনৈতিক দল ও নেতাদের ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক দল ও নেতাদের পরস্পরের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের অনুপস্থিতি। পারস্পরিক এ অনাস্থা ও অবিশ্বাসের কারণেই ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যতীত বিগত চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথমটি অনির্বাচিত অস্থায়ী সরকার দ্বারা এবং পরবর্তী তিনটি অনির্বাচিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। অস্থায়ী সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে যেন নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়। কিন্তু বিগত চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী দেখা গেছে, বিজিত দল পরাজয় স্বীকার করে বিজয়ী দলের প্রধানকে অভিনন্দন জানানোর পরিবর্তে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা, সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে ফলাফলকে প্রকারান্তরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় সরকার পরিচালনায় নতুন ধরনের ধ্যানধারণার জন্ম দিলেও এ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা না পাওয়ায় এ ব্যবস্থাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতোমধ্যে অনেক ধরনের শঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা গণতান্ত্রিকব্যবস্থার সাথে সংঘাতপূর্ণ বিধায় এটি জনগণের ক্ষমতায়নের পরিপন্থী। দেশের প্রধান বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি তুললেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক অবৈধ ঘোষণা পরবর্তী পূর্বের অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল করা হলে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ বিষয়ে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ বিকল্পে দেশের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের ঐক্যমতে পৌঁছানো অনেকটা দুরূহ। পঞ্চম বিকল্প যাতে বলা হয়েছে বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে যিনি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য এমন একজনকে নিয়োগ প্রদান। এ বিকল্প বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হলে তা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ সুগম করবে। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে সংবিধানের এয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছিল তখন বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে কোনো প্রকার আলাপ-আলোচনা ছাড়াই ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থকে সমুন্নত রাখার ব্যবস্থা রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। পরে দেখা গেল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দলীয় মতাদর্শের প্রতি অনুগত এমন ব্যক্তিদের প্রধান উপদেষ্টা করার মানসে প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ বিষয়ে অতিক্রান্তের ঘটনাসহ সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে উচ্চাদালতের বিচারকদের অবসরের বয়স বাড়ানোর মতো ঘটনার জন্ম দেয়া হয়েছে। তাই পূর্বের অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাটি বহাল কোনো ফলপ্রসূ সমাধান দিতে যে ব্যর্থ হবে তা বোধকরি অনেকেই অনুধাবন করতে সক্ষম। অষ্টম জাতীয় সংসদের অবসান-পরবর্তী সব বিকল্পকে নিঃশেষিত না করে রাষ্ট্রপতির তত্ত্বাবধায়কের প্রধান উপদেষ্টা হওয়া যেমন বাস্তবসম্মত ছিল না, ঠিক তেমন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধান নির্দেশিত পন্থায় গঠিত না হওয়ায় এবং উক্ত সরকারের কার্যকালকে অদ্যাবধি কোনোরূপ সাংবিধানিক বৈধতা না দেয়ায় এ সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড যে আইনগত প্রশ্নের সম্মুখীন হবে সে বিষয়টি দেশের সচেতন জনগোষ্ঠী ইতোমধ্যে অনুধাবন করতে সমর্থ হয়েছেন।
এ কথা বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে, পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অস্তিত্ব নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শুধু নির্বাচন পরিচালনায় দীর্ঘ মেয়াদের জন্য অনুসৃত ব্যবস্থা না হওয়ায় এর বিকল্প উদ্ভাবন জরুরি হয়ে পড়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, এটি অনির্বাচিত ব্যক্তিবর্গের দ্বারা পরিচালিত। অপর দিকে এ ব্যবস্থাটির স্বপক্ষে যুক্তি হচ্ছে যতক্ষণ পর্যন্ত রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের অভাব দূরীভূত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনে এটি বহাল রাখা সমীচীন। তবে অনেক বিশ্লেষকের অভিমত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল করা হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী বিজয়ী দল কর্তৃক সরকার গঠনের পর উপ-নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচন পরিচালনায় সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে সেসব বিষয়ের সুরাহা হওয়া জরুরি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রশ্নে দেশের বৃহৎ দুটি রাজনৈতিক দলের অবস্থান দুটি ভিন্ন মেরুতে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক সঙ্ঘাত পরিহারার্থে এবং অনির্বাচিত ব্যক্তিবর্গের দ্বারা শাসিত হওয়ার কালিমা ঘোচাতে সংসদে প্রতিনিধিত্ব আছে এমন সব দলের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির মাধ্যমে অস্থায়ী সরকার গঠন করে নির্বাচনের অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা বিবেচনার দাবি রাখে। উল্লেখ্য যে, সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন স্পিকার এবং এতে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতাসহ উভয় দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অন্তর্ভুক্তি রয়েছে।
আমাদের বিদ্যমান নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি নির্বাচনী এলাকা থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক ভোটপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে তাদের বিবেচনায় যোগ্য প্রার্থীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করে থাকেন। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এ নির্বাচন তা হচ্ছে তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সংসদে নিজ নির্বাচনী এলাকার সমস্যাবলি তুলে ধরে সমাধানের পথ সুগম করবেন। কিন্তু ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ পরবর্তী পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রধান বিরোধী দল বিভিন্ন কারণে সংসদ অধিবেশন বর্জন অব্যাহত রেখেছে। যেকোনো সংসদে বিরোধী দল কার্যকরী ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করলে সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের ভুল শুধরে সাবধানতা অবলম্বনের মাধ্যমে অনেকটা সঠিক পথে এগিয়ে চলা সম্ভব। বিরোধী দল কর্তৃক সংসদ বর্জন আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশে পরিণত হওয়ার জনগণের আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলনে সংসদ যে তার যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না এ বিষয়টি আজ দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট প্রতিভাত।
এ কথা অস্বীকার্য যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া কোনো দেশের পক্ষে সমৃদ্ধি অর্জন ও সুন্দরভাবে পথ চলা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন জনমতের প্রকৃত প্রতিফলনের মাধ্যমে সরকার গঠন যা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধমে অধিকতর কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব। এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা। যেকোনো দেশের সাধারণ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের আনুপাতিক হারের ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টনের পদ্ধতিকে বলা হয় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের নির্বাচনী ব্যবস্থা।
রাজনীতিবিদদের দ্বারা রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হলে সে রাজনীতিতে দেশ ও জনগণের কল্যাণ ও মঙ্গলের বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। বিগত তিন দশক যাবৎ আমাদের রাজনীতিতে ক্রমান্বয়ে ব্যবসায়ীদের অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি ঘটায় ব্যবসায়িক স্বার্থের কাছে দেশ ও জনগণের স্বার্থের অবদমন ঘটছে। এ ধরনের অবদমন সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিকাশের পথে অন্তরায়। জনকল্যাণ ও জনসেবার মহান ব্রত নিয়ে প্রকৃত রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করেন। কিন্তু একজন ব্যবসায়ী যখন রাজনীতিবিদে রূপান্তরিত হন তখন তার কাছে জনকল্যাণ ও জনসেবার চেয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থই অধিক গুরুত্ববহ। প্রকৃত রাজনীতিবিদরা ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে রাজনীতি করেন। প্রকৃত রাজনীতিবিদরা রাজনীতি থেকে নির্বাসিত হলে অর্থাৎ যোগ্যতা অনুযায়ী মূল্যায়িত না হলে সুবিধাবাদী ও সুযোগ সন্ধানীরা তাদের স্থান দখল করে নেয়। এতে করে রাজনীতিতে ভোগবাদীদের আধিক্য বৃদ্ধি পায়। দেশ ও জাতির আত্মমর্যাদাশীলতার সাথে সার্বভৌমত্ব নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। দক্ষিণাংশের সমুদ্র ব্যতীত বাংলাদেশ চতুর্দিক থেকে ভারতের ভূ-ভাগ দ্বারা বেষ্টিত। ভারত কর্তৃক আমাদের আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিতকরণ, আমাদের স্থলসীমানায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, বাণিজ্য বৈষম্য দূরীকরণে অনীহা, সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে অহেতুক কালক্ষেপণ, ফেনসিডিলসহ মাদকের অবৈধ পাচার রোধে ব্যবস্থা গ্রহণে অনাগ্রহ এবং অচিহ্নিত স্থলসীমা নির্ধারণ ও ছিটমহল সমস্যার উপেক্ষা সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আগ্রাসী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আমাদের উপমহাদেশের সব রাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে আমাদের সম্পর্ক হতে হবে সমতা, ন্যায়পরতা, ভাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস এবং ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি সম্মানের ভিত্তিতে। এর যেকোনো একটির ব্যত্যয় সার্বভৌমত্বের ওপর প্রচ্ছন্ন প্রচ্ছায়া হিসেবে পরিগণিত হয়। পৃথিবীর বুকে আত্মপ্রত্যয়ী ও মর্যাদাশীল দেশ ও জাতি হিসেবে স্থান করে নিতে হলে আমাদের ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে। সীমিত সম্পদ ও ভূখণ্ড জনসংখ্যার আধিক্য বিবেচনায় এ ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে বিবেচিত হলেও জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে এ বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। রাজনীতিবিদরা পারস্পরিক হানাহানি ও বিভেদ ভুলে জাতীয়ভাবে বিতর্কিত যেকোনো বিষয়ের ওপর জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিলে এবং এর পাশাপাশি জনগণের ক্ষমতায়ন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারলে সুখী ও সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণে খুব একটা বেশিকাল অপেক্ষা করতে হবে না। আমরা সে প্রত্যাশায় থাকলাম এ হোক আমাদের প্রত্যয়।
লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
E-mail: iktederahmed@yahoo.com
ভাগ