ফুটবলে ফেরার সাধ রোবেনের

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ এরকম অনেকেরই হয়। বুটজোড়া চিরতরে দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখার পর বুটের দিকে তাকিয়ে মনে পড়ে ফেলে আসা মাঠ। ফুটবল আবার হাতছানি দেয়, এসো, ফিরে এসো মাঠে! এই আহ্বান উপেক্ষা করা যায় না। আবার মাঠে নামতে হয়। স্বদেশি ডাচ মহাতারকা ইয়োহান ক্রুইফের জীবনেই তো এটি ঘটেছে। সুতরাং অবসর নেওয়ার একবছরের মধ্যেই আরিয়েন রোবেনের যে আবার মাঠে ফেরার ইচ্ছে জেগেছে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ৩৬ বছর বয়সী ডাচ ও বায়ার্ন মিউনিখ উইঙ্গার আরিয়েন রোবেন এফসি বায়ার্ন পডকাস্টের কাছে আভাস দিয়েছেন অবসর ভেঙে আবারও তিনি ফিরতেই পারেন। মাত্রই গত গ্রীষ্মে জার্মান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ থেকে ফুটবলকে বিদায় বলেছেন। করোনাভাইরাসের কারণে চলমান মৌসুমটাই শেষ হয়নি। নতুন মৌসুম কবে শুরু হবে ঠিক নেই। কিন্তু যখনই শুরু হোক, রোবেন বলেছেন, খেলার ইচ্ছেটা তার থাকবে। একজন খেলোয়াড়েরই এমন ইচ্ছে হয়! অবসর গিয়ে শুরুতে ভালোই ছিলেন রোবেন, ফুটবলের অভাবটা অনুভূতিতে তেমন আসেনি। কিন্তু কিছুদিন পরই মনটা যেন কেমন করতে থাকলো, ‘একটা সময় এলো, এটা মনের মধ্যে কেবলই নড়াচড়া করতে থাকলো। তখনই ভাবনাটা এলো, আচ্ছা.. আমি তো আরেকটু ফুটবল খেলতেই পারি।’
পেশাদার ফুটবলে শুরু নেদারল্যান্ডসের ইআরডিভিসির দল গ্রোনিনজেনে ২০০০ সালে। শুরুর ওই ক্লাবটিতেই কিছু জিততে পারেননি। তাছাড়া আর যেসব ক্লাবে গেছেন, শিরোপা জিতেছেন, সাফল্যে ভেসেছেন। পিএসভি, চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ-সব জায়গাতেই একই কাহিনী। চোটের পর চোটে পড়েও যে ক্লাবে সাফল্য এনেছেন সেটি ছাড়তে চাননি, সমন্বয়ের কারণে কোচ ছেড়ে দিয়েছেন, সমর্থকেরা চোখের জল ফেলেছেন বিদায় বেলায়। ২০০৮-০৯ মৌসুমে রিয়ালকে লা লিগা জিতিয়েও বিদায় নিতে হলো। রিয়ালে ওই মৌসুমেই যে এসে গেলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও কাকা। রোবেনের সোনালি সময়টা কেটেছে আসলে বায়ার্ন মিউনিখে। ২০০০৯ থেকে ২০১৯- দশ বছর বায়ার্নে কাটিয়ে জিতেছেন ২০টি ট্রফি। আটটি বুন্দেসলিগা, পাঁচটি জার্মান কাপ আর একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ। জীবনে আর বেশি কিছু পাওয়ার ছিল না। গত জুলাইতে বায়ার্নে থাকতেই খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনে দেন।
তর্কসাপেক্ষে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা উইঙ্গার। বাঁ পায়ের খেলোয়াড়, প্রচণ্ড গতিরি সঙ্গে ছিল চোখ ধাঁধানো ড্রিবল, একেবারে বাই-লাইন থেকে বল ক্রস করতেন। বায়ার্নে ফরাসি উইঙ্গার ফ্রাঙ্ক রিবেরির সঙ্গে রাইট উইঙ্গার হিসেবে দুর্দান্ত জুটি হয়েছিল তার, জার্মানি এই জুটিকে বলতো ‘রোবেরি’।২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছিলেন, পরের বিশ্বকাপে নিয়ে গিয়েছিলেন সেমিফাইনালে। দুটি বিশ্বকাপেই ছিল অবদান। ২০১৮ বিশ্বকাপে ডাচরা চূড়ান্ত পর্বের টিকিট না পাওয়ায় অবসর নিয়ে নেন জাতীয় দল থেকে। ক্লাব ফুটবলে ৬০৬ ম্যাচ থেকে তার গোলসংখ্যা ২০২, যার ১৪৪টিই করেছেন বায়ার্নে। নেদারল্যান্ডসের হয়ে ৯৬ ম্যাচে করেছেন ৩৭ গোল। ফুটবলে আবার ফিরলে নিশ্চিতই আরও কিছু গোল পাবেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, খেলবেন কোথায়?