রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ রামপালে প্রাথমিক শিা সমাপনী ও এবতেদায়ী সমাপনী পরীায় বরাবরের মত এবারও ধারাবাহিকভাবে সাফল্য ধরে রেখেছে। রামপাল উপজেলার ১২৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ২ হাজার ১৭৫ জন শিার্থী পরীায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ২ হাজার ১৫৩ জন কৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৯৮.৯৮ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১৯ জন। রামপাল উপজেলা প্রাথমিক শিা কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাম জোটের মিছিলে ‘হেলমেটধারীদের’ হামলা, আহত ১০
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ঢাকায় বাম জোটের মিছিলে হামলার প্রতিবাদে সিলেটে আয়োজিত প্রগতিশীল বাম ঐক্য জোটের মিছিলে হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর বন্দরবাজার এলাকার সিটি পয়েন্টে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের মাথায় হেলমেট ছিলো বলে জানান বাম নেতারা। বাম নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন মাথায় হেলমেট পরে ও হাতে লাঠিসোটা নিয়ে মিছিলে হামলা চালায়। এতে তাদের ১০ জন কর্মী আহত হন। এরপর পাল্টা ধাওয়া করলে হামলাকারীরা পালিয়ে পার্শ্ববর্তী বন্দরবাজার পুলিশের ফাঁড়িতে আশ্রয় নেয় । সরকারের একবছর পূর্তিতে সোমবার ঢাকায় মিছিলকালে প্রগিতিশীল বাম জোটের মিছিলে হামলা চালায় পুলিশ। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটে মিছিল বের বাম রাজনৈতিক দলগুলোর এই মোর্চা।
মিছিলে থাকা বাসদ নেতা প্রণব জ্যোতি পাল জানান, মিছিলটি সিটি পয়েন্টে আসার পর আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জনের একটি দল হামলা চালায়। হামলাকারীদের মাথায় হেলমেট ও হাতে লাঠি ছিলো। তাদের হামলায় আবু জাফর, নওশিন, রুবাইয়াত আহমদ রুবা, অনির্বান রায়সহ আমাদের বিভিন্ন সংগঠনের ১০ জন আহত হন। আহতদরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রণব বলেন, পরে আমরা পাল্টা ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেয়। এরপর আমরা মিছিল করে শহীদ মিনারে এসে সমাবেশ করি। শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রগতিশীল বাম ঐক্য জোট, সিলেটের সমন্বয়ক আবু জাফরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উজ্জ্বল রায়, আনোয়ার হোসেন, আব্দুল হাফিজ প্রমুখ। সমাবেশ থেকে হামলাকারীদের গ্রেপ্তােেরর দাবি জানানো হয়।
প্রথম তিন দিনের চেয়ে আমার শরীরের অবস্থা খারাপ : ভিপি নুর
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরকে ছাড়পত্র দিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) কর্তৃপক্ষ। নুরের অভিযোগ পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ার আগেই ঢামেক কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দিয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ফটকে নুর বলেন, ‘হাসপাতালের ট্রিটমেন্ট নিয়ে আমি সন্দিহান। কারণ, আমি পুরোপুরি সুস্থ না। হাসপাতালে ভর্তির প্রথম তিন দিনের চেয়ে শরীরের অবস্থা এখন আরও খারাপ। এখনো নানা জটিলতা আছে।’ পুরোপুরি সুস্থ হতে কোনো বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন বলে জানান নুরুল।
চিকিৎসা নিয়ে ভিপি নুরুলের সন্দেহ প্রকাশের বিষয়টি ‘গুরুতর’ ও ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে হাজার হাজার মানুষকে চিকিৎসা দেয়া হয়। তার (নুরুল) ক্ষেত্রে ভিন্নতার সুযোগ নেই।’ এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় আহত ছাত্রদের ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা যত দিন মনে করেছেন, তত দিন চিকিৎসা দিয়েছেন। সুস্থ হওয়ার পরেই ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। কারণ, হাসপাতাল কারও চিরদিন থাকার জায়গা না।’ হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে নুর সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের এমন হামলার পরও যদি বিচার না হয়, তাহলে অন্য দল ক্ষমতায় এলে একই ঘটনা ঘটবে।’ হামলার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তিন নেতাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে নুরুল বলেন, ‘এটি আইওয়াশ।’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হওয়া মামলার বিষয়ে নুরুল বলেন, ডাকসুর ভিপি হিসেবে তার মেয়াদ আছে আর তিন মাস। মূলত তাকে গ্রেপ্তার করাতেই এই মামলা করা হয়েছে। দেশবাসীর উদ্দেশে নুরুল বলেন, নিজেদের জন্য কিংবা পরিবারের জন্য তার সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোনো আন্দোলন করেন না। তাদের আন্দোলন দমনপীড়নের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নুরুলকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেয়। এর আগে ২২ ডিসেম্বর দুপুরে ভিপি নুরুলের ওপর হামলা চালান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতা-কর্মীরা। এ সময় নুরুলের সাথে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও কয়েকটি কলেজের কিছু ছাত্রসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।
পৌর কাউন্সিলরের শীতবস্ত্র বিতরণ
স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গরীব অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সংশিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিএম মোস্তফা ওয়ার্ডের বিভিন্ন মহল্লায় ঘুরে ঘুরে শীতার্ত মানুষের মাঝে ওই শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। কাউন্সিলরের নিজস্ব অর্থায়নে ২৬০ জন অসহায় শীতার্ত মানুষ এই বস্ত্র পেয়েছেন।
মানবাধিকার প্রশ্নে পরাশক্তিগুলোর দ্বৈত নীতি
ইকতেদার আহমেদ
সাধারণ অর্থে মানবাধিকার বলতে একজন মানুষের আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকারকে বোঝায়। একজন মানুষ যেকোনো রাষ্ট্রের বা সমাজে মানুষ হিসেবে আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে চাইলে তার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অধিকার ভোগের বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয়ার প্রয়োজন হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মানবাধিকারের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্যোগ নেয়। এ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাতিসঙ্ঘ। বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রই জাতিসঙ্ঘের সদস্য। মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের যেসব দলিল রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ১৯৪৮ সালে ঘোষিত সর্বজনীন মানবাধিকার দলিল। এ দলিলটিতে ৩০টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। এ দলিলে যেসব অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোকে প্রতিপালনে নিশ্চয়তা দিতে বলা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য না করার অধিকার; জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তিনিরাপত্তার অধিকার; দাসত্বের শিকল থেকে মুক্তির অধিকার; যন্ত্রণা, নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড বা ব্যবহার থেকে সুরক্ষার অধিকার; আইনের দৃষ্টিতে সর্বত্র মানুষ হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার অধিকার এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকার; স্বেচ্ছচারী গ্রেফতার, আটক ও নির্বাসন থেকে অবমুক্তির অধিকার; ফৌজদারি অপরাধের দায়ে অভিয্ক্তু ব্যক্তির আইনে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচার লাভের অধিকার; স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত দিয়ে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আদালতের সামনে নিরপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অধিকার; প্রবেশ, তল্লাশি ও আটক থেকে নিজ গৃহে নিরাপত্তা লাভের অধিকার; চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার; রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে চলাফেরা ও বসবাসের অধিকার এবং রাষ্ট্র ত্যাগ ও পুনঃপ্রত্যাবর্তনের অধিকার; নিজ দেশে নিপীড়নের বিরুদ্ধে অপর দেশে আশ্রয় লাভের অধিকার; জাতীয়তার অধিকার এবং স্বেচ্ছাচারীভাবে জাতীয়তা থেকে বঞ্চিত না করার অধিকার; প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের নিজ নিজ পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অধিকার; একক ও যৌথভাবে সম্পত্তির মালিকানার অধিকার এবং স্বেচ্ছাচারীভাবে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত না হওয়ার অধিকার; চিন্তা, বিবেক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার; বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার; শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের অধিকার; সরাসরি অথবা জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকারে অংশ নেয়ার অধিকার এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সুযোগের সমতার অধিকার; সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার; পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতার অধিকার এবং কোনো ধরনের বৈষম্য ভেদে সমকাজের জন্য সমমজুরির অধিকার; নিজ স্বার্থ সংরক্ষণে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও যোগদানের অধিকার; অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণগুলোর অধিকার প্রভৃতি।
জাতিসঙ্ঘের সদস্যভুক্ত প্রতিটি রাষ্ট্রের সংবিধানে উপরোল্লিখিত অধিকারগুলোর সব বা কিছু কিছু মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। যখন কোনো রাষ্ট্রের সংবিধানে কিছু অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় তখন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেসব অধিকার ভোগের বিষয়ে নাগরিকদের নিশ্চয়তা দেয়া আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। মানবাধিকারের সাথে গণতন্ত্রের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। অন্যভাবে বললে বলতে হয় মানবাধিকার ও গণতন্ত্র একটি অপরটির পরিপূরক। পাশ্চাত্যের বেশির ভাগ দেশ যার মধ্যে অন্যতম হলো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি নিজেদের গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করে থাকে এবং এর পাশাপাশি তারা নিজ দেশ ও অপরাপর দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট, বিশ্ববাসীকে এমন ধারণা দিতে সদা তৎপর। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি পাশ্চাত্যের এসব দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ে নিজ নিজ দেশের ক্ষেত্রে যে দৃষ্টিভঙ্গি তা সমভাবে অপর অনেক রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় না। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকের প্রথমার্ধে ঠাণ্ডা লড়াই যুগের অবসান-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে মহাশক্তিধর রাষ্ট্ররূপে পৃথিবীর বুকে আবির্ভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থানটি বর্তমানে আগের মতো দৃঢ় না হলেও অদ্যাবধি বিশ্বের অপর কোনো রাষ্ট্র মহাশক্তিধর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষের পর্যায়ে পৌঁছতে সক্ষম হয়নি। এ সুযোগে বিগত দুই দশকের অধিক সময় ধরে য্ক্তুরাষ্ট্র তার ইউরোপীয় মিত্রদের সহযোগিতায় অবলীলায় বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে জনমানুষের জীবনকে বিপদাপন্ন করে তুলছে।
সাদ্দাম হোসেন ইরাকের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকাকালীন ইরাকের কাছে মানব বিধ্বংসী রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র রয়েছে- এ মিথ্যা অজুহাতে মার্কিন য্ক্তুরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরাক আক্রমণ করে সাদ্দাম হোসেনের বাহিনীকে পরাভূত করে তাঁবেদার সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সরাসরি রাষ্ট্রটি পরিচালনা করতে থাকে। সাদ্দামকে উৎখাত-পরবর্তী দেখা গেল ইরাকে কথিত মানব বিধ্বংসী রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্রের কোনো অস্তিত্ব নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের উদ্দেশ্য ছিল তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং উৎখাত-পরবর্তী দেখা গেল ইরাকের তেল বিক্রি করে তারা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ পরিপূরণে সফল হয়েছে। অনুরূপ আফগানিস্তানে তথাকথিত আল কায়দা জঙ্গিদের ঘাঁটি ও প্রশিক্ষণ শিবির রয়েছে- এ অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আফগানিস্তানে বলপূর্বক প্রবেশ করে সেখানকার সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেদের তাঁবেদার সরকার প্রতিষ্ঠা করে। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রবাহিনীর অভিযান পরিচালনার এক দশক পর দেখা গেল তথাকথিত আল কায়দা জঙ্গি দমনে যে অভিযান তা সফলতা পায়নি বরং তাদের অভিযানের ফলে রাষ্ট্রটির স্থিতিশীলতা বিপন্ন হওয়ার কারণে সেখানে জনজীবনে এখনো স্বস্তি ফিরে আসেনি।
বর্তমান শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের প্রারম্ভে আরব বসন্তের জাগরণে তিউনিশিয়া, লিবিয়া ও মিসরে ক্ষমতাসীন বেন আলী, গাদ্দাফি ও মোবারক সরকারের পতন হয়। লিবিয়ায় গাদ্দাফির পতনকে ত্বরান্বিত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে মিত্রবাহিনী অংশ নিয়েছিল। গাদ্দাফির বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ ছিল, গাদ্দাফি তার শাসন অব্যাহত রাখার জন্য অবলীলায় বিরোধীদের হত্যা করে চলেছেন। মার্কিন য্ক্তুরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা তাদের কল্পনাপ্রসূত অভিযোগের ভিত্তিতে ঠিকই গাদ্দাফিকে উৎখাত ও হত্যা করল। কিন্তু তার মৃত্যু-পরবর্তী গাদ্দাফির শাসনামলে লিবিয়ায় যে স্থিতিশীলতা ছিল তা কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ফিরিয়ে দিতে পেরেছে? এখনো যে লিবিয়ায় প্রতিদিন সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের সশস্ত্র সংঘর্ষে অগণিত লোক নিহত হচ্ছে এর দায় কার? মিসরে হোসনি মোবারকের পতন-পরবর্তী অবাধ, স্ষ্ঠুু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম বাদ্রারহুড দল বিজয়ী হয়ে মুরসি প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হলে দেশটি স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু মার্কিন য্ক্তুরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদেরসহ ইসরাইলের কাছে মুসলিম বাদ্রারহুডের বিজয় আরব ভূ-খণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র এবং ইসরাইলের জন্য হানিকর- এ বিবেচনায় তারা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মুরসিকে অপসারণ করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি বরং জেলে পুরে বিচারের মুখোমুখি করেছে। মার্কিন য্ক্তুরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ও ইসরাইল যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হয়ে থাকে তবে কি কারণে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মুরসিকে অপসারণ করা হলো? এর জবাব বিশ্ববাসী য্ক্তুরাষ্ট্র এবং তার মিত্র ও ইসরাইলের কাছ থেকে জানতে চায়।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে এখনো বংশানুক্রমিক রাজতান্ত্রিক শাসন অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের বংশানুক্রমিক রাজতান্ত্রিক শাসন ইসলাম ধর্ম অনুমোদন করে না। কিন্তু এখনো য্ক্তুরাষ্ট্র এবং তার মিত্র ও ইসরাইলের মদদে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলোতে রাজতান্ত্রিক শাসন অব্যাহত আছে। এসব দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের অবস্থান রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ও ইসরাইল এসব রাষ্ট্রে রাজতন্ত্রের প্রতি সমর্থন জুগিয়ে তাদের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের দাবিতে ১৯৮৯ সালে চীনের তিয়েনা আনামন স্কয়ারে হাজার হাজার লোক সমবেত হলে চীনের কমিউনিস্ট শাসকেরা নির্বিচারে গুলি করে অসংখ্য জনমানুষকে হত্যা করে। এ হত্যার ব্যাপারে য্ক্তুরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী হিসেবে চীনকে চিহ্নিত করার জন্য পুনঃপুন প্রয়াস নেয়। সে প্রয়াস এখনো অব্যাহত আছে। চীনে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের নির্মূলে যে সংখ্যক মানুষ হত্যা করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বুকে ১৯৪৮ সালে অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি য্ক্তুরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মদদে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের যেভাবে হত্যা করে চলেছে তাতে দেখা যায় তার সংখ্যা তিয়েনমিয়েনের হত্যাকাণ্ডের সংখ্যার চেয়ে কয়েকশ গুণ অধিক। ইসরাইলের অভ্যন্তরস্থ গাজা ও পশ্চিম তীর দু’টি স্বশাসিত পৃথক এলাকা। এ দু’টি পৃথক এলাকা সমন্বয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হবে পৃথিবীর সব রাষ্ট্র সম্মত হয়ে এরূপ রূপরেখা দিয়েছে।
মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর সাম্প্রতিক যে অত্যাচার, নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে এটিকে বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গণহত্যা মর্মে অভিহিত করছে। রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার, নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ড বিষয়ে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যেসব রাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি সোচ্চার তা হলো তুরস্ক, ইরান, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। সার্কভুক্ত মুসলিম অধ্যুষিত ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ রোহিঙ্গা নিধন ও তাদের প্রতি অত্যাচার এবং নিপীড়নের প্রতিবাদে ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সাথে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। রুশ অধীনস্থ প্রজাতন্ত্র চেচনিয়ায় মিয়ানমারের নৃশংসতার বিরুদ্ধে সম্প্রতি যে বিক্ষোভ হয় তাতে পাঁচ লক্ষাধিক লোক সমবেত হয়েছিল। পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রেও ছোট-বড় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ে এতদঅঞ্চলের দু’টি প্রভাবশালী রাষ্ট্র চীন ও ভারত সম্পূর্ণ অবহিত হলেও উভয় রাষ্ট্র এ বিষয়ে পক্ষপাত দোষে দুষ্ট। মিয়ানমারের ওপর চীনের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এ প্রভাবকে লাঘবের প্রয়াসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমার সফরকালে রোহিঙ্গা সঙ্কটকে সহিংস বিদ্রোহী আখ্যা দিয়ে দেশটিকে কাছে টেনে নেয়ার সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছেন। অপর দিকে, চীনের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক সূত্রে বাংলাদেশকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশ নিজেকে ভারতের প্রভাবমুক্ত করলে দেশটি বাংলাদেশের জন্য সম্মানজনক পন্থায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র ও রাষ্ট্রগুলোর সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। তারা উভয়ে এ অঞ্চলে তাদের নিজস্ব উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সশস্ত্র পন্থা অবলম্বনের ফন্দিফিকির আঁটছে। ২০০৬ সালে গাজা ও পশ্চিম তীর সমন্বয়ে গঠিত ফিলিস্তিনের ১৩২টি আসনের সংসদ নির্বাচনে ৭৬টি আসনে জয় লাভ করে হামাস সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচন-পরবর্তী গাজা হামাসের শাসনাধীন রয়েছে। অপর দিকে, পশ্চিম তীর ফাতাহর শাসনাধীন। ১৯৪৮ সালে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইহুদিদের এনে ফিলিস্তিনিদের ভূ-খণ্ডে যে ইসরাইল রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন হয়, এর পর থেকে য্ক্তুরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইন্ধনে ক্রমান্বয়ে ইসরাইল তার ভূ-ভাগ বৃদ্ধি করে চলেছে এবং সে যাত্রা এখনো অব্যাহত আছে। জুলাই, ২০১৪ সালে পশ্চিম তীরে তিনটি ইহুদি বালককে অপহরণপূর্বক হত্যার অভিযোগে ইসরাইল গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এ যুদ্ধে এ পর্যন্ত গাজানিবাসী প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার বেশির ভাগ নারী ও শিশু। সামরিক শক্তির দিক থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তুলনায় হামাস অনেক দুর্বল। ইসরাইলের এ আগ্রাসী অভিযান বিষয়ে য্ক্তুরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বলছে তাদের আত্মরক্ষার জন্য এ ধরনের অভিযানের আবশ্যকতা রয়েছে। পশ্চিম তীরে যে তিনজন ইসরাইলি বালক নিহত হয়েছে তার সাথে যে হামাসের সম্পৃক্ততা ছিল না, এ বিষয়টি বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। কিন্তু তার পরও নিজেদের আত্মরক্ষা করার মিথ্যা অজুহাতে শক্তিধর ইসরাইলের দুর্বল হামাসের ওপর কেন এ হামলা? ইসরাইল যদিও মধ্যপ্রাচ্যের বুকে ফিলিস্তিনিদের ভূ-খণ্ডে অবৈধভাবে সৃষ্ট একটি রাষ্ট্র কিন্তু ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূ-খণ্ডে তাদের নিজস্ব রাষ্ট্্র সৃষ্টি হোক এটি কখনও ইসরাইল ও তার মদদদাতা য্ক্তুরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো চায় না। আর তাই পুনঃপুন ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের আগ্রাসী আক্রমণ এবং নির্বিচারে নারী-পুরুষসহ নিরীহ বেসামরিক জনমানুষ হত্যা।
য্ক্তুরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের সমর্থন ছাড়া ইসরাইলের পক্ষে কখনোও এ ধরনের গণহত্যা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ফিলিস্তিনি ভূ-খণ্ডে ইসরাইলের আগ্রাসী আক্রমণ বিশ্ববিবেকের কাছে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হলেও য্ক্তুরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ বা গণহত্যা নয়। য্ক্তুরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র বিষয়ে দ্বৈত নীতির কারণে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমহ্রাসমান। আর এ অবস্থায় মহাশক্তিধর হিসেবে আবির্ভূত হয়ে অপর কোনো রাষ্ট্র য্ক্তুরাষ্ট্রের আগে যে অবস্থান নেবে এমনই পদধ্বনি শোনা যায়।
লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
E-mail: iktederahmed@yahoo.com
ইউএনও-ওসিরা এখন আ’লীগের নেতা নির্বাচন করেন : কাজী জাফরুল্লাহ
ফরিদপুর সংবাদদাতা ॥ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ তার নির্বাচনী এলাকার প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনৈতিক চর্চার অভিযোগ এনে বলেছেন, আওয়ামী লীগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও থানার ওসিরা তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ করছেন। যদি তারা নিজেদের বদলাতে না পারেন তাহলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ তাদের দাতভাঙ্গা জবাব দেবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদরপুর উপজেলা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কাজী জাফরুল্লাহকে প্রেসিডিয়াম সদস্য মনোনীত করায় তাৎক্ষণিক এ সভার আয়োজন করা হয়।
কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, আমি খুবই মর্মাহত যে, সদরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এখন ঠিক করছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সেক্রেটারি কে হবেন। এই অধিকার তাকে কে দিয়েছে? তিনি বলেন, এই অধিকার তিনি পেয়েছেন আওয়ামী লীগের দুর্বলতার কারণে। সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তিনি নির্ধারণ করতে চান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুল কে দিবে। তার এহেন আচরণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কোনো দাতভাঙ্গা জবাব দিতে পারেনি বলে তিনি তার বক্তব্যে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি খুবই দুঃখ পেয়েছি এবং মর্মাহত যে, আপনাদের এই অধিকারগুলো যদি আপনারা সঠিকভাবে পালন করাতে না পারেন তাহলে কিন্তু রাজনীতিতে আপনাদের সুবিধা হবে না।
কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, যখন একটা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তার দায়িত্বের বাইরে গিয়ে এ ধরনের দালালি করেন, তার কাছ থেকে সাধারণ মানুষ আইনের শাসন কিভাবে পাবেন? একইভাবে তিনি সদরপুর থানার ওসিরও সমালোচনা করে বলেন, থানার ওসি সাহেব রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি থেকে ধরে এনে বলেন তোমরা আওয়ামী লীগ করো কেনো? নিক্সন লীগ করো, স্বতন্ত্র করো। অযথাভাবে মিথ্যা মামলায় হয়রানী করার জন্য চরমানাইর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে নেতা সুরুজ মাতুব্বর বতু মেম্বারকে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ সময় তিনি বতু মেম্বারের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান। তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে আপনারা যে অপরাধ করছেন, সময় এসেছে আপনাদেরও আমরা কাঠগড়ায় দাঁড় করাবো। তিনি বলেন, নতুন বছরে আমরা নতুনভাবে ধরবো। এরপরে যারা আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিবে, হামলা করবে তাদেরকে আমরা ছাড়বো না। আগামীতে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রয়োজনে আমরা থানা ও ইউএনও অফিস ঘেরাও করে অচল করে দেবো।
কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগের বিপক্ষে, সরকারের বিপক্ষে এসব প্রচার চলবে না। আমরা এই স্বতন্ত্র-টতন্ত্র বুঝি না। আমরা বুঝি আওয়ামী লীগ, নৌকা। আমরা বুঝি ক্ষমতা, আমরা বুঝি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার যেই নির্দেশ সেটাই পালন করতে হবে। তার নির্দেশের বাইরে আওয়ামী লীগের সাথে ষড়যন্ত্র কিন্তু আগামীতে হতে দেবো না। পথসভায় আরো বক্তব্য দেন সদরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফকির আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সায়েদীদ গামাল লিপু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আলম রেজা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ হোসেন খান, সদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ মিয়া, ঢেউখালী ইউনিয়নের মিজানুর রহমান বেপারী, উপজেলা যুবলীগ নেতা প্রাণ চৌধুরী পিরু, ভাষানচরের মাসুদুর রহমান, চর নাসিরপুরের সিদ্দিকুর রহমান, আকুটের চরের আসলাম বেপারী, চরমানাইরের আইয়ুব আলী, নারিকেলবাড়িয়ার আব্দুল কুদ্দুস। পথসভা শেষে একটা আনন্দ মিছিল উপজেলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রেসিডিয়াম সদস্য মনোনীত হওয়ায় কাজী জাফরুল্লাহকে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট দেয়া হয় ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
পিইসিতে পাসের হার ৯৫.৫০ শতাংশ, ইবতেদায়ীতে ৯৫.৯৬
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ এবারের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ী পরীক্ষার ফলাফল মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। এতে পিইসিতে পাসের হার ৯৫.৫০ শতাংশ ও ইবতেদায়ীতে ৯৫.৯৬ শতাংশ পাস করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন জানান, এবারের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় মোট ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ১৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ছাত্র ১১ লাখ ২৪ হাজার ২২৫ জন এবং ছাত্রী ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৯২৬ জন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ২৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭৪৩ জন সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৫.৫০ শতাংশ।
উত্তীর্ণদের মধ্যে ১০ লাখ ৭২ হাজার ১৫৪ জন ছাত্র এবং ১২ লাখ ৭১ হাজার ৫৮৯ জন ছাত্রী। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫১ জন এবং ছাত্রী ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৭ জন। সচিবালয়ে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের ওপর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। ছাত্রদের পাসের হার ৯৫.৩৭ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৯৫.৬১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছে। গড় পাসের হারের দিক থেকেও মেয়েরা এগিয়ে আছে। এবারের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার বিবেচনায় ৮ বিভাগের মধ্যে বরিশাল শীর্ষে রয়েছে। ওই বিভাগে পাসের হার ৯৬.৯৩ শতাংশ। ৬৪ জেলার মধ্যে গাজীপুর জেলা প্রথম স্থানে রয়েছে, ওই জেলার পাসের হার ৯৯.১৪ শতাংশ। ৫১০ উপজেলা/থানার মধ্যে ১টি উপজেলা ভোলার দৌলতখান শতভাগ (১০০ শতাংশ) পাস করেছে। সারা দেশে ইংরেজি ভার্সনে ১২ হাজার ৫৫৩ জন ডিআরভুক্ত হয়ে ১২ হাজার ২০১ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ১২ হাজার ১২০ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৯.৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৮৫১ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ২৬৯ জন। সারা দেশে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ৪ হাজার ৪৭১ জন ডিআরভুক্ত হয়ে ৪ হাজার ১৭৯ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৭৫৭ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৯.৯০ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্র ২ হাজার ৪৭ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ৭১০ জন।
ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় মোট ৩ লাখ ৪ হাজার ১৭৮ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৩৬ জন ছাত্র এবং ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪২ জন ছাত্রী। মোট ২ লাখ ৯১ হাজার ৮৭৫ জন সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, পাসের হার ৯৫.৯৬ শতাংশ। উত্তীর্ণদের মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৩৫ জন ছাত্র এবং ১ লাখ ৪১ হাজার ৪০ জন ছাত্রী। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৮৭৭ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৬৮৫ জন এবং ছাত্রী ৬ হাজার ১৯২ জন । ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ছাত্রদের সংখ্যা বেশি হলেও গড় পাসের দিক থেকে মেয়েরা এগিয়ে আছে। ছাত্রদের পাসের হার ৯৫.৫০ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৯৬.৪৪ শতাংশ।
সর্বোচ্চ পাসের হার বিবেচনায় ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৮ বিভাগের মধ্যে রাজশাহী শীর্ষে । ওই বিভাগের পাশের হার ৯৭.৮১ শতাংশ। নওগাঁ জেলার পাশের হার সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ। মোট ৮৩টি উপজেলায় শতভাগ ছাত্র-ছাত্রী পাস করেছে। সারা দেশে বিশেষ চাহদা সম্পন্ন ২৪০ জন ডিআরভুক্ত হয়ে ২১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ১৯৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯২.০৬ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্র ১১৪ জন এবং ছাত্রী ৮৩ জন।
পরীক্ষার ফল দেখা:
ফল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www. dpe.gov.bd অথবা dpe.gov.bdhttp://dpe.teletalk.com.bd- তে পাওয়া যাবে। এছাড়া, যেকোনো মোবাইল থেকে এসএমএসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ফলাফল জানা যাবে। মোবাইলে পিইসিইর ফল পেতে DPE>Student ID লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ইবতেদায়ীর ক্ষেত্রে dpe এর স্থলে EBT লিখতে হয় । এছাড়া মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে যেকোনো এন্ড্রয়েড মোবাইল থেকে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে। Google Play Store থেকে PRIMARY TERMINAL RESULT Apps ডাউনলোড করে এর মাধ্যমে ফলাফল জানা যাবে।
সূত্র : ইউএনবি
জেএসসি-জেডিসি’র ফল প্রকাশ, পাশের হার ৮৭.৯০ ভাগ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় এবার ২৬ লাখ ২ হাজার ৫৩ জন অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে পাস করেছে ২২ লাখ ৯৭ হাজার ২৭১ জন। পাশের হার ৮৭ দশমিক ৯০ শতাংশ।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি এসব তথ্য জানান। দীপু মনি বলেন, এবার মোট জিপিএ পেয়েছে ৭৮ হাজার ৪২৯ জন। গত বারের চাইতে এ বছর পাশের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে। পাশের হার বেড়েছে ২ দশমিক ০৭ শতাংশ ও জিপিএ-৫ বেড়েছে ১০ হাজার ৩৩৪ জন। এবছর জেএসসিতে মোট ২২ লাখ ২১ হাজার ৫৯১ জন। তার মধ্যে পাস করেছে ১৯ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৮ জন। জেডিসেতে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৪৪২ জন। তার মধ্যে পাস করেছে ৩ লাখ ৪১ হাজার ৫৫৩ জন। উল্লেখ্য, গত ২ নভেম্বর এ পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৩ নভেম্বর শেষ হয়।
১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শৈলকুপায় মসজিদের লেআউট উদ্বোধন
শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপজেলাভিত্তিক মডেল মসজিদের লেআউট উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় লেআউট উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ-১ শৈলকুপা আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাই। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিকদার মোশারফ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্য আব্দুস সোবহান, ইসলামী ফাউন্ডেশন ঝিনাইদহের উপ-পরিচালক আব্দুল হামিদ খান, গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফজলে রাব্বি, ফিল্ড সুপারভাইজার ইসলামী ফাউন্ডেশন শৈলকুপার আব্দুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি। উল্লেখ্য, ৪০ শতক জমির উপর ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।
মধুসূদন দত্তের নামে সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্মারকলিপি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামে যশোরের সাগরদাঁড়িতে ‘মধুসূদন সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে। মধুসূদন সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটির প থেকে মঙ্গলবার দুপুরে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফের কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বাংলা সাহিত্যের অনন্য মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত সাগরদাঁড়িতে জন্ম নিয়েছেন বলেই যশোর অঞ্চল আজ আলোকিত। সাহিত্যের অনেক খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিক বাংলাদেশে জন্ম না নিলেও ইতিমধ্যে তাদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় বড় স্থাপনা নির্মাণ করে তাদেরকে সম্মানিত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে তারা বেঁচে আছেন। অথচ যশোরের প্রত্যন্ত গ্রাম সাগরদাঁড়িতে জন্ম নেওয়া বিশ্ববিখ্যাত মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামে আজও বড় কোনো স্থাপনা বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়নি, যা অনেক আগেই করা উচিত ছিল। সেই উপলব্ধি থেকেই যশোরবাসী এ মহাকবির জন্মভূমি সাগরদাঁড়িতে ‘মধুসূদন সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার দাবিতে বেশ কয়েক বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ স্মারকলিপি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় পদপে নেয়ার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিতি ছিলেন মধুসূদন সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হারুন অর রশীদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আইনজীবী আবু বকর সিদ্দিকী, সদস্য সচিব কবি খসরু পারভেজ, সহকারী সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম, কমিটির সদস্য ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সদস্য সুকুমার দাস, কেশবপুর প্রেস কাবের সভাপতি আশরাফুজ্জামান খান, সিপিবির জেলা কমিটির নেতা আমিনুর রহমান, প্রথম আলোর কেশবপুর প্রতিনিধি দিলীপ মোদক, সিপিবির কেশবপুর উপজেলার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ড’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আকমল আলী, কেশবপুর উপজেলার বেগমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন মন্ডল প্রমুখ। স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় চত্বরে সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বাস্তবায়ন কমিটির নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামী ১৪ জানুয়ারি বিকেলে কেশবপুর ত্রিমোহিনী মোড়ে মানববন্ধন।






