বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন: ভারতে বর্ষবরণেও প্রতিবাদ

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ খ্রিস্টীয় বর্ষবরণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আনন্দ-উৎসবে মেতেছে ভারতও। তবে দেশটির বিভিন্ন স্থানে এই আমেজ একটু ভিন্নরকম। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকেই স্লোগানে স্লোগানে প্রতিবাদ জানিয়ে বর্ষবরণ শুরু করে ছাত্র-জনতা। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) বাতিলের দাবিতে এ প্রতিবাদ। ভারতের রাজধানী দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে বর্ষবরণেও এই প্রতিবাদ সরকারকে বার্তা দিয়ে রাখল তিন সপ্তাহ পেরোনো এই আন্দোলন নতুন বছরেও অব্যাহত থাকবে। এদিকে মঙ্গলবার কেরালা রাজ্যের বিধানসভায় সিএএ বাতিলের প্রস্তাব পাস হয়েছে।
রয়টার্স বলছে, দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের বর্ষবরণে ছিল না আতশবাজি-ডিজে; ছিল স্লোগান। সিএএ ও এনআরসির বিরোধিতায় দিল্লিজুড়ে সারা রাত মিছিল-সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা। ইন্ডিয়া গেটে মিছিলের ডাক দেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। শাহীনবাগে লাগাতার ধরনা চলছে। সেখানেও রাতভর বর্ষবরণ কর্মসূচি আয়োজন করেন বিক্ষোভকারীরা। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ক্যাম্পাসে বিশাল সভায় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়। জামিয়ার ছাত্র নাসির আখতার বলেন, ২০১৯ সাল আমরা কখনও ভুলব না। নতুন বছরে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে আমাদের। বর্ষবরণের রাতে উত্তেজনা ঠেকাতে কিছু এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে পুলিশ। এতে পিছু হটেনি আন্দোলনকারীরা। তাদের ভাষ্য- এতদিন পুলিশ দিয়ে আন্দোলন নস্যাৎ করতে পারেনি সরকার, এবারও পারবে না। শুধু ছাত্র-জনতাই নয়, বিক্ষোভে শামিল হন রাজনীতিকরাও। ভারতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যথারীতি বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন বছরে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধী নেতারা।
আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, বিতর্কিত সিএএ বাতিলের প্রস্তাব পাস হয়েছে কেরালার বিধানসভায়। এক দিনের বিশেষ অধিবেশনে মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের আনা প্রস্তাবে সম্মতি দেন বিরোধীরাও। তবে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন বিজেপির বিধায়ক রাজাগোপাল। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ অন্যান্য নেতাদের অভিমত, সংবিধানের আদর্শের সঙ্গে এই আইনটি সরাসরি সংঘাতপূর্ণ। সংবিধানের ১৩, ১৪ ও ১৫নং ধারাকে ক্ষুণ্ন করছে এই আইন। টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভি বলছে, উত্তর প্রদেশের বিজনৌরে বিক্ষোভ চলাকালীন গত ২০ ডিসেম্বর পুলিশের গুলিতে নিহত হন সুলেমান নামে এক যুবক। এ ঘটনায় সুলেমানের ভাই থানায় অভিযোগ করেছেন। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে অপসারিত পুলিশ আধিকারিক আশিস তোমার, রাজেশ সোলাঙ্কিসহ ছয়জনকে। বিজনৌর পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ শ্রীবাস্তব জানান, সুলেমানের ভাই ছয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও আইনি জটিলতার কারণে আলাদা এফআইআর সম্ভব নয়। এর আগে থানায় দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে করা মামলার রিপোর্ট জমা পড়েছে, এর সঙ্গে অভিযোগকে মিলিয়ে তদন্ত করা হবে। পুলিশের দাবি, ছিনিয়ে নেয়া পিস্তল উদ্ধারে গেলে সুলেমান এক পুলিশ কর্মীকে গুলি করেন। আত্মরক্ষার্থে চালানো পাল্টা গুলিতে নিহত হন তিনি।
অপরদিকে সুলেমানের পরিবারের দাবি, জুমার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে তোমারসহ কয়েক পুলিশ কর্মী তাকে পাশের একটি গলিতে নিয়ে গুলি করে। পরে বিজনৌর পুলিশ ওই ঘটনার কথা স্বীকারও করে। বিক্ষোভকারীদের গুলি করে মারার হুমকি দিয়ে বিতর্কে জড়ানো দিল্লি পুলিশের সাবেক কনস্টেবল রাকেশ ত্যাগী একটি ভিডিওতে বলেছেন, যে কারণে আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, একই কারণে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে কেন গ্রেফতার করা হবে না?
রাজ্যটির মুজাফফরনগরে বিক্ষোভকালে বিনা প্ররোচনায় এক মাদ্রসার ৩৯ শিক্ষার্থী ও মৌলভী আসাদ রাজা হুসানিতে তুলে নিয়ে প্রচণ্ড মারধর করে পুলিশ। এদিকে যোগীর মতোই বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের হুমকি দিয়েছে রেল বিভাগ। আনন্দবাজার বলছে, রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান ভি কে যাদব বলেন, সিএএ বিরোধী বিক্ষোভের জেরে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে রেলের ৮০ কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সম্পত্তি যারা নষ্ট করেছে, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।