লোকসমাজ ডেস্ক ॥ প্রধান আর্থিক জোগানদাতা রাজস্ব খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অর্থ পাচ্ছে না সরকার। আবার দেশের বাইরে থেকেও আগের মতো ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ সরকারের খরচ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিয়ে চলতে হচ্ছে সরকারকে। এই ঋণের টাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনও দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ছয় মাস না যেতেই এই অর্থবছরের পুরো টাকাটাই নিয়ে ফেলেছে সরকার। এতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ব্যাংক খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যেও। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন বছরে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে। তাদের মতে, সামনের দিনগুলোতে আরও খারাপ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। অর্থনীতিতে একটা বড় ধাক্কা লাগতে যাচ্ছে। ব্যাংকের টাকা উৎপাদনশীল খাতের চেয়ে অনুৎপাদনশীল খাতে বেশি যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ব্যাংকের টাকা উৎপাদনশীল খাতে গেলে অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি অব্যাহতভাবে কমছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হচ্ছে। অন্যদিকে রাজস্ব আয় না বাড়ার ফলে সরকার ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ নেবে বলে ঠিক করেছে। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই সরকার ৪৪ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা ধার হিসেবে নিয়েছে। এই অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ধারের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত অর্থবছরের শেষ দিকে সরকারের টাকার টান পড়ে বেশি। কিন্তু এবার অর্থবছরের শুরুতেই টাকার টান পড়েছে। ফলে প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক থেকে টার্গেটের প্রায় সমান ধার নিয়ে ফেলেছে সরকার। এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আয়ের প্রধান তিন খাতেই আদায় কমেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর এমএ তসলিম বলেন, ‘সরকার রাজস্ব খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত হারে টাকা পাচ্ছে না। আবার বিদেশ থেকেও আগের মতো ঋণ আসছে না। ফলে সরকার বাধ্য হয়েই ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ১০ বছরের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের সবচেয়ে বেশি ধার করার রেকর্ডটি ছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরের। ওই অর্থবছরে ধার নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। অথচ এই অর্থবছরের পাঁচ মাসেই পুরো অর্থবছরের টাকা নেওয়া শেষ করেছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বেসরকারি ব্যাংক থেকে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা যে পরিমাণ ঋণ পাচ্ছে, সরকার ঋণ পাচ্ছে তার চেয়েও বেশি। গত ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের কাছে ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সরকারের কাছে পাবে ১ লাখ ১০ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাবে ৪১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে গত ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত (সাড়ে ৫ মাসে) সরকার ব্যাংক খাত থেকে টাকা ধার নিয়েছে ৪৪ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে ৭ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা; আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নিয়েছে ৩৬ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। এভাবে চলতে থাকলে বেসরকারি খাত চাহিদামতো ঋণ পাবে না বলে মনে করেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের টাকা ধার নেওয়ার প্রবণতা বাড়লে কর্মসংস্থানের বাধা সৃষ্টিসহ জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপও বেড়ে যাবে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণে সরকারের মনোযোগ দেওয়া জরুরি। তার মতে, উচ্চ সুদে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে ব্যাংক থেকে নেওয়া মন্দের ভালো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবরে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ২২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সরকারের ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে এই অর্থবছরে এনবিআরকে সার্বিকভাবে প্রায় ৪৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। অথচ চার মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশের কিছু বেশি। এই সময়ে আয়কর, শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট—কোনও খাতেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। যদিও চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করার টার্গেট দেওয়া আছে। এদিকে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার কথা ২৭ হাজার কোটি টাকা। তবে সঞ্চয়পত্র কেনায় নিয়মকানুন কড়াকড়ি করায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে গেছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে কেবল ৫ হাজার ৫২১ কোটি টাকার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ধার করার কথা সরকারের। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়ার কথা ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় আশানুরূপ ঋণ পাচ্ছে না বেসরকারি খাত। গত কয়েক মাস ধরে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিক কমছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে বেসরকারি খাতে ঋণের হার কমেছে প্রায় দশমিক ৬২ শতাংশ। অক্টোবরে ১০ দশমিক ০৪ শতাংশ ছিল ব্যাংক ঋণের হার। এই হার গত দশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের অক্টোবরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ০৪ শতাংশ হয়েছে। যা আগের মাস, সেপ্টেম্বরে ছিল ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আগস্টে ছিল ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ’ এর চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকার যেভাবে ঋণ নিচ্ছে তাতে বেসরকারি খাত কিছুটা বাধাগ্রস্ত তো হবেই। চলমান প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে, আগামীতে সরকারের ঋণের পরিমাণ আরও বাড়বে।’ এতে ব্যাংক খাতে কিছুটা প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টার্গেটের চেয়ে এখন কিছুটা ঘাটতি থাকলেও বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে এনবিআর। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ সব শহরের বাড়িওয়ালারা যাতে সরকারকে ট্যাক্স দেয়, সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বরধারী (টিআইএন) সবাই যাতে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন, সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আশা করা যায়, সবকিছু ঠিক থাকলে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হলে সরকারের ব্যাংক ঋণও কমে আসবে।’
ধারে চলছে সরকার
অনিয়ম করলে বিমানে চড়া বন্ধ, মন্ত্রী-এমপিদের শেখ হাসিনা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি), বিভিন্ন সংস্থার প্রধান এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আপনারা বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানকার আইন-কানুন মেনে চলবেন। কেউ আইন-কানুন লঙ্ঘন করবেন না। যদি কেউ অনিয়ম করেন, তাহলে তার বিমানে চড়া বন্ধ হয়ে যাবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়ম কানুন মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং এটাকে কেউ অবহেলা করবেন না।’ শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে নতুন যুক্ত হওয়া ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯ সিরিজের নতুন দুই উড়োজাহাজ ‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখি’ উদ্বোধনের পর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানে যাত্রী সেবার পাশাপাশি লাভের বিষয়টাও দেখতে হবে। টিকিট নেই, বিমান খালি যায়, এ অবস্থা যেন না চলে। এছাড়া বিমানে যাত্রীরা যাতে হয়রানি না হয় সেজন্য কর্তৃপক্ষকে কড়া নজরদারি করতে হবে। আমাদের দেশে যারা বিদেশে থাকেন তারা অত্যন্ত কষ্ট করে পয়সা উপার্জন করেন। তাদের পাঠানো টাকায় বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়। তারা যেন কোনোক্রমেই এ বিমানবন্দরে নেমে হয়রানির শিকার না হয় এ বিষয়টা লক্ষ্য রাখতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ আমরা তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলাম। এখানে কার্গো বিমান নামার ব্যবস্থা থাকবে। কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলা হবে। আমারা দুটি কার্গো বিমান ক্রয় করব। কারণ কার্গো বিমানে লাভ বেশি। তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করাটা বিশাল একটা কর্মযজ্ঞ। এ টার্মিনাল নির্মাণ কাজ এবং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯ সিরিজের নতুন দু’টি উড়োজাহাজ ‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখি’ ক্রয় আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের আরেকটি সূচক।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন অনুযায়ী বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত এবং উন্নত দেশ হিসেবে গড়তে চাই। এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শুধু বিমান নয় অন্য সেক্টরেও আমরা উন্নয়ন করছি। যে কারণে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনকালে আমরা বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে উদযাপন করব। বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমরা নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে পরিণত হবে। আমরা ডেল্টা প্লান ২১০০ প্রণয়ন করেছি। আগামী প্রজন্ম যেন সুন্দর ও সুস্থভাবে একটা উন্নত দেশে জীবন-যাপন করতে পারে সেই পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের উন্নয়নের জন্য সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতিবাজ যেই হোক, যত বড় শক্তিশালী হোক তাকে ছাড়া হবে না। দেশের সাধারণ মানুষ দিন রাত খেটে মরবে তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে না। অথচ অনিয়ম দুর্নীতি করে কেউ কেউ রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাবেন এটা চলবে না। দুর্নীতি করলে তাকে শাস্তি পেতে হবেই।’
আশা নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলাম, কিন্তু পারিনি : মির্জা ফখরুল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ অত্যন্ত আশা নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলেন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিন্তু গণতন্ত্রের সংগ্রামে জয়ী হতে পারিনি। শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আশা নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলাম। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সংগ্রাম জয় করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা পারিনি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের পারতে হবে, আমাদের আরও বৃহত্তর ঐক্য তৈরি করতে হবে। শুধু ঐক্যফ্রন্ট এবং অন্যান্য কোনো জোট নয়, দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আমাদের লড়াই করতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’
বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক সংকট চলছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সংকট সমাধান জনগণের অভ্যুত্থান বা জনগণের আন্দোলন ছাড়া কখনোই সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘জাসদ সৃষ্টি হয়েছিল স্বাধীনতার মূল চেতনাকে গড়ে তোলার জন্য। সেই লড়াইয়ে জাসদ এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের ঠিক একই কথা স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর এসেও আমাদের বলতে হচ্ছে যে আমরা গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব। আমাদের গণতান্ত্রিক মুক্তি আসবে, আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা আর সেই স্বপ্নগুলো ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল আওয়ামী লীগ। সেদিন তারা সমস্ত পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে মানুষের অধিকার হরণ করে নিয়েছিল। এখন আবার তারা ভিন্ন আঙ্গিকে ভিন্ন মুখোশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে।’ এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারার (একাংশ) সভাপতি নুরুল আমীন বেপারী, বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।
বিমানবন্দরে নিয়ম না মানা ভিআইপিদের সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ দেশের ভিআইপিদের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ম অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, কেউ এই নিয়ম ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে বিমান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হবেন। তিনি বলেন, ‘এখানে আমি স্পষ্ট বলতে চাই, আমাদের যারা সংসদ সদস্য আছেন, আমাদের এখানে মন্ত্রীরা আছেন, বাহিনী প্রধানরা আছেন বা অন্যান্য ঊর্ধ্বতন অফিসাররাও আছেন, দয়া করে আপনারা যখন বিদেশে যান, যেভাবে নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করা হয়, ঠিক সেভাবে আমাদের বিমানবন্দরে করতে হবে। সেটা সবাইকে মেনে নিতে হবে।’
শনিবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ অনুষ্ঠান থেকেই ‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখি’ নামে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি নতুন ড্রিমলাইনার বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং বিমানের একটি নতুন মোবাইল অ্যাপসেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, সকলকেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে হবে এবং কেউ অনিয়ম করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বাঁধা তৈরি করে, তবে তাকে বিমানে ভ্রমণের সুযোগ দেয়া হবে না। আর আমি এটা অবশ্যই করব, আপনাদের সকলকে এটা মনে রাখতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সারাদিন দেশের জন্য কাজ করি। কাজেই কোথায় কী হয়, না হয়, খোঁজ-খবরগুলো নেওয়ার চেষ্টা করি। তাই কেউ সেখানে কোনো রকম অনিময় বা ব্যত্যয় ঘটাতে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু আমার কাছে খবরটা চলে আসে। এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে। আমরা বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।’ আন্তর্জাতিকভাবে বিমানবন্দরে যেসব নিয়ম অনুসরণ করা হয় সেসব নিরাপত্তা বিধি ও নিয়ম বিমান যাত্রীদের মেনে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়কারী প্রবাসীদের বিশেষ যত্ন নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জনশক্তি রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করি। আমাদেরকে তাদের (প্রবাসীদের) দেয়া সুযোগ-সুবিধাগুলো দেখতে হবে। বিমানবন্দরে যেনো তাদেরকে কোনো ধরনের হয়রানির করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে বিশেষভাবে কাজ করতে হবে।’ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর সভাপতিত্বে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আরএএম ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক, জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো, জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান হিতোশি হিরতা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সূত্র : ইউএনবি।
সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলছে না : ড. কামাল হোসেন
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। জেএসডির কাউন্সিলে আসা নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি লক্ষ্য করেছি সবাই একটা পরিবর্তন চাচ্ছে। পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে। আমি বিশ্বাস করি আপনারা এখান থেকে গিয়ে সবাই পরিবর্তনের সৈনিক হিসেবে কাজ শুরু করবেন। শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জেএসডির ৯ ম কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের মানুষ অন্ধ না, দেশের মানুষের বিচার করার ক্ষমতা আছে। আমি সবার কাছে বলছি যে কয়েকটি অনুষ্ঠানকে নির্বাচন বলে চালানো হয়েছিলো সেটাকে নির্বাচন হিসেবে আমরা মেনে নিতে পারি না। আমি বলবো যারা সরকারে আছেন ও তাদের সমর্থক তারা এরকম দাবি করে মনে করবেন না মানুষ অন্ধ, দেশের মানুষের মধ্যে সে বিচার করার ক্ষমতা নেই। তিনি বলেন, আমি সবচেয়ে বেশি আশাবাদী সেই সত্তরের দুর্দিনে যখন সারা পৃথিবীর মানুষ বলতেছিল এমনকি একাত্তরেও বলতেছিল স্বাধীনতা অসম্ভব। কি করে হবে এটা হতে পারে না। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলাম। এটাই প্রমাণ করে বাংলার মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। এ কারণেই আমি বলি আমাদের নিরাশ হওয়ার কোন কারণ নেই।
ড. কামাল বলেন, পাকিস্তান আমলে যে ধরনের স্বৈরশাসক ছিল এবং তাদের পেছনে যে বৃহৎ ক্ষমতা ছিল তাতে কেউ ভাবতে পারেনি যে আমরা স্বাধীন হতে পারব। আমাকে তখন বলা হয়েছিল যে দেখেন আপনারা বাঙালিরা কাল্পনিক চিন্তা করেন। কি করে আপনারা স্বাধীনতার চিন্তা করেন? যে এত বড় শক্তিশালী আপনাদের কেন্দ্রীয় সরকার যাদের এত বড় আর্মি, এত বড় নেভি, এত বড় এয়ারফোর্স এতে কি করে আপনার ভাবতে পারেন যে স্বাধীনতা লাভ করবেন? সেই স্বাধীনতা তো আমরা শুধু লাভ করেনি আজকে পঞ্চাশ বছর হতে যাচ্ছে আমরা সেটা ধরে রেখেছি। ড. কামাল হোসেন বলেন,সরকারের পক্ষ থেকে যে উন্নয়ন উন্নয়ন বলা হচ্ছে কিন্তু কত ঋণের বোঝা বাড়ছে? কত টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে এগুলোর তথ্য পত্রিকায় পাবেন। তারা উন্নয়নের দাবি করছে সেটা করুক কিন্তু এসব ব্যাপারে সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের জবাবদিহিতা করার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, উন্নয়ন উন্নয়ন উন্নয়ন!! এই উন্নয়ন যারা আমরা বয়স্ক লোক আইয়ুব খানের আমল দেখেছি তারা উন্নয়নের বক্তব্য শুনতে শুনতে আইয়ুব খানের পতন ও দেখেছি। এই উন্নয়নের কথা বলে বলে যে পতন হয় এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছিল ইয়াহিয়া খান ও আইয়ুব খান এর সময়। যারা সবসময় এটা জোর দাবি করেছে যে উন্নয়ন উন্নয়ন উন্নয়ন!! কিন্তু তথ্য গুলো দেখান যাতে তথ্য দেখে বোঝার ক্ষমতা আছে। এইযে এতদিনের বোঝা বাড়ছে কেন? ঋণ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানো হচ্ছে কেনো? কারণ ওদের কে খুশি করে যদি আরো কিছুদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়। কিন্তু এই ঋণ এর দ্বারা আমাদের রাজস্ব আয় কমে যাচ্ছে। ট্যাক্স থেকে টাকা তুলে সরকার দেশটা চালাতে পারছে না।
সুজন সম্পাদক ইভিএম নিয়ে বলার মতো উপযুক্ত ব্যক্তি নন : সিইসি
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম নিয়ে বলার মতো দক্ষ ও উপযুক্ত ব্যক্তি নন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। শনিবার দুপুরে বরিশালে আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ মন্তব্য করেন। এর আগে, নির্বাচন কমিশনের উপর জনগণের আস্থা নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বরিশালে মতবিনিময় সভায় সুজন সম্পাদকের এমন বক্তব্যের উদ্ধৃতি টেনে ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন করলে সিইসি বলেন, বদিউল আলম মজুমদারকে আমি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম নিয়ে বলার মতো দক্ষ ও উপযুক্ত ব্যক্তি মনে করি না। ঢাকার দুই সিটিতেই ইভিএম-এ ভোট হবে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন ত্রুটিমুক্ত করার জন্যই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করব। যাতে লোক ভোট দিতে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পারে। এখানে ত্রুটিযুক্তর কোনো সুযোগ আমরা রাখতে চাই না। তবে নির্বাচন কর্মকর্তারা ইভিএমকে ত্রুটিযুক্ত বললে সিদ্ধান্ত পাল্টানো যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে ইভিএম পাঠানোর কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির ৮ কেন্দ্রে এবং দক্ষিণ সিটির ১১ টি কেন্দ্রে ইভিএম সংরক্ষণ করা হবে ভোটের আগ পর্যন্ত। দুই সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান, কেন্দ্রে কেন্দ্রে ইভিএম পৌঁছালে সেখান থেকেই প্রদর্শনী ও মক ভোটিংয়ের আয়োজন করা হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হব দুই সিটির ভোট।
২ শিশুকন্যাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালকের মর্মান্তিক মৃত্যু
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক ও তার দুই শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। হতাহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। শনিবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের ছলিমপুরস্থ ফৌজদারহাট-বন্দর সংযোগ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক সাইফুজ্জামান মন্টুর ও তার দুই মেয়ে তাসফিয়া (১৪) ও তাসরিন (১২)। দুর্ঘটনায় সাইফুজ্জামান মন্টুর স্ত্রী কনিক আক্তার (৩৫) ও ১০ বছরের শিশুপুত্র মন্টি আহত হয়েছেন। জানা গেছে, সপরিবারে বান্দরবান ঘুরতে গিয়েছিলেন সাইফুজ্জামান মন্টু। সেখান থেকে ঢাকা ফেরার পথে সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, সকালে ফৌজদারহাট বন্দর সড়কের মোডে একটি লরি বন্দর সড়কে যাওয়ার জন্য মোর নেয়ার সময় দুটি প্রাইভেট কারকে ধাক্কা দেয়। এ সময় একটি প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শিশুর মৃত্যু হয়। আহত হন তাদের বাবা-মাসহ অপর এক শিশু। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর সাইফুজ্জামান মন্টু মারা যান। বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার এসআই কাউছার বলেন, আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত প্রাইভেট কারটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লরিটি আটক করা সম্ভব হয়নি।
সয়াবিন তেলের মূল্য বেড়েছে লিটারে ১৪ টাকা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বেড়েই চলেছে সয়াবিন তেলের মূল্য। গত তিন সপ্তাহে লিটারে বেড়েছে ১০ থেকে ১৪ টাকা। বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের পাশাপাশি বেড়েছে পাম অয়েলের মূল্যও। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, মানিকনগর, কারওয়ান বাজার এলাকার দোকানগুলোয় এই চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১২ ডিসেম্বর থেকে বেড়েছে ভোজ্য তেলের মূল্য। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা এই পণ্যটির মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেল ও খোলা পাম অয়েলের মূল্য। গত তিন সপ্তাহে খোলা পাম অয়েল লিটারে বেড়েছে ১৪ টাকা। ডিসেম্বরের শুরুতে প্রতি লিটার খোলা পাম অয়েলের মূল্য ছিল ৬০ টাকা। গত ১৩ ডিসেম্বর ৫ টাকা বেড়ে ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়। ২০ ডিসেম্বর আরও ৫ টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ টাকা। আর এই সপ্তাহে লিটারে ৪ টাকা বেড়ে শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) এই খোলা পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে ৭৪ টাকায়।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও মৌলভী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, ‘শীত যত বাড়বে। সয়াবিন তেল ও পাম অয়েলের মূল্য ততই বাড়বে।’ তিনি বলেন, ‘প্রথমত, মিল মালিকরা সয়াবিন তেলের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, শীত বেড়ে যাওয়ায় পাম অয়েল জমাট বেঁধে গেছে। ফলে সয়াবিনের ওপর চাপ বেড়েছে। এতে পাইকারি বা খুচরা পর্যায়ে সয়াবিন ও পাম অয়েলের মূল্য বেড়েছে।’ এদিকে, সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশ অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তথ্য বলছে, সব ধরনের সয়াবিন তেলের মূল্য বেড়েছে। গত এক মাসে খোলা পাম অয়েলের মূল্য বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তবে, মুদি দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খোলা সয়াবিনে পাশাপাশি বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্যও বেড়েছে। এই সপ্তাহে ৫ লিটার ওজনের প্রতিটির মূল্য বেড়েছে ১০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে অবশ্য ৫ লিটার ওজনের বোতলজাত সয়াবিনের মূল্য বেড়েছিল ১৫ টাকা। অর্থাৎ গত তিন সপ্তাহে প্রতিটি বোতলের মূল্য বাড়লো ২৫ টাকা। ডিসেম্বরের শুরুতে প্রতিটি ৫ লিটার ওজনের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হতো ৪৩০ টাকা করে। ১৩ ডিসেম্বর মূল্য বেড়ে ৪৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) ৫ লিটার ওজনের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৪৫৫ টাকা।
এদিকে, টিসিবির হিসাবে গত এক মাসে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটারে বেড়েছে ৬ থেকে ৮ টাকা। গত নভেম্বর মাসের ২৭ তারিখে এই সয়াবিনের মূল্য ছিল ৮০ টাকা লিটার। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) প্রতি লিটার সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ৮৬ থেকে ৮৮ টাকায়। টিসিবির তথ্য বলছে, একমাস আগে প্রতি লিটার পাম অয়েল (খোলা) বিক্রি হয়েছে ৬২ টাকা। এই সেই পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৭৪ থেকে ৭৬ টাকা। টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে পাম অয়েল (সুপার) এর মূল্য বেড়েছে ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। টিসিবির হিসাবে, এক লিটার ওজনের বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য আগের মতোই থাকলেও ৫ লিটার ওজনের সয়াবিন তেলের মূল্য বেড়েছে ২৫ টাকা। সয়াবিন তেলের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা গেছে। এদিকে, নতুন করে বেড়েছে মসলা জাতীয় পণ্য এলাচের মূল্য। পর্যাপ্ত জোগান থাকার পরও খুচরা বাজারে হঠাৎ এই পণ্যটির মূল্য কেজিতে ২০০ টাকা বেড়েছে। নতুন করে বেড়েছে গুঁড়া দুধের মূল্য, ফার্মের মুরগির ডিম, মশুর ডাল ও নেপালি ডালের মূল্য। কিছুটা কমেছে পেঁয়াজের মূল্য। বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করায় এই নিত্যপণ্যটির মূল্য কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি মিয়ানমার, চায়না, মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। মানিকনগর এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘নতুন পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজি, পাতাসহ পেঁয়াজ ৮০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে।’ তবে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ (নতুন) মানভেদে ৯০ থেকে ১১০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। আর চীনা পেঁয়াজ ১০০ টাকা, মিসর ৬০ টাকা। মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
শীতের সবজি বাড়লেও মূল্য গত সপ্তাহের মতোই। কিছু কিছু সবজির মূল্য বেড়েছে বলে জানান খুচরা ব্যবসায়ীরা। করলা, শিমসহ কয়েকটি সবজির মূল্য বেড়েছে। তবে, কমেছে বিভিন্ন ধরনের শাকের মূল্য। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজার ও মানভেদে করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬০-৭০ টাকা। পাকা টমেটোর কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা। বাজারে ভরপুর শীতের সবজি থাকলেও অনেক সবজির কেজি ৫০ টাকার ওপরে। বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। পেঁপেও ২৫ থেকে ৩৫ টাকা কেজি। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় কেজি। মুলা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। শিমের কেজি ২৫ থেকে ৬০ টাকা। নতুন আলু ও ঢেড়স বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকার মধ্যে। কাচা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।
সাংবাদিকরা এখন কর্মচারীতে পরিণত হয়েছেন: অ্যাটর্নি জেনারেল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ সাংবাদিকরা এখন কর্মচারীতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বৃহত্তর ঢাকা সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সংবাদপত্রকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন ইন্ডাস্ট্রি ওয়ালারা। মিডিয়াগুলো এখন আর সাংবাদিকদের হাতে নেই। মিডিয়াগুলো চলে গেছে ইন্ডাস্ট্রি ওয়ালাদের কাছে। সাংবাদিকরা এখন কর্মচারীতে পরিণত হয়েছেন। মাহবুবে আলম বলেন, সাংবাদিকরা রুটি রুজির জন্য কাজ করে না তারা প্রাণের তাগিদে সত্য উদঘাটনের জন্য কাজ করেন। বর্তমান সময়ে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াগুলো এমন কিছু মালিকের হাতে চলে গেছে যাদের কৃষ্টি-কালচার ও সংস্কৃতি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। তারা সাংবাদিকতা বোঝে না। মিডিয়া হাউজগুলো করপোরেট অফিসে পরিণত হয়েছে এ কারণে প্রতিনিয়ত সাংবাদিকরা চাকরি হারাচ্ছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, আইনজীবী আর সাংবাদিকদের কাজ প্রায় একই ধরণের। আইনজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন আছে। তারা সংগঠনগুলো থেকে বিভিন্ন রকম সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। সাংবাদিকরাও এরকম সংগঠন করতে পারেন। সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজবোর্ড চালু হয়েছে। সাংবাদিক ও মালিকদের একান্ত সহযোগিতায় এটি বাস্তবায়িত হলে তারাও এর সুফল পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মাহবুবে আলম।এ সময় তিনি উল্লেখে করেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে কোনো এলাকার একজন থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানে পিয়ন থেকে শুরু করে সব পদে ওই এলাকার মানুষ চাকরি পেয়ে যান। এতে অন্য জেলার মানুষ বঞ্চিত হয়। এটাকে আমি কুফল হিসেবে দেখি। সুফল সেই প্রতিষ্ঠান যেখানে বাংলাদেশের সব এলাকার মানুষ এক হয়ে কাজ করেন।
এবার নুর-রাশেদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খানের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা হয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর মামলাটি দায়ের করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক এবং হল সংসদের বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক অর্ণব হোড়। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।’ মামলাটি ২৬ ডিসেম্বর নথিভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা মামলাটি তদন্ত করছি। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মামলা দায়েরকারী অর্ণব হোড় বলেন, ‘হামলার দিন নুর ও রাশেদ ফেসবুক লাইভে এসে গুজব ছড়ায়। এছাড়া ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে ডাকসু ভবনে নিজ কক্ষে ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর গায়েব হয়ে গেছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ। কারা এই ফুটেজ নিয়ে গেছে প্রশাসনসহ কেউ বলতে পারছে না। হামলার সঙ্গে ছাত্রলীগ এবং মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ ভিপি নুরের। তবে প্রথম দিন থেকেই ছাত্রলীগ হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। এ ঘটনার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। হামলা ও মারধরের অভিযোগ এনে নুরসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে অভিযোগটি দায়ের করেন ডিএম সাব্বির নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। এর আগে ২৪ ডিসেম্বর ৩৭ জনকে আসামি করে নুরুল হক নুর একটি অভিযোগপত্র দেন শাহবাগ থানায়। এটিও মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।










