অর্থ-খাবার ফুরিয়ে গেছে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের হাঁড়ি শিকেয় ওঠার উপক্রম

মোস্তফা রুহুল কুদ্দুস ॥ কর্মহীন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ চরম দুঃসময় পার করছে। তাদের তিলে তিলে গড়ে তোলা সঞ্চয়ের টাকা ও খাবার ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। স্বল্প সংখ্যক মানুষ সীমিত পরিমাণ সরকারি সহায়তা পেলেও বেশিরভাগ কর্মহীন সে সুবিধা পায়নি। ফলে, হাঁড়ি শিকেয় ওঠার উপক্রম হয়েছে।
দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হবার পর একমাস পার হয়ে গেছে। এ সময় থেকে সরকার মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেয়। বন্ধ ঘোষণা করা হয় সরকারি-বেসরকারি অফিস ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। স্বাভাবিকভাবেই কর্মজীবী মানুষ বেকার হয়ে পড়ে। নির্মাণ শ্রমিক, রিকশা, ভ্যান চালক, পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। নিরাপত্তার কারণে গৃহপরিচারিকাদেরও বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এরা সকলেই ‘নো ওয়ার্ক, নো পেমেন্ট’ ও দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। স্বল্প আয়ের পরও কিছু কিছু সঞ্চয় করে থাকেন তারা। কিন্তু একমাস কর্মহীন থাকার পর সব ফুরিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে যশোর পৌরসভা সদর উপজেলা, প্রশাসন, বিভিন্ন সংগঠন ও নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে কিছু খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। কিছু তা পেয়েছে স্বল্প সংখ্যক মানুষ। পরিমাণও কম। যা দিয়ে চলেছে কয়েকদিন। এখন সকলের ঘরশূন্য। হাঁড়ি শিকেয় উপক্রম।
বিভিন্ন মহল্লায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আয় উপার্জন না থাকায় কর্মহীন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটছে। যশোর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের গৃহপরিচারিকা পারভিন জানান, করোনা শুরু হবার পর তাকে ছুটি দেয়া হয়েছে। ঘরের খাবারও ফুরিয়ে গেছে। এ অবস্থায় তিনি আইডি কার্ড নিয়ে কয়েক জায়গায় ধর্না দিয়েছেন। কিন্তু সেখান থেকে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে। পারভীনের পরিবার সদস্য চারজন। তার আয় থেকে তাদের খাওয়া পরা ও ঘরভাড়া দিতে হয়। কর্মহীন হওয়ার পর তিনি এখন চোখে শর্ষের ফুল দেখছেন।
শুধু পারভীন নয়। তার মতো অসংখ্য মানুষের অবস্থা একই। অবশ্য ইতিমধ্যে পৌরসভা থেকে একটি তালিকা তৈরি ও কর্মহীনদের আইডি কার্ড সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু তালিকায় নতুন করে কেউ খাদ্য সহায়তা পায়নি। প্রশাসনের ০১৭১৫১৪৩৯৪২ নম্বর মোবাইল ফোনে নিম্নবিত্তদের নাম-ঠিকানার এসএমএস পাঠাতে বলা হচ্ছে। কিন্তু সেখান থেকেও দ্রুত সহায়তা মিলছে না বলে জানা গেছে। পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আহমেদ শাকিল জানান, রোববার পর্যন্ত তিনি দু’দফা ১৮৩টি ত্রাণের প্যাকেট পেয়েছেন। যা একটি পাড়ার জন্যেও যথেষ্ট নয়। অবশ্য , তার বাইরেও ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। এতে কর্মহীন মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সকলেই সহায়তা পাবে। সে লক্ষ্যে দ্রত কাজ করা হচ্ছে।

ভাগ