লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের জন্য একটি পদে কর্মী নিয়োগ দেবে ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি বাংলাদেশের বাজার দেখার জন্য মার্কেট স্পেশালিস্ট পদে এই নিয়োগ দেবে। মফেসবুকের এক বিজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়েছে। এ চাকরিতে কাজের বিবরণ সম্পর্কে ফেসবুক বলেছে, পূর্ণকালীন ওই পদে চাকরি হলে ফেসবুক ব্যবহারকারীকে নানা রকম সহযোগিতা করতে হবে। প্রয়োজনে দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক মার্কেটের জন্যও সহযোগিতা করতে হবে। এ ছাড়া ফেসবুকের জন্য নানা ধরনের সুযোগ বের করতে হবে। বিভিন্ন সংকেত বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ইনসাইট তৈরি করতে হবে।
যোগ্যতা : ৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরা এ পদে আবেদন করতে পারবেন। ডেটা অ্যানালাইসিস ও ভিজুয়ালাইজেশনে দক্ষ হতে হবে। এ ছাড়া প্রার্থীকে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগে যথেষ্ট পারদর্শী হতে হবে।
কর্মস্থল : এ পদে নিয়োগ পেলে কর্মীকে সিঙ্গাপুরে ফেসবুকের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কার্যালয়ে কাজ করতে হবে।
যেভাবে আবেদন করবেন : ফেসবুকের এই পেজে গিয়ে ওই পদে আবেদন করতে পারবেন যে কোনো যোগ্য প্রার্থী।
বাংলাদেশের জন্য কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে ফেসবুক
পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনে বিএনপির সংহতি প্রকাশ
খুলনা ব্যুরো ॥ ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ে পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনের সাথে সরকার বারবার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন খুলনা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। সারা দেশের শিশুরা যখন বই উৎসবে মেতে ওঠে ঠিক সে সময় রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল শ্রমিক পরিবারের অভুক্ত শিশুরা অনশনরত পিতার পাশে বসে থাকে। সরকার তার অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত ও নিরঙ্কুশ করতে ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর পে কমিশন ঘোষণামাত্র বাস্তবায়ন করে। অথচ ২০১৫ সালে ঘোষিত পাটকল শ্রমিকদের মজুরি কমিশন আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। লুটেরা সরকারের দুর্নীতি-অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় দেশের অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখে। সরকারের পতন ছাড়া সাধারণ মেহনতি খেটে খাওয়া শ্রমিক শ্রেণির মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তণ হবে না বলে মন্তব্য করেন তারা। মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশন কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে খুলনায় বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে দলটির নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংগঠনের মহানগর ও জেলা শাখার যৌথ আয়োজিত এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বক্তব্য রাখেন জেলা সভাপতি অ্যাড. এস এম শফিকুল আলম মনা, মনিরুজ্জামান মনি, আমীর এজাজ খান, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, অ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আব্দুর রশিদ, মেজবাউল আলম, সাইফুর রহমান মিন্টু, বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস, আব্দুর রহিম বক্স দুদু, আবুল কালাম জিয়া প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন আসাদুজ্জামান মুরাদ ও আশরাফুল আলম নান্নু। সমাবেশে বক্তারা বলেন, অনশনরত অবস্থায় ইতিমধ্যে তিনজন শ্রমিক মারা গেছেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছে অনেকেই। তীব্র শৈত্য প্রবাহে আন্দোলনরতদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। নতুন বছরের শুরুতে সন্তানদের স্কুলে ভর্তি দূরে থাক, তিনবেলা খাবার জুটছে না শ্রমিক পরিবারে। বিএনপি আন্দোলনরত শ্রমিকদের পাশে সব সময় রয়েছে। আজ মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে বিষয়টির সুরাহা না হলে বিএনপি কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স ম আব্দুর রহমান, শেখ জাহিদুল ইসলাম, শেখ ইকবাল হোসেন, রেহানা আক্তার, শাহজালাল বাবলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, অ্যাড. তছলিমা খাতুন ছন্দা, ডা. আব্দুল মজিদ, আবুল খায়ের খান, সিরাজুল হক নান্নু, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, কামরুজ্জামান টুকু, ইকবাল হোসেন খোকন, মেহেদী হাসান দীপু, এহতেশামুল হক শাওন, শেখ সাদী, ইউসুফ হারুন মজনু, সাজ্জাদ আহসান পরাগ, মুর্শিদ কামাল প্রমুখ।
পাতলা চুল ঘন দেখাবে যেভাবে
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ তাদের চুল পাতলা, হেয়ার স্টাইল করার সময় তারা বেশ বিড়ম্বনায় থাকেন। পাতলা চুলে সব ধরনের স্টাইল ভালো লাগে না। খানিকটা এলোমেলো করে বাঁধলেই ঘন ও সুন্দর দেখায় পাতলা চুল। এই ধরনের চুল কখনও স্ট্রেইট করবেন না। এতে আরও বেশি পাতলা দেখাবে। জেনে নিন পাতলা চুল ঘন দেখাবে এমন স্টাইল কীভাবে করবেন চুলে।
এলোমেলো স্টাইল : পরিপাটি করে রাখলে চুল বেশি পাতলা দেখায়। তাই বেণি বা পনিটেইল যাই করুন না কেন, খানিকটা এলোমেলো করে বাঁধুন চুল। মেসি বেনির পাশাপাশি মেসি খোঁপাও করা যেতে পারে।
কার্ল করুন: চুলের উপরের অল্প অল্প অংশ নিয়ে কার্ল করুন। কার্লের মধ্যে আঙুল চালিয়ে ঢিলে করে নিন। বেশ ঘন দেখাবে চুল।
পাশ বদলে স্টাইল করুন চুলের : নির্দিষ্ট একদিকে হেয়ার স্টাইল করার অভ্যাস থাকলে সেটি বদলে ফেলুন। সবসময় একদিকে সিঁথি করলে বা একদিকে চুল রেখে দিলে সেই দিকটি জৌলুসহীন হয়ে পড়ে। সিঁথির চুলও কমতে থাকে। তাই কিছুদিন পর পরই দিক বদলে করুন হেয়ার স্টাইল।
হাইলাইট করুন: চুলে পছন্দ মতো রঙ দিয়ে হাইলাইট করে নিতে পারেন। ঘন ও সুন্দর দেখাবে চুল।
এ মাসেই তিনটি শৈত্যপ্রবাহ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ জানুয়ারি মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুটি তীব্রও একটি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘জানুয়ারি মাসে আরও দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এছাড়া একটি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আগামী ৬ জানুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ও রাতের তাপমাত্রা আরও কমে যাবে’ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শৈত্যপ্রবাহ ও সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক এ তথ্য জানান। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম মাসের প্রথমার্ধেই দেশের অনেক স্থানে বৃষ্টিপাত হবে। বৃহস্পতিবার ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়া দেশের সব স্থানেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, ‘এসব শৈত্যপ্রবাহ চলাকালীন বিভিন্ন বিভাগের জেলাগুলোতে কনকনে শীত অনুভূত হবে। আগামী ৩, ৪, ও ৫ জানুয়ারি বৃষ্টিপাত হবে। বৃষ্টিপাতের পর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নামতে শুরু করবে এবং শৈত্যপ্রবাহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিরাজমান থাকবে।’
বাগেরহাটে মাছের ঘেরে বিষ, ২০লাখ টাকার ক্ষতি
বাগেরহাট সংবাদদাতা ॥ বাগেরহাটের মোল্লাহাটের একটি মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে ২০ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার আড়–য়াকান্দি এলাকায় শহিদুল্লাহ ও রহিম মিয়া বাদশার তিন একর আয়তনের যৌথ ঘেরে এ বিষ প্রয়োগ করা হয়। বিষক্রিয়ায় ঘেরে চাষ করা বিপুল পরিমাণ রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া ও চিংড়ি মাছ মরে পানির উপরে ভেসে ওঠে। এ ঘটনায় শহিদুল্লাহ বাদী হয়ে মোল্লাহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ঘেরের কর্মচারী আবু হানিফ বলেন, রাতে ঘেরের বাসায় ছিলাম। ফজরের আজানের কিছু আগে টের পাই মাছ লাফাচ্ছে। লাইট মেরে দেখি প্রচুর মাছ লাফাচ্ছে। বুঝতে পারলাম মাছের কোন সমস্যা হয়েছে। সাথে সাথে মালিককে মুঠোফোনে বিষয়টি জানাই। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাছের লাফালাফি বন্ধ হয়ে যায় এবং সব মাছ মারা যায়। সকাল থেকেই মরা মাছ ভেসে উঠতে থাকে।
প্রতিবেশী বৃদ্ধ জাফর মোল্লা বলেন, আমাদের এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ মাছ চাষ করে। অনেক টাকা বিনিয়োগ এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় মাছ বিক্রি করতে। কিন্তু দুর্বৃত্তদের বিষে কয়েকঘণ্টার মধ্যেই সব মাছ মরে গেল শহিদুল্লাহর ঘেরের। এভাবে চললে মাছ চাষ বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। স্থানীয় ঘের মালিক ফোরকান মোল্লা বলেন, বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারায় শহিদুল্লাহর ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও শহিদুল্লাহর ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি শহিদুল্লাহ বলেন, আড়–য়াকান্দি মৌজায় একটি পতিত জমি লিজ নিয়ে রিহম মিয়া বাদশার সাথে মাছ চাষ শুরু করি। ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে আমার প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলেছে। আমি তাদের বিচার চাই।
ফ্রেমহীন টিভি আনছে স্যামসাং
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ এ বছর সম্পূর্ণ ফ্রেমহীন টিভি আনবে স্যামসাং। নতুন এই টিভির চারপাশে কোনও ফ্রেম থাকবে না, পুরোটাই ডিসপ্লে। এনগ্যাজেট জানায়, জানুয়ারির শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য কনজুমার ইলেক্ট্রনিকস শোতে অবমুক্ত করবে বলে পরিকল্পনা করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হবে এর বৃহৎ আকারের উৎপাদন। গত বছরের শুরুতে স্যামসাং জিরো বেজেল নামে একটি ব্র্যান্ড’র ট্রেডমার্ক করেছে। যদিও কনজুমার ইলেক্ট্রনিকস শোতে এই টিভির উন্মোচন হবে কিনা তা নিশ্চিত নয় কিন্তু অনুষ্ঠানটি স্যামসাংয়ের নতুন টিভি উন্মোচনের একটি পছন্দের একটি জায়গা। ফ্রেমহীন টিভি দামে বেশ চড়া হবে। বিশেষত স্যামসাংকে এমন ডিসপ্লের এইট-কে রেজুলেশনকে খাপ খাওয়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় চিপ তৈরি করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে অতীতের যেকোনও ফ্ল্যাগশিপ টিভির তুলনায় নতুন এই টিভিটি গ্রাহকদের কাছে বিশেষ একটি চমক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ‘সোয়াইন ফ্লু’ নিয়ে কি উদ্বেগের কারণ আছে?
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের একজন সাবেক এমপি ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়ে বুধবার মারা যান। তিনি এইচওয়ানএনওয়ান ভাইরাস (যেটি সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস হিসেবে পরিচিত) দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডাক্তার কামরুল হুদা। সাবেক এই নারী সাংসদ সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেও বাংলাদেশে এই রোগ এখন ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক ডাক্তার মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা। ডাক্তার ফ্লোরা বলেন, ‘এই রোগটিকে এখন সোয়াইন ফ্লু নাম দেয়া যথাযথ হবে না, কারণ শূকর থেকেই যে এই রোগের ভাইরাস ছড়াতে হবে, এমনটি নয়। মানুষের দেহেই এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।’ সারা বাংলাদেশে নিয়মিত ভিত্তিতে এই ফ্লু’এর পরীক্ষা নিরীক্ষা চলে বলে নিশ্চিত করেন সাবরিনা ফ্লোরা।
যেভাবে ছড়ায় সোয়াইন ফ্লু
সোয়াইন ফ্লু সাধারণত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। ফ্লু আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে থাকলে, তার ব্যবহৃত পাত্রে খাবার খেলে বা ওই ব্যক্তির কাপড় পড়লে ফ্লু ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে।
সোয়াইন ফ্লু’র উপসর্গ
সাধারণ সোয়াইন ফ্লু’র উপসর্গ সাধারণ ফ্লু’র মতই হয়ে থাকে। জ্বর, কাশি, গলা ব্যাথা, শরীরে ব্যাথা, ঠান্ডা ও অবসাদের মত উপসর্গ দেখা দিতে পারে ফ্লু হলে। পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, র্যাশ বা পাতলা পায়খানাও হতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি বা কোনো ধরণের অসুখে ভুগতে থাকা ব্যক্তি ফ্লু’তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। সিংহভাগ ক্ষেত্রেই সোয়াইন ফ্লু নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে এর ফলে বিভিন্ন দেশে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ফ্লু’র ভাইরাসগুলো নিজেদের মধ্যে জিনগত উপাদান অদল বদল করতে পারার সক্ষমতা রয়েছে, তাই কোন ধরণের সোয়াইন ফ্লু বিপজ্জনক হতে পারে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেন না চিকিৎসকরা। ২০০৯ সালে মেক্সিকোতে ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর প্রায় মহামারি আকারে এই ফ্লু ছড়িয়ে পড়ে নানা দেশে। ধারণা করা হয়, ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২ লাখ মানুষ সোয়াইন ফ্লু’তে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু ছড়ানোর পর বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।
বাংলাদেশে কী পরিস্থিতি?
দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ফ্লু’র পরীক্ষা চালানো হয় এবং সেগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয় বলে বিবিসিকে জানান সাবরিনা ফ্লোরা। ‘খুব বড় সংখ্যায় না হলেও সারা বাংলাদেশেই আমরা এই ফ্লু’র রোগী দেখতে পাই।’ তিনি জানান এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই রোগের হার বেশি থাকে। ‘এই রোগের প্রতিষেধক সরকারের কাছেও রয়েছে, আবার কয়েকটা প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবেও তৈরি করছে’, বলেন ডাক্তার ফ্লোরা।
বাংলাদেশে প্রথম সোয়াইন ফ্লু’র উপস্থিতি নিশ্চিত হয় ২০০৯ সালে। ২০১০ সালে বাংলাদেশে সোয়াইন ফ্লু’র টিকাদান কর্মসূচী চালানো হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেসময় বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিনামূল্যে সোয়াইন ফ্লু’র টিকা পাঠায়। এরপর গত এক দশকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। ২০১৫ সালে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত হয়ে কয়েক হাজার মানুষ মারা যাওয়ার পর এই বিষয়টি আবারো আলোচনায় আসে। ফ্লু যেন ছড়িয়ে না পড়তে পারে, তা নিশ্চিত করতে সেসময় নানারকম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে। ফ্লু প্রতিরোধে সেসময় অনেক চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় বন্দরগুলোতে। থার্মাল স্ক্যানার ব্যবহার করে বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়া হয়। সূত্র : বিবিসি
সোয়া শ’ কোটি টাকার মালিক তাপস, ইশরাকের সাড়ে ৫ কোটি
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের বার্ষিক আয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদও প্রায় সোয়া শ’কোটি টাকা। অপরদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বার্ষিক আয় কোটি টাকারও কম। তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৫ কোটি টাকার মতো। ইশরাক দুর্নীতির মামলাতেও অভিযুক্ত।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনই শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘স্ব-শিক্ষিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আছেন হত্যা মামলার আসামি, বছরে এক টাকাও আয় নেই এমন প্রার্থীও। ঢাকার দুই সিটিতে মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামায় স্বেচ্ছায় সম্পদ ও দায়-দেনার বিবরণ দিয়েছেন প্রার্থীরা। এতে আরও দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো বড় দলগুলোর প্রার্থীরা অন্য প্রার্থীদের তুলনায় উচ্চশিক্ষিত ও সম্পদশালী।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন বলেন, হলফনামায় কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য গোপন করেন বা অসত্য তথ্য প্রদান করেন তাহলে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের নিয়ম রয়েছে। এছাড়া আমরাই জনগণের জানার সুবিধার্থে নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক প্রার্থীর হলফনামা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবো।
শেখ ফজলে নূর তাপস: আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস পেশায় আইনজীবী। তিনি ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রিধারী। তার বার্ষিক আয় ৯ কোটি ৮১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৬ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে বছরে আয় ৩৫ হাজার টাকা, বাড়ি/দোকান ভাড়া বাবদ ৪২ লাখ ৫০ হাজার ৩৯৮ টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে ৭ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার ৬৪৮ টাকা, আইন পেশা থেকে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার এবং চাকরি থেকে বেতন বাবদ পান বাবদ ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় দুই কোটি ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৩৯২ টাকা। তাপসের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১২২ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১০৮ কোটি ৯০ লাখ ৮৯ হাজার ৬৯৩ টাকা। তার হাতে নগদ টাকা রয়েছে ২৬ কোটি ৩ লাখ ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা। অন্যান্য খাতের মধ্যে ব্যাংকে জমা ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৭ হাজার ২০৭ টাকা, কোম্পানির শেয়ার ৪৩ কোটি ২৭ লাখ ৫৫ হাজার ৪০৪ টাকা এবং পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানত ৩৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর বাইরে রয়েছে তার স্থাবর সম্পত্তি। এর মধ্যে কৃষি জমি ১০ দশমিক ৫০ কাঠা, অকৃষি জমি ১০ কাঠা যার মূল্য ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ৫০ টাকা, ৮ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার ৩১৩ টাকা মূল্যের মতিঝিল, পূর্বাচল ও সাভারে তিনটি দালান রয়েছে। তার একটি বাড়ি রয়েছে যার মূল্য ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৪ টাকা। হলফনামায় শেখ ফজলে নূর তাপস তার স্ত্রীর আয় ও সম্পদেরও বিবরণ দিয়েছেন। শেখ ফজলে নূর তাপসের দায়-দেনা রয়েছে। তিনি অগ্রিম বাড়িভাড়া বাবদ ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৫০ টাকা নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনও মামলা নেই। তবে ২০০২ সালে দুদক আইনে ও ২০০৩ সালে শ্রম আদালতে তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছিল। দুটি মামলাই হাইকোর্ট বিভাগ বাতিল বা খারিজ করে দিয়েছেন।
ইশরাক হোসেন: বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অপরাধে একটি মামলা ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এ বিচারাধীন রয়েছে। এমএসসি ডিগ্রিধারী ইশরাক হোসেন চারটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। এছাড়া ডায়নামিক স্টিল কমপ্লেক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হোল্ডার। তার বার্ষিক আয় ৯১ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকা। আয়ের উৎসের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লভ্যাংশ বাবদ ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৩৮৯ টাকা, চাকরি থেকে ৩৫ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯৬ টাকা ও ব্যবসা থেকে ৪ লাখ ২৪ টাকা। ইশরাক হোসেনের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ৯৮ লাখ ২ হাজার ৭২ টাকা ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৭৮ লাখ ৫১ হাজার ৫২৪ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- নগদ ৩৩ হাজার ১০৯ টাকা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেয়ার বাবদ ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ১ কোটি ৩৭ লাখ ১৮ হাজার ৬৩ টাকা। তার দায়দেনার পরিমাণ ৬৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭৪৩ টাকা। এর মধ্যে মা ইসমত আরার কাছ থেকে ৬১ লাখ ৩৭ হাজার ২২২ টাকা নিয়েছেন। বাকি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন।
হাজী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন: জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন পেশায় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে অতীতে কোনও মামলা ছিল না, বর্তমানেও নেই। তার বার্ষিক আয় ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩ হাজার ৪৩ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি/দোকান/অন্যান্য ভাড়া ৬৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৫৮ টাকা ও ব্যবসা থেকে আয় ৭২ লাখ ৩০ হাজার ১৮৫ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- নগদ ৫৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ৬৯ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮৯ টাকার বিমা, একটি গাড়ি যার মূল্য ১৭ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্র। তার অকৃষি জমি, দালান ও বাড়িও রয়েছে। সাইফুদ্দিনের ঋণ রয়েছে ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে ঋণ আছে দুই কোটি টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্ব-শিক্ষিত উল্লেখ করেছেন তিনি।
আব্দুর রহমান: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আব্দুর রহমান স্ব-শিক্ষিত। পেশায় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা নেই, তবে অতীতে দুটি মামলা হলেও তা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তার বার্ষিক আয় ৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা। সম্পদের মধ্যে নগদ রয়েছে ৫৮ লাখ ৫২ হাজার ৯২ টাকা, আছে ৮৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশ কৃষি জমি, চার তলা একটি বাড়ি ও একটি গাড়ি।
আব্দুস সামাদ: গণফ্রন্টের প্রার্থী আব্দুস সামাদ সুজন এইচএসসি পাশ। তার বিরুদ্ধেও মামলা নেই। পেশায় রাজনীতিবিদ ও একটি পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। তার বার্ষিক আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৩ বিঘা জমি; যার দাম ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া এক লাখ টাকা মূল্যমানের আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী রয়েছে তার।
মো.বাহারানে সুলতান বাহার: ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মো.বাহারানে সুলতান বাহারের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যার অভিযোগসহ দুটি মামলা। দুটি মামলাই বিচারাধীন। নিজেকে স্বশিক্ষিত উল্লেখ করা এ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আগেও তিনটি মামলা ছিল; যা থেকে খালাস পেয়েছেন। ক্ষুদ্রশিল্প ব্যবসায়ী বাহারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ৫০ হাজার টাকা এবং আসবাব ও ইলেকট্রিক পণ্য এক লাখ টাকা। এ প্রার্থীর দায়-দেনা ও ঋণ নেই।
মো.আখতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ: বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো.আখতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ বিএ পাস। হলফনামা অনুযায়ী তার কোনও আয় নেই। তবে নগদ টাকা আছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১৫০ মার্কিন ডলার, ব্যাংকে রয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার নামে মামলা ও দায় দেনা নেই।










