কেশবপুরের একটি পরিবার হামলা ও পুলিশের ভয়ে ধান কাটতে পারছে না

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের কেশবপুর উপজেলার টিটাবাজিতপুর গ্রামের একটি পরিবার হামলা, মামলা ও পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কাটতে পারছে না মাঠের ধান। সরকারি চাকরিতে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে অপর একটি পরিবার তাদের গ্রামছাড়া করেছে। রোববার দুপুরে প্রেসকাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য সেলিম রেজা মনির সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, করোনার কান্তিকালে যখন বিভিন্ন দল ও সংগঠন কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আমরা ছয় ভাই মাঠের ধান কাটতে পারছি না। সন্ত্রাসীদের হামলা-মামলা ও পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এ কারণে মাঠে আমাদের আট বিঘা জমির ধান নষ্ট হচ্ছে। চাচাতো ভাই হুমায়ুন কবীর, আসাদুজ্জামান মুকুল ও প্রতিবেশি ওজিয়ার রহমানের হামলা ও মামলার ভয়ে এখন বাড়িছাড়া। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রামের অনেক মানুষ। তারা জোর করে রাস্তার পাশের জমি লিখে নিয়েছে। সম্প্রতি বাড়ি ভেতরে পাঁচিল দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। হুমায়ুন মুকুলদের আত্মীয় পুলিশ অফিসার। তাদের নাম ভাঙিয়ে অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে আসছে। হুমায়ুন ও মুকুল আমার বৃদ্ধা মাকে মারপিট করেছে। আমিসহ আমার ভাইদের হত্যার ষড়যন্ত্র করে আসছে। ওদের ভয়ে আমি বাড়িতে ঠিকমত যেতে পারি না। আমাদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। তারা গ্রামের অনেক মানুষের চাকরি দেবার কথা বলে টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। গ্রামের লিয়াকত আলী সরদারের মেয়ে তানজিলা বেগমের চাকরি দেবার কথা বলে দেড় লাখ টাকা নিয়েছে। কিন্তু চাকরিও হয়নি, টাকাও ফেরত দেয়নি। টাকা চাইলে উল্টো জেল খাটানোর হুমকি দেয়। একই গ্রামের আবু সরদারের ঠেলে ইলিয়াস হোসেন জমি বিক্রি করে চাকরি পাওয়ার জন্য হুমায়ুনকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত টাকা ফেরত দেয়নি। চাকরিও হয়নি। আব্দুল আজিজ ডিলারের ছেলে শহিদুল ইসলামের চাকরি দেবার কথা বলে সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়েছিল। কিন্তু তার চকরি হয়নি। তিনি বলেন, ওদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি আমরা। আদালত বন্ধ থাকায় জামিন নিতে পারছি না। তাই আটকের ভয়ে এলাকারক বাইরে থাকছি। গত ৯ মে এ সব ঘটনা সাংবাদিকদের জানালে তারা আমাদের ওপর হামলা করে। এ বিষয়ে কেশবপুর থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনো তদন্তে যায়নি। গত ১ মে ষড়যন্ত্রমূলক যে মামলা হয়েছে তা নিরপেক্ষ তদন্ত করার জন্য যশোরের পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।