করোনার মাঝে ডেঙ্গু রেকর্ড ভাঙছে

0

করোনাভাইরাস ক’দিন আগেই মহামারি আকারে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে দেশে দেশে। এরই মধ্যে এই সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রতিমিনিটে মরছে ৪ জন। বাংলাদেশও করোনার আক্রমণ থেকে মুক্ত নয়। এরই মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩০-এ পৌঁছেছে এবং মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। এ অবস্থায় সরকারে পক্ষ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হচ্ছে । অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘরের বাইরে না যেতে বলা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রজায় রাখতে বলা হয়েছে। যা মানছে অনেকেই। কিন্তু করোনা প্রতিরোধের এরই ব্যাপক আয়োজনের মধ্যে অন্যান্য রোগ ব্যবস্থাপনায় আমরা কী ভূমিকা রাখছি তা এখন বড় প্রশ্ন হয়েছে সব মহলে। প্রশ্ন হচ্ছে – আমরা প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিতে পারছি না, নাকি দিচ্ছি না। অভিযোগ উঠেছে সর্দি, জ্বর দূরে থাক, ডেঙ্গু চিকিৎসায়ও আমরা অবহেলা করছি। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, দেশে এরই মধ্যে ডেঙ্গু প্রকোপ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ২৭১ জন। গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৩। গত বছরের ডেঙ্গুর ভয়াবহতা স্মরণ করে মানুষ এখনো ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশা এডিসের বংশবিস্তার দ্রুততর হবে এবং ডেঙ্গুর প্রকোপও অনেক বেড়ে যাবে। তাঁরা মনে করছেন, আমাদের সিটি করপোরেশন ও পৌরমখার মশক নিধন অভিযান সেই তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে আছে। শুধু ডেঙ্গু নয়, ইনফুয়েঞ্জাজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রকোপও এ বছর অনেক বেশি। ২০১৮-১৯ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৪৪৬ এবং মারা গিয়েছিল সাতজন; গত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পাঁচ মাসে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ১১ হাজার ৭৩৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। বিপজ্জনক অবস্থা হয়েছে এসব রোগীর চিকিৎসা নিয়ে। করোনাভীতিতে সারাদেশে অধিকাংশ অনেক বেসরকারি কিনিক বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক কিনিক জ্বরের রোগীদের চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করছে। তার ওপর ইনফুয়েঞ্জাজনিত নিউমোনিয়া রোগীর লণ-উপসর্গ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর অনুরূপ হওয়ায় অনেক চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা দিতে ভয় পাচ্ছেন অথবা অপারগতা প্রকাশ করছেন। এর প্রমাণ করোনা সন্দেহে আইসোলেশনে রাখা কয়েকজনের মৃত্যুর পর দেখা গেছে, অনেক রোগীই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন। স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় বিনা চিকিৎসায়ই এসব রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে গৃহীত পদপে সর্বাত্মক জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ডেঙ্গু ও সাধারণ বা সিজোনাল বচ্বর কাশিসহ অন্যান্য রোগব্যাধির ব্যাপক প্রাদুর্ভাব যাতে না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে। রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু রোধে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় মশক নিধনে আরো জোরদার অভিযান চালাতে হবে। এক্ষেত্রে বিলম্ব হলেণ দ্ইু মহামারী এক সাথে শুরু হয়ে জনজীবনের অনিশআচয়তা মারাত্মক পর্যায়ে চলে যাবে। ঘুরে যার ব্যর্থতার দায় সরকারের কাঁধে চাপাবে।