পড়াশোনার ক্ষতি, উদ্বেগ চাকরির বয়স নিয়েও

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে শিাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে; পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা স্থগিত থাকছে বলে সেশনজটে পড়ে চাকরির বয়স নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। মহামারী ছড়ানো ঠেকাতে ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১ এপ্রিল থেকে অনুষ্ঠেয় এইচএসসি পরীক্ষাও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, যার প্রভাবে পেছাতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাও। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত টেলিভিশন ও অনলাইনে কাস ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চললেও উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে সমন্বিত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।দেশে সেশনজটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি করোনাভাইরাসের কারণে আরও বাড়বে ইডেন কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিার্থী লুৎফুন্নাহার ফুরকানের আশঙ্কা।
তিনি বলেন, “এমনিতেই আমরা সেশনজটে আছি। সামনে পরীা ছিল। জানি না কবে এ পরিস্থিতির অবসান হবে, ততদিনে আমরা অনেক পিছিয়ে যাব। এই পিছিয়ে পরা কমাতে কর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিবে আশা করি।” স্ট্যামফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনুর রহমান হৃদয় বলেন, টেলিভিশন বা অনলাইনের কাসে না বুঝলে নেই প্রশ্নের সুযোগও। কাসের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া, বিলম্বিত পরীক্ষা অনুষ্ঠান ও ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে সরকারের এখনই পরিকল্পনা করা উচিত বলে তার মত। “পরে হুটহাট সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিবে তা, আমরা চাইনা।” করোনাভাইরাসের এক বছরের সেশনজটে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিার্থী কাজী সামিয়া রহমান। এছাড়া চাকরির বয়সসীমা নিয়েও সরকারের কোনো ভাবনার কথা জানা না গেলেও শিার তি পুষিয়ে নিতে যতটুকু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন শিাবিদরা। জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, “পরিকল্পনা হাতে নেওয়া আছে আমাদের। সংসদ টিভিতে কাস নেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। ওখানে আমরা হোমওয়ার্কও দিচ্ছি। “সামনে যেভাবে হয়, সেভাবে চিন্তা-ভাবনা করে করব। এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নেইনি। রাষ্ট্রের সকল কিছুই পরবর্তীতে পুষিয়ে নিতে হবে আমাদেরকে।” মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে টেলিভিশন ও অনলাইনে কাস নেওয়া হচ্ছে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক জানান।