তৈমূর আলম খন্দকার
একটি জাতি ও একটি রাষ্ট্রকাঠামো গঠনের প্রকারভেদ এক নয়, এর জন্মগত ইতিহাস ও পদ্ধতি ভিন্নতর। একটি রাষ্ট্র গঠনের পেছনে আন্দোলন, সংগ্রাম, যুদ্ধবিগ্রহ, দখল, পুনর্দখল, কূটনৈতিক চাল, ঈমানদারি, বেঈমানি, বিশ্বস্ততা, বিশ্বাস ঘাতকতা প্রভৃতি জড়িত। বাংলাদেশ একটি রাষ্ট্র, কিন্তু এ ভূখণ্ডটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল। যেমন- পাকিস্তান, ব্রিটিশ, মোগল সাম্রাজ্য প্রভৃতি। নিজ ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন বা কখনো নিজ অস্তিত্ব বিলীন করে অন্য ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত হওয়া রাষ্ট্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যুগ যুগ ধরে পৃথিবীতে চলে আসছে। শক্তি যার বেশি তার হাতেই বন্দী হয়েছে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব; নীতি, আদর্শ, মানবতা এখানে বাতুলতামাত্র। কিন্তু জাতি গঠনের বিষয়টি ভিন্নতর, যা এক দিনে সৃষ্টি হয় না বা হতে পারে না। বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী অনুশীলনের মাধ্যমে যে সংস্কৃতি ও ভাবধারা এলাকাভিত্তিক গণমানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে, তা-ই জাতিসত্তা। যুদ্ধবিগ্রহ বা আন্দোলন-সংগ্রাম অথবা কূটকৌশলের মাধ্যমে ‘জাতির’ সৃষ্টি হয় না। একটি জাতি গঠন ও জাতিসত্তা একটি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘ দিন অনুশীলনের ফসলমাত্র। ভৌগোলিক ভাবধারা ও জলবায়ু জাতিসত্তা গঠনে প্রভাব ফেলে, কিন্তু রাষ্ট্র গঠনে জাতিসত্তার একটি ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু জাতি গঠিত হয় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধ থেকে। বাঙালি বা বাংলাদেশী জাতিসত্তার বিচার-বিশ্লেষণ করার জন্য ১৭৫৭, ১৯০৫, ১৯১১ এবং ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭০-৭১ সালসহ বর্তমান উপ-আন্তর্জাতিক (ভারতবর্ষ) পরিমণ্ডলকে বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা দরকার। বাংলা ভাষা বাঙালিদের একক ভাষা হলেও ভাষাটির প্রকারভেদ বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন রকম। পার্বত্য এলাকার ভাষা প্রমিত বাংলা থেকে ভিন্নরূপ, যা সাধারণ একজন বাঙালির পক্ষে বোধোদয় হওয়া কষ্টকর। ভাষাভিত্তিক পাহাড়ি, বাঙালি, নৃগোষ্ঠী এবং ধর্মভিত্তিক হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, জৈন, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মিলেই বাংলাদেশ। জতিগত দ্বন্দ্ব পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্রেও হয়েছে। বর্তমানে যা প্রকটভাবে হচ্ছে চীনের উইঘুর ও মিয়ানমারে এবং যা শুরু হয়েছে পাশের রাষ্ট্র ভারতে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীকে নিঃশেষ করার মধ্য দিয়েই শুরু হয় গণহত্যা, যার বীজ বপন হয় বৈষম্যের মধ্য দিয়ে। ভারত উপমহাদেশের জাতিগত বৈষম্যের ইতিহাস অনেক দীর্ঘতর, যা বর্ণনা ইতিহাসবিদদের লেখনীতে পাওয়া যায়। প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ মওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রণীত ‘ভারত স্বাধীন হলো’ বইয়ে তিনি লিখেছেন- ‘এই সময়ে আমি তখনকার একজন বাঘা বিপ্লবীকর্মী শ্যামসুন্দর চক্রবর্তীর সংস্পর্শে আসি। ফলে আমি বিপ্লবী রাজনীতির দিকে ঝুঁকি ও ছোট ছোট উপদলের একটিতে ঢুকে পড়ি। সে সময় বিপ্লবী দলগুলোতে শুধু হিন্দু মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকদেরই নেয়া হতো। সত্যি বলতে কি, বিপ্লবী দলগুলো তখন ছিল কায়মনোবাক্যে মুসলিমবিরোধী’ (সূত্র : ভারত স্বাধীন হলো, পৃষ্ঠা ১২)। জওয়াহেরলাল নেহরুকে লেখক বইটি উৎসর্গ করেছেন।
লেখকের অসিয়ত অনুযায়ী, তার মৃত্যুর ৩০ বছর পর বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দ্বিজাতিতত্ত্বের পক্ষে কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর চেয়ে উচ্চবর্ণের হিন্দু নেতাদের দাবি ছিল জোরদার। সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে ভারতের উচ্চবর্ণের হিন্দু এবং মিয়ানমারের বৌদ্ধদের ভূমিকা এক ও অভিন্ন। মিয়ানমার ও ভারতের নাগরিকত্ব আইন এবং চীনের উইঘুরে মুসলিম নিধন একই সূত্রে গাথা। রোহিঙ্গা মুসলমানদের মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত করার প্রশ্নে চীন ও ভারত বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র বলে পরিচিত হলেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর কোনো ধরনের সহযোগিতা বা সমর্থন পায়নি। তার পরও এ জটিল সমস্যার বোঝা বাংলাদেশকে একাই বইতে হচ্ছে; যার সমাধানের জন্য বাংলাদেশের পাশে মুসলিম দেশগুলোই এগিয়ে এসেছে, ধর্মনিরপেক্ষ বা মানবতার নামধারী ভেটো পাওয়ায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রগুলো এগিয়ে আসেনি। তবে কেউ কেউ শুধু উদ্বেগ জানিয়েছে, যা শুধু ছিল লোক দেখানোর পার্শ্বক্রিয়া মাত্র। ১৭৫৭ সালে তৎকালীন কিছু উচ্চপদস্থ রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, বিশেষ করে প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খানের বেঈমানির কারণে ৬৫ হাজার সৈন্য থাকা সত্ত্বেও স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজয় বরণ করতে হয়ে ছিল ব্রিটিশের তিন হাজার ৫০০ সৈন্যের কাছে। সে দিন যদি বেঈমানি না হতো তবে ভারতবর্ষের ইতিহাস ভিন্নতর হতো। পৃথিবীতে ঈমানদারিত্বের চেয়ে বেঈমানির ইতিহাস অনেক বড়, যার কালিমা থেকে ভারতবর্ষ বাদ পড়ে না। জনসংখ্যার গুরুত্ব, শিক্ষাবিস্তারসহ গণমানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য তৎকালীন মুসলিম নেতৃত্ব বিশেষ করে স্যার সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে গণদাবির মুখে ব্রিটিশ সরকার পূর্ববঙ্গ ও আসামকে যুক্ত করত : ঢাকাকে রাজধানী করে ১৯০৫ সালে একটি প্রদেশ গঠন করে। কিন্তু ভারতের উচ্চবর্ণের হিন্দুরা এ প্রদেশ মেনে নেয়নি। তাদের আন্দোলনের কারণে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়ে গেলে আবার পূর্ববঙ্গ ও আসাম রাজধানী কলকাতার অধীনে চলে যায়। ভারত স্বাধীনতা আইন ১৯৩৫ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুমোদন হওয়ার পরই ব্রিটিশ থেকে ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ব্রিটিশ সহজভাবে ভারতের স্বাধীনতা মেনে নেয়নি।
ব্রিটিশ ভারতকে লুট করেছে, ভারতীয় সংস্কৃতিতে পশ্চিমা সংস্কৃতি অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে, খান বাহাদুর, রায় বাহাদুর, স্যার, নানা ধরনের উপাধি দিয়ে ব্রিটিশরা ভারতীয় হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে দালালশ্রেণী সৃষ্টি করে, ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতি অনুসরণ করে বৈষম্যের আনুষ্ঠানিক প্রচলন এ দেশে জন্ম দিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা এই যে, জনস্বার্থবিরোধী একটি আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছে ব্রিটিশ সরকার যার ধারাবাহিকতা এখনো চলমান। আমাদের রাষ্ট্র স্বাধীন হয়েছে (১৯৪৭ ও ১৯৭১) দুইবার, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক রীতিনীতি ব্রিটিশের প্রভাবেই প্রভান্বিত, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, দেশপ্রেম ও মর্যাদাবোধ এখনো পরাধীনতার মানসিকতারই চলছে, ফলে আগে এ দেশ ও জাতি শোষিত হয়েছে ব্রিটিশ, পাকিস্তানি দিয়ে, এখন নিজেদের মধ্যেই শোষক শ্রেণীর সৃষ্টি হয়েছে। ‘হাত মে বিড়ি, মুখ মে পান, লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান’ সেøাগানে উজ্জীবিত জনগণ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেল বটে, কিন্তু পাকিস্তানি রাষ্ট্রনায়কদের শোষণ-শাসনে অতিষ্ঠ হয়ে আবার সেøাগান উঠল- ‘লাখো ইনসান ভুখা হ্যায়, এ আজাদি ঝুটা হায়।’ পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তানের সেøাগান উঠল- ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা।’ এ সেøাগানগুলোর পেছনের মূল কারণ ছিল বৈষম্য, যে বৈষম্য আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমানে কার্যকর হচ্ছে বন্ধুরাষ্ট্র ভারতে। জাতিগত বৈষম্যের মূল নায়ক ভারত সরকার স্বয়ং। তবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভারতীয় জনগণের ভূমিকা প্রশংসনীয়। যেমন- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকা পাকিস্তান সরকারকে সমর্থন করলেও জনগণ ছিল স্বাধীনতাকর্মীদের পক্ষে। ফলে জনগণ ও সরকারের চিন্তা এক ও অভিন্ন তা বলা যাবে না। বরং শোষণ-বৈষ্যম্যের বিরুদ্ধে জনগণই সঠিক পথের দিকনির্দেশক এবং সর্বশেষ জয়ের মালা যাদের গলায় শোভাবর্ধন করেছে, তারাই হলো জনগণ। তবে এর মধ্য দিয়ে স্বার্থান্বেষী মহল, সুবিধাবাদী ও সুবিধাভোগীরা যে যতটুকু পারে, ততটুকুই জনস্বার্থ লুট করে নিয়ে গেছে।
ইতিহাসের পেছনে তাকালে দৃশ্যমান হয় যে, মোদি ও অমিত শাহ নেতৃত্বাধীন ভারতে এখন যা ঘটছে তা হলো দ্বিজাতিতত্ত্বের বাস্তবায়ন। মুসলিম লিগের উদ্যোগে ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাবে ‘টু ন্যাশন থিওরি’ অর্থাৎ দ্বিজাতিতত্ত্ব পাস করে। কিন্তু ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পরই হিন্দুদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি ওঠে ১৯০৮ সাল থেকেই। মুসলমান ও ক্রিশ্চিয়ানদের ভারত থেকে বের করে দেয়ার যুক্তি দিয়ে সাম্প্রদায়িক গবেষক বিনায়ক দামোদর সভারকার ১৯২৩ সালে ‘হিন্দুত্ব’ বইটি প্রকাশ করেন। সে ধ্যান-ধারণাকে লালন করে শুধু মুসলিম নিধনের জন্য ভারতের এই এনআরসি উদ্যোগ। কেউ কেউ স্মৃতি ভুলে গেলেও অতীত তো ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে। ইতিহাস ভুলে যাওয়ার কথা নয়, তবে অতীত থেকে মানুষ শিক্ষা নিতে চায় না। স্মৃতিকে ভুলে যাওয়াকে একটি রোগ উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা এর নাম দিয়েছেন ডিমেনশিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এ রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ, ২০৫০ সালে পৃথিবীতে এ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫ কোটিরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোট জনসংখ্যার একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ অতীত ভুলে যায় স্মৃতিশক্তি নষ্ট হওয়ার কারণে, কিন্তু মূল জনস্রোত কিন্তু ইতিহাস ভোলার কথা নয়। অতীতকে জানার সুযোগ মানুষের রয়েছে, কিন্তু ভবিষ্যৎকে জানার বা দেখার কোনো সুযোগ নেই। কারণ সৃষ্টিকর্তা জোর দিয়েই বলেছেন, ‘গায়েব’কে জানার জ্ঞানের একমাত্র মালিক তিনি, যিনি সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা; কুরআনের ভাষায় ‘আলিমুল গায়েব’। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কেউ যদি জানত, তবে কেউই বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিজেকে অধিষ্ঠিত করত না। বাংলাদেশে যারাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করেছে, তাদের পরিণত সুখকর হয়নি। প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং প্রতিপক্ষকে অত্যাচার-নির্যাতনের মানসিকতাপূর্ণ এ সমাজব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ইতিহাস খুবই করুণ এবং নির্মম।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, এ দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে খুন হয়েছেন দুইজন রাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়া)। ক্ষমতা হারিয়ে কারাবন্দী হয়েছেন রাষ্ট্রপতি এরশাদ। জাতীয় সংসদের মাধ্যমে অপসারিত হওয়ার আশঙ্কায় পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরী। প্রভাবশালী দুই নারী প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী হয়েছেন, যার মধ্যে একজন এখনো কারাভোগ করছেন। প্রভাবশালী এমন কোনো মন্ত্রী নেই, যারা কারাভোগ করেননি। যারা ঠুঁটো জগন্নাথ রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাদের কারাভোগ করতে হয়নি। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে অনেকেই ক্ষমতা হারিয়ে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে পুলিশের পিটুনি খেয়েছেন, তারা হলেন- মোহাম্মদ নাসিম, মতিন চৌধুরী, আলতাফ চৌধুরী ও বাবর। গলাধাক্কা খেয়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন, বর্তমানে দুদক মামলায় কারাগার তাকে ডাকছে, যদিও দুদককে তিনিই শক্তিশালী করে দিয়েছেন। তার মতে, রাজনীতিবিদরা সবাই দুর্নীতিবাজ। যে রায় প্রদানের কারণে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হলেন, সেই রায়ে সব বিচারপতি স্বাক্ষরদাতা হলেও সিনহাকে বাঁচানোর জন্য তার সহকর্মী বিচারপতিরা এগিয়ে আসেননি, বরং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এ দেশে ক্ষমতাভোগীদের ভাগ্যের নির্মম পরিহাস- কখন কী হয়, তা কেউই আঁচ করতে পারে না। ৩০ টাকার ইফতারি কখন কার ভাগ্যে জোটে, তা বলা যায় না। কখন কে কারাগারে রাজার হালে থাকে বা থাকবে তা ও অনিশ্চিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি একটি নির্মম সত্য প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু লাশ যখন সিঁড়িতে পড়ে ছিল, তখন দলের এত নেতাকর্মী ছিল কোথায়? বাঙালি বা বাংলাদেশী জাতিসত্তা লাইনচ্যুত হয়ে কি খাদের কিনারে, নাকি নীড়হারা পাখির মতো শুধু উন্নয়নের আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে, নাকি পথের সন্ধান পেয়ে গন্তব্যস্থলের দিকে এগোচ্ছে- বিষয়গুলো অনেক অনেক প্রণিধানযোগ্য। ইট-সিমেন্টের উন্নয়ন দিয়ে জাতিসত্তার মর্যাদার মাপকাঠি নিরূপণ করা যায় না। ‘উন্নয়ন কারো সমষ্টিগত মর্যাদা, সম্মানবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা জমাটবদ্ধ করে না। ফলে বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নামক একটি কালচার আবিষ্কার হয়েছে, যা আদর্শিকভাবে প্রয়োগ না হয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বর্তমান জাতিসত্তা শুধু ক্ষমতার পাশে থাকতে চায়, আদর্শের পক্ষে নয়, ব্যতিক্রম যা রয়েছে তা জনস্রোতের একটি ক্ষুদ্র অংশ যাদের গলায় আওয়াজ রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের কর্ণকুহরে পৌঁছায় না। ফলে সর্বত্রই চলে রাজার জয়গান। ‘সত্য’ যেন দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এটাও প্রমাণিত হয়েছে, সময় যখন খারাপ হয় তখন ভুক্তভোগীই বুঝতে পারে সে কতটুক অসহায় (!)
লেখক : চেয়ারম্যান, গণতন্ত্র ও বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন
E-mail: taimuralamkhandaker@gmail.com
জাতিসত্তার অন্তরালে বিষাক্ত নিঃশ্বাস
খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে রাজধানীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শনিবার বিকেলে একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় থেকে শুরু হয়ে বিজয়নগরের কাছে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মিছিলে অন্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাব, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান রনি, ছাত্রদল নেতা রাজু, রহিমসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
মিছিল শেষে এক পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্তি না দেয়ার উদ্দেশ্যই হলো-তাকে শারীরিক অসুস্থতায় রেখে জীর্ণ করতে করতে প্রাণ বিপন্ন করা। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইন, আদালত, বিচার সবকিছু হাতের মুঠোয় নিয়েছেন। জনগণের দাবি উপেক্ষা করে গুরুতর অসুস্থ বেগম জিয়াকে তার পছন্দ মতো কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দিতেও বাধা দেয়া হচ্ছে। শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়া সত্বেও বেগম জিয়ার প্রতি সরকারের নিষ্ঠুর আচরণে আজ দেশবাসী চরম ক্ষুদ্ধ। তিনি বলেন, দখলদার প্রধানমন্ত্রী নিজের ক্ষমতাকে কন্টকমুক্ত করতে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে দিতেও কুন্ঠিত হচ্ছেন না। বর্তমানে দেশের স্বাধীনতা যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশী হুমকির মুখে। নিজেদের স্বেচ্ছাচারী কাজে কেউ যাতে জবাবদিহিতা না চায় সেজন্যই তারা গণতন্ত্রকে গোরস্থানে পাঠিয়েছে। বেপরোয়া সরকার জনগণের কোন দাবিকেই আমলে না নিয়ে জনগণকে বন্দী করে রাখতেই অগণতান্ত্রিক দুঃশাসন অব্যাহত রেখেছে। রিজভী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে বিনা চিকিৎসায় আপনি অমানবিক কষ্ট দিচ্ছেন, আর কষ্ট না দিয়ে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিন। আমি আবারো অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ঢাকা সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপির কমিটি গঠন
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র কাউন্সিলর প্রার্থীদের যাচাই বাছাই কমিটি গঠন করেছে দলটি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাজাহানকে প্রধান সমন্বয়ক করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামকে প্রধান সমন্বয়কারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কাউন্সিলর বাছাই কমিটি করা হয়। বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান নয়া দিগন্তকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঢাকা সিটি উত্তর এর বাছাই কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু, যুগ্ন মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম, বজলুল বাসিত আঞ্জু, আহসান উল্লাহ আহসান, সুলতান আহমেদ। ঢাকা সিটি দক্ষিণে বাছাই কমিটির সদস্যরা হলেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাজহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ন মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপি নেতা আবুল বাসার ও নবী উল্লাহ নবী। এছাড়াও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরদের বাছাইেয় জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানকে প্রধান সমন্বয়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, জেবা খান, এ্যাডভোকেট নিপুন রায় ও মহানগর উত্তর-দক্ষিণ মহিলা দলের সভানেত্রী। বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান নয়া দিগন্তকে বলেন, আগামীকাল রোববার সকাল নয়টায় গুলশানে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর প্রার্থীদের বাছাই কার্যক্রম শুরু হবে এবং একই সময় নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহানগর দক্ষিনের কাউন্সিলর বাছাই কার্যক্রম শুরু হবে।
দুর্দান্ত ব্যাটিংয়েও কুমিল্লাকে জেতাতে পারেননি সৌম্য
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ চার দিনের ব্যবধানে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে আবারও কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে হারালো রাজশাহী রয়্যালস। শোয়েব মালিক ও আন্দ্রে রাসেলের ঝড়ই তাদের ১৫ রানে জয়ের মূল অনুঘটক। গত মঙ্গলবার এই দলকেই ৭ উইকেটে হারিয়েছিল রাজশাহী। মিরপুরে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল কুমিল্লা। যদিও এই সিদ্ধান্ত গেছে রাজশাহীর পক্ষে। ৪ উইকেটে ১৯০ রান করে তারা। জবাবে চারে নেমে সৌম্য সরকার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেও ঝিমিয়ে পড়া কুমিল্লার রানের গতিটা তুলতে পারেননি। ৪ উইকেটে ১৭৫ রান পর্যন্ত যেতে পারে তারা। লিটন দাস ও আফিফ হোসেনের ৫৬ রানের জুটিতে শুরুটা দারুণ করে রাজশাহী। দুই ওপেনারের মধ্যে আফিফই ভালো করেছেন। কুমিল্লার বিপক্ষে আগের যুগ্মভাবে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় ৩০ বলে ৪৩ রান করেন ৬ চার ও ১ ছয়ে। ১৯ বলে ২৪ রানে কুমিল্লার প্রথম শিকার হন লিটন।
রবি বোপারা (১০) ব্যর্থ হলেও মালিকের সঙ্গে ৮৪ রানের জুটি গড়েন রাসেল। ২১ বলে ৪টি ছয়ে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন রাজশাহীর অধিনায়ক। ৩৫ বলে হাফসেঞ্চুরি করা মালিক ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হন, পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান ৩৮ বলে ৫ চার ও ৩ ছয়ে ৬১ রান করেন। কুমিল্লার পক্ষে একটি করে উইকেট নেন মুজিব-উর-রহমান, সানজামুল ইসলাম ও সৌম্য। ৭৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে কুমিল্লা। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ও অধিনায়ক ডেভিড মালান (৩) এ দিন ছিলেন নিষ্প্রভ। সৌম্য ৩৬ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে হাফসেঞ্চুরি করেন, কিন্তু ম্যাচ জেতাতে পারেননি। ৪৮ বলে ৫ চার ও ৬ ছয়ে ৮৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। রাসেল, মোহাম্মদ ইরফান ও ফরহাদ রেজার মতোই একটি উইকেট নেন মালিক। মালানের ক্যাচও নেন তিনি। তাতে অলরাউন্ড পারফর্ম করে ম্যাচসেরা হয়েছেন পাকিস্তানি তারকা। এই জয়ে ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রাজশাহী। দুই ম্যাচ বেশি খেলে তাদের চেয়ে ২ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শীর্ষে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স (১২)।
সন্ত্রাস-দুর্নীতি সমাজকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে: জিএম কাদের
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল মানুষ ভোগ করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টি (জাপা)-এর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। তিনি বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে শূন্যতা বিরাজ করছে। সহমর্মিতা ও সহনশীলতার রাজনৈতিক প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসছে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদক এখনও সমাজ জীবনকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে।’ শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দলটির নবম সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে কাউন্সিলরদের কণ্ঠভোটে দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন করে জাপার প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদকে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হয়। তবে, সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না রওশন এরশাদ। তিনি কেন আসেননি, তা নিয়ে জাপার চেয়ারম্যান, মহাসচিব বা প্রেসিডিয়াম সদস্যদের কেউ কিছু বলেননি। তবে, সম্মেলনে একপর্যায়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার বক্তব্যে জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন। তখন উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে দালাল-দালাল বলে সম্বোধন করেন। এসময় আনিসুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের নির্দেশে জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করছি।’
জাপার সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে একমাত্র উপস্থিত ছিলেন দলটির জোটসঙ্গী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি এখনও আসেনি অভিযোগ করে জিএম কাদের বলেন, ‘আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণে এখনও অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে।’ জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ছাড়াই সম্মেলন হচ্ছে উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, ‘তাকে ছাড়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই শূন্যতা শুধু এই সম্মেলনেই বিরাজ করছে না, গোটা দেশ ও জাতি তার অভাব অনুভব করছে। এরশাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।’
বক্তব্যের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে জিএম কাদের বলেন, ‘তিনি এই বাংলাদেশ সৃষ্টি করে আমাদের একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করেছেন। আমি স্মরণ করছি গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকেও।’ ঐতিহাসিক প্রয়োজনে জাপার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল উল্লেখ করে দলটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সে পরিপ্রেক্ষিতে এই মুহূর্তে দেশের জন্য ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে প্রত্যেক নেতা-কর্মী-সমর্থককে প্রস্তুত হতে হবে। সেই পথ চলার একপর্যায়ে অনুষ্ঠিত হলো এই সম্মেলন। এখান থেকে অঙ্গীকার নিয়ে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়তে হবে। গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’
জাপা নেতিবাচক রাজনীতি করে না বলে উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, ‘আমাদের অতীতের সফলতা এখনও জাতি স্মরণ করে। জাতি হতাশা থেকে মুক্তি চায়, জাতি স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সুস্থ-স্বাভাবিক সামাজিক পরিস্থিতি চায়। দেশবাসী মনে করে, তাদের এই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে জাপা। অতীতের ৯ বছরে আমরা তার প্রমাণ দিয়েছি।’ এ সময় জিএম কাদের ১৮ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা/বিকেন্দ্রীকরণ, ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়া, কৃষকের কল্যাণ সাধন, সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা, সারা দেশে পর্যায়ক্রমে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, ফসলি জমি সংরক্ষণ, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা পদ্ধতির সংশোধন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সড়ক নিরাপত্তা, গুচ্ছগ্রাম পথকলি ট্রাস্ট পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পল্লি রেশনিং চালু করা, শিল্প ও অর্থনীতির অগ্রগতি সাধন ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা।
সম্মেলনে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছাড়াও গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ৭টি কো-চেয়ারম্যান, ৮টি অতিরিক্ত মহাসচিবের পদ সৃষ্টি করা হয়। এছাড়া তরুণ পার্টি, মোটর শ্রমিক পার্টি ও হকার্স পার্টিকে দলের অঙ্গ সংগঠনের মর্যাদা দেওয়া হয়। তবে, জাপার কেন্দ্রীয় কমিটি কত সদস্যবিশিষ্ট হবে, তা জানানো হয়নি। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, গোলাম কিবরিয়া টিপু, অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মো. আবুল কাশেম, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সাহিদুর রহমান, মুজিবুল হক চুন্নু, সালমা ইসলাম, সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, এ টি ইউ তাজ রহমান, সোলায়মান আলম শেঠ, নাসরিন জাহান রত্না, আব্দুর রশীদ সরকার, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, মুজিবর রহমান সেন্টু, সফিকুল ইসলাম সেন্টু, লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, মো. মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, সৈয়দ দিদার বখত, নাজমা আখতার, আব্দুস সাত্তার মিয়া, এমরান হোসেন মিয়া, মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল, লিয়াকত হোসেন খোকা, সেলিম ওসমান প্রমুখ।
হাসপাতালেই তদন্ত কমিটির মুখোমুখি নুর
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে ভিপি নুরুল হক নুর এবং তার সঙ্গীদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নুরের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধান করেছে। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার কিছু পরে তদন্ত কমিটির সদস্যরা নুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। তদন্ত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে ভিপি নুর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত কমিটির সদস্যরা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তারা ওইদিনের হামলার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।’ তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে মন্তব্য করে নূর বলেন, ‘ঘটনা ঘটার পরে এরকম তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু ব্যবস্থা নিতে আমরা দেখি না।’
ডাকসু ভবনে ভিপি নুরুল হক নুর এবং তার সঙ্গীদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে ঘটনার পরদিন গত ২৩ ডিসেম্বর ছয় সদস্যের এ কমিটি গঠন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনা তদন্ত করে কমিটিকে ছয় কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। হামলার ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক’ উল্লেখ করে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘এই ঘটনাটি কেন ও কীভাবে সংঘটিত হলো এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করার জন্য কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন–শামসুন নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ সুপ্রিয়া সাহা, সিনেট সদস্য অসীম সরকার, ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রাধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন, সিন্ডিকেট সদস্য মো. মিজানুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ মাঈনুল করিম। প্রসঙ্গত, গত ২২ ডিসেম্বর দুপুরে ডাকসু ভবনে নিজ কক্ষে ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর গায়েব হয়ে গেছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ। কারা এই ফুটেজ নিয়ে গেছে প্রশাসনসহ কেউ বলতে পারছে না। হামলার সঙ্গে ছাত্রলীগ এবং মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ ভিপি নুরের। তবে প্রথম দিন থেকেই ছাত্রলীগ হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। এ ঘটনার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
বুমরাহর ওপর রেগে আগুন দ্রাবিড়
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে অবশেষে ভারতীয় জাতীয় দলে ফিরে এসেছেন পেসার জসপ্রিত বুমরাহ। তবে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে বুমরাহদের। ব্যাঙ্গালুরুতে চলছে টিম ইন্ডিয়ার জোর অনুশীলন। বিশাখাপত্তনম থেকে দলের সঙ্গেই ব্যাঙ্গালুরু চলে যান বুমরাহ। তবে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় ব্যাঙ্গালুরুতে ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে রাহুল দ্রাবিড়ের অধীনে ফিটনেস টেস্ট দেয়ার জন্য। কিন্তু বুমরাহ ব্যাঙ্গালুরু গিয়েও ফিটনেস টেস্টের জন্য কোনো যোগাযোগ করেননি ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে। মূলতঃ এ কারণেই বুমরাহর ওপর খুব ক্ষেপে ওঠেন ভারতের একাডেমির কোচ রাহুল দ্রাবিড়।
রাহুল দ্রাবিড়ের অধীনেই ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে অনুশীলনে ব্যস্ত ভারতীয় ক্রিকেট দল। তবে বুমরাহ নিজেই একজন বিশেষজ্ঞ রেখেছেন তার ফিটনেস ঠিক করার জন্য। এ কারণেই হয়তো ফিটনেস পরীক্ষা দিতেই অস্বীকৃতি জানান তিনি। ভারতীয় মিডিয়ার খবর, রাহুল দ্রাবিড়রা বুঝতেই পারছেন না কিভাবে, তারা বুমরাহর নিজের মত করে ফিটনেস টেস্ট নেবেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, জসপ্রিত বুমরাহ কোনোভাবেই ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে যেতে রাজি নন। বিশেষ করে সিনিয়র অনেক ক্রিকেটারের কাছে নাকি তিনি শুনেছে, ক্রিকেট অ্যাকাডেমি ক্রিকেটারদের জন্য কোনো কোনো অর্থে ভয়ঙ্কর।
উত্তরে তাবিথ দক্ষিণে ইশরাক
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তাবিথ আউয়ালকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এছাড়া দক্ষিণে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন ইশরাক হোসেন। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মেয়র পদে দুই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে মেয়র পদে তিন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎ নেন তারা। এ সময় লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপে যুক্ত হয়ে দুই প্রার্থীকে পরামর্শ দেন।
মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমিরউদ্দীন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আব্দুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন। গত শুক্রবার ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপির তিন নেতা। তারা হলেন আসাদুজ্জামান রিপন, তাবিথ আওয়াল ও ইশরাক হোসেন। এদিন বিকেল ৪টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী তাবিথ আওয়াল এবং ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী ইশরাক হোসেন একসঙ্গে আসেন।
প্রথমে তাবিথ আওয়াল এবং পরে ইশরাক হোসেন দলীয় মনোনয়নপত্র বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের কাছে জমা দেন। এরপর ডিএনসিসিতে মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে কাউন্সিলর পদে বিএনপির মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৪৭৬ প্রার্থী। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি দফতর সম্পাদক এবিএমএ রাজ্জাক জানান, কাউন্সিলর পদে তিন দিনে সর্বমোট ১৯৬টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৪টি। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ সব কয়টি মনোনয়ন ফরম জমা পড়েছে। ঢাকার দুই সিটির তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর, বাছাই ২ জানুয়ারি, প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ জানুয়ারি, ভোট গ্রহণের দিন ৩০ জানুয়ারি। দুই সিটির ভোটগ্রহণ ইভিএমে নেয়ার কথা জানায় নির্বাচন কমিশন।
জানুয়ারিতেই মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘এই জানুয়ারি মাসেই মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে। সে লক্ষ্যে ওয়েবসাইটে রক্ষিত পুরনো তালিকা স্থগিত করা হবে। অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম যাচাই-বাছাই করে সেগুলো বাতিল করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপত্তি যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের আইডি কার্ড দেওয়া হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের আধুনিক কার্ড দেওয়া হবে, যাতে কেউ জালিয়াতি করতে না পারে।’ জানুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি করে পাসপোর্ট সাইজের ছবি স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে যশোর সদরের খাজুরায় মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ’ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের আগামী প্রজন্মকে যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও বীরত্বের কাহিনী জানাতে হবে, ঠিক তেমনই হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামসের হত্যা, নারী নির্যাতন, দমনপীড়ন আর তাদের পৈশাচিকতা সম্পর্কেও অবহিত করতে হবে। যাতে করে তারা উভয়পক্ষের কথা জেনে বিচার করতে পারে। না হলে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ আর বীরত্বের কথা ভুলে যাবে।’ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বর্তমান সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের যেন আর কষ্ট করে ব্যাংকে গিয়ে টাকা তুলতে না হয়, সেজন্য সরকার তাদের মোবাইলেই ভাতার টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। তাতে করে মুক্তিযোদ্ধারা বাড়িতে বসেই তাদের প্রাপ্য অর্থ পাবেন।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে ৩০ বছরই ক্ষমতায় ছিল মোশতাক, জিয়া, এরশাদ, খালেদা গং। আর বঙ্গবন্ধু সাড়ে তিন বছর এবং তার কন্যা শেখ হাসিনা ১৬ বছর। কিন্তু তারা দেশের জন্যে যে কাজ করেছে, তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি কাজ হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।’ তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেন, “জয় বাংলা’ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। আপনারা নিজ নিজ সন্তানকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভালোভাবে শিক্ষা দিন। তারা যদি ‘জিন্দাবাদের’ স্লোগানে লিপ্ত হয়, তাহলে আমাদের আর ইজ্জত থাকবে না।”
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এমএন মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এসএম আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রাজেক আহমেদ প্রমুখ। বক্তৃতাকালে পল্লি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা যদি বিজয় লাভ না করতে পারতাম, তাহলে হানাদার ও তাদের দোসররা আমাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতো। আমরা সৌভাগ্যবান, কেননা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছি। লাল-সবুজের এই পতাকা পেয়েছি। সেই যুদ্ধে বন্ধুরাষ্ট্র সহায়তা করেছিল; খাজুরায় যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর ছয় সদস্য আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। আমরা তাদের স্মৃতি চিরজাগরূক রাখতে চাই।’
যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘দেশের যে যে স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রয়েছে, যেখানে যেখানে বধ্যভূমি রয়েছে, সম্মুখযুদ্ধের ঘটনা রয়েছে, সেসব স্থানে বর্তমান সরকার স্মৃতিসৌধ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সময়ের বিবর্তনে আমরা একদিন হারিয়ে যাবো। কিন্তু এসব স্মৃতিসৌধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা চিরঅম্লান থাকবে। যারা নিজেদের জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে দেশমাতৃকার সম্ভ্রম রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তাদের ঋণ কোনোভাবেই শোধ করা সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার আগামী প্রজন্মের কাছে তাদের সেই বীরত্বগাথা অটুট রাখতে নিরলস কাজ করে চলেছে।’ বেলা সাড়ে ১১টায় খাজুরা এমএন মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক কোণে নির্মিত এই স্মৃতিসৌধের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। এসময় তার সঙ্গে অন্যান্য অতিথিসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ১৯৭১ সালে যশোর মুক্ত দিবসের পরদিন ৭ ডিসেম্বর সকালে খাজুরায় রাজাকারদের সঙ্গে মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ হয়। সেদিন রাজাকাররা মিত্রবাহিনীর ছয় জনকে গুলি করে হত্যা করে এবং একজন সদস্য আহত হন। পরে মিত্রবাহিনী রাজাকারদের ক্যাম্প ধ্বংস করে এবং তাদের প্রত্যেককে হত্যা করে। ঠিক এই স্থানেই নির্মাণ করা হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ’। স্মৃতিসৌধের বেদি থেকে ১৪ ফুট উঁচু স্তম্ভ শ্বেত পাথরের। পুষ্পার্ঘ অর্পণের জন্য নির্মিত স্টেজটি কালো গ্রানাইটের, বেদি লাল সিরামিক ইট এবং স্তম্ভের মাঝে বৃত্তের অর্ধেক (বামপাশে) টকটকে লাল এবং বাকি অর্ধেক অংশ (ডানপাশে) সবুজ রঙের।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে ইরানের জ্বালানি তেল রফতানিতে
নভেম্বরের শুরুতে ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি খাতে। নভেম্বরে এশিয়ার দেশগুলোয় ইরানের প্রধান রফতানি পণ্য জ্বালানি তেলের চালান আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কমে পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এশিয়ার কয়েকটি দেশ ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে বিশেষ ছাড় পাওয়ার পরও এ পরিস্থিতি তেহরানের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।
ইরান থেকে রফতানি হওয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রধান ক্রেতা চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত। নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর ইরান থেকে এশিয়ার এ চার দেশে জ্বালানি পণ্যটির মাসভিত্তিক রফতানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য যুক্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স। ইরানের সরকারি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের নভেম্বরে ইরান থেকে এ চার দেশে প্রতিদিন গড়ে ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৮০০ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৭ শতাংশ কম। গত পাঁচ বছরের মধ্যে নভেম্বরে এটাই ইরান থেকে এশিয়ার দেশগুলোয় জ্বালানি তেল রফতানির সর্বনিম্ন রেকর্ড।
২০১৮ সালের অক্টোবরে ইরান থেকে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতে প্রতিদিন গড়ে ৭ লাখ ৬২ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছিল। সেই হিসাবে অক্টোবরের তুলনায় গত নভেম্বরে এ চার দেশে ইরান থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি কমেছে দৈনিক ৯৮ হাজার ব্যারেল।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে থেকেই ইরান থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি কমিয়ে দিতে এশিয়ার দেশগুলোর ওপর চাপ তৈরি করেছিল ওয়াশিংটন। এর জের ধরে আগস্টের পর থেকেই ইরানি জ্বালানি তেল আমদানি কমিয়ে দেয় জাপান। এক পর্যায়ে ইরান থেকে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি স্থগিত করে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে ভারত দেশটি থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছিল।
নভেম্বরের শুরুতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ইরান থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে আটটি দেশকে বিশেষ ছাড় দেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ তালিকায় চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত রয়েছে। ছাড় পাওয়ার পরও এ চার দেশে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি বাড়াতে পারেনি তেহরান। অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে এসব দেশে ইরান থেকে জ্বালানি তেল রফতানি আরো কমেছে।
এ বিষয়ে রয়টার্সের বিশ্লেষক ওয়াং তাও বলেন, ইরানি জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এশিয়ার দেশগুলো। ছাড়ের আওতায় থাকলেও এসব দেশ ইরান থেকে জ্বালানি পণ্যটি কিনছে না। এটি ইরানি অর্থনীতির জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি ইরানের ক্রমবিকাশমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ করতে পারে।










