স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীন-প্রবীণ প্রাণের মেলায় মিলেছে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। কলেজের সুবর্ণজয়ন্তী ও পুনর্মিলনীর জমকালো অনুষ্ঠানে মেতে ওঠেছেন পাঁচ সহ¯্রাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী। শনিবার বিকেলে দু’দিনব্যাপি এ আনন্দ আয়োজনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। রোববার পর্দা নামবে এ বর্ণিল আয়োজনের।
যশোরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ’র ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে এ বছর। এই অর্জনকে উপলক্ষ করে সুবর্ণজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। দুই দিন ব্যাপি এই অনুষ্ঠান উদ্যাপন করতে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে গোটা ক্যাম্পাস। কলেজ জুড়ে শোভা পাচ্ছে নানা রকমের বিলবোর্ড। একাডেমিক ও অফিস ভবন রঙবেরঙয়ের আলোর বিন্দু দিয়ে সাজানো হয়েছে। ছোট ছোট স্টলে বসেছে মিনা বাজার। মাঠের এককোনে রয়েছে গরম গরম কফির বন্দোবস্ত। গরম গরম কফিতে চুমুক দিতে দিতে পুরোনো বন্ধুদের সাথে খোশগল্পে মাতছেন সবাই। পুরনো বন্ধুদের সাথে অনেক দিন বাদে মিলিত হওয়ার স্মৃতি ছবির ফ্রেমে ধরে রাখতে ফটোসেশন ও সেলফিতে মাতেন অনেকেই।
৯১’র ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দেখা যায়, লাল সবুজের উত্তরীয়র সাথে হালকা নীল বেগুনির ব্লেজারে আবৃত হয়ে নতুন নির্মিত শহীদ মিনারের বেদিতে গ্রুপ ছবি তুলতে। ভুভুজেলা বাজিয়ে দলবেঁধে র্যালিও করেন তারা।
কলেজ মাঠের পশ্চিম দিকে নির্মাণ করা হয়েছে সুবর্ণজয়ন্তী ও পুনর্মিলনীর উৎসব মঞ্চ। মঞ্চ জুড়ে আলোর সজ্জা। মঞ্চে ডিসপ্লেতে দেখানো হয় কলেজ নিয়ে আগামী দিনের নানান পরিকল্পনা। শনিবার বিকেল চারটার পর এই মঞ্চেই দুই দিনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। শান্তির প্রতীক সফেদ পায়রা ও ফেস্টুন বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যশোর অঞ্চলের এরিয়া কমান্ডার ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার।
উদ্বোধনী পর্বে অন্যান্যের বক্তব্য দেন কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, কলেজ অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আমিনুর রহমান, উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক কাজী ইকবালুর রশীদ, ক্যান্টনমেন্ট কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন খান ডালু প্রমুখ। উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক কাজী ইকবালুর রশীদ জানিয়েছেন, ‘এসো স্মৃতির প্রাঙ্গণে, মিলি প্রীতির বন্ধনে’ এই শ্লোগানে ক্যান্টনমেন্ট কলেজের পাঁচ সহ¯্রাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী এই মিলনমেলায় অংশ নিচ্ছে। প্রবীণ ৭৫ ব্যাচের ৩ জন প্রাক্তন ছাত্র অংশ নিচ্ছেন। ৭৫ থেকে সর্বশেষ ১৯ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে রয়েছেন। রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য প্রাক্তনের এই অনুষ্ঠানকে উজ্জ্বল করেছেন।
নবীন-প্রবীণ প্রাণের মেলায় মিলেছে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ
নড়াইলে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক গ্রেফতার
নড়াইল প্রতিনিধি ॥ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আড়িয়ারা গ্রামে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে মুরসালিন মৃধা (২০) নামে এক যুবককে শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) ভোরে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার হওয়া মুরসালিন উপজেলার আড়িয়ারা গ্রামের লাজুক মৃধার ছেলে। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. আমানুল্লাহ বারী জানান, মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে চার যুবক কৌশলে অচেতন করে লোহাগড়ার আড়িয়ারা গ্রামের মুজিবারের ইটের ভাটার শ্রমিকদের শোওয়ার ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে রাতভর সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করে কিশোরীর পরিবার। মামলা দায়েরের পর পুলিশ শনিবার ভোর রাতে মামলার প্রধান আসামি মুরসালিনকে গ্রেফতার করে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কিশোরী মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষা জন্য শনিবার নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি জানান। সূত্র জানায়, ধর্ষণের ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় সালিশ হয়। সালিশে ঘটনার মূল নায়ক মুরসালিনের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে বিবাহ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সালিশে উপস্থিত গ্রাম্য মাতব্বররা। তবে মুরসালিন এ বিয়েতে অসম্মতি জানালে পরবর্তীতে শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের হয়।
আগুন নিভিয়ে চলে যান ফায়ারকর্মীরা, ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় মেলে কিশোরের লাশ
খুলনা প্রতিনিধি ॥ খুলনা মহানগরীর ডালমিল মোড় এলাকায় একটি বেকারিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। শুক্রবার মধ্য রাতে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন নিভিয়েই কর্মীরা চলে যান। সকালে ধ্বংসস্তূপ সরাতে গিয়ে এক কিশোরের লাশ পাওয়া যায়। নিহত মইনুল হক (১৫) ওই বেকারিতে কাজ করতো।
খুলনা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের (বয়রা) এসও সাঈদুজ্জামান জানান, শুক্রবার দিনগত রাত সোয়া ২টার দিকে পপুলার নামে একটি বেকারিতে আগুন লাগে। বেকারির চুলা থেকে এ আগুনের সূত্রপাত। বাতাস থাকায় আগুন দ্রুত আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে ফায়ার সাভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বেকারির তিনটিসহ পাঁচটি ঘর পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘রাতে আগুন নিভিয়ে আমরা ফিরে আসি। এরপর শনিবার ভোরে আবার উদ্ধার কাজে যাই। এ সময় ঘরে চাপা পরে থাকা মইনুল হক নামে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।’ বেকারির ভেতর কেউ থাকতে পারে, এরকম তথ্য কেউ জানায়নি বলে দাবি করেন তিনি। মইনুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার কুড়িয়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। সে ডালমিল মোড় এলাকায় বসবাস করতো। খুলনায় বেকারিতে আগুন এলাকাবাসীর অভিযোগ, যথেষ্ট পানি না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগে। এ কারণে বেকারির আশপাশের কয়েকটি ঘরও পুড়ে গেছে। আগুনে কারখানাটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
জানুয়ারিতেই মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘এই জানুয়ারি মাসেই মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে। সে লক্ষ্যে ওয়েবসাইটে রক্ষিত পুরনো তালিকা স্থগিত করা হবে। অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম যাচাই-বাছাই করে সেগুলো বাতিল করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপত্তি যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের আইডি কার্ড দেওয়া হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের আধুনিক কার্ড দেওয়া হবে, যাতে কেউ জালিয়াতি করতে না পারে।’ জানুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি করে পাসপোর্ট সাইজের ছবি স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে যশোর সদরের খাজুরায় মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ’ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের আগামী প্রজন্মকে যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও বীরত্বের কাহিনী জানাতে হবে, ঠিক তেমনই হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামসের হত্যা, নারী নির্যাতন, দমনপীড়ন আর তাদের পৈশাচিকতা সম্পর্কেও অবহিত করতে হবে। যাতে করে তারা উভয়পক্ষের কথা জেনে বিচার করতে পারে। না হলে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ আর বীরত্বের কথা ভুলে যাবে।’ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বর্তমান সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের যেন আর কষ্ট করে ব্যাংকে গিয়ে টাকা তুলতে না হয়, সেজন্য সরকার তাদের মোবাইলেই ভাতার টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। তাতে করে মুক্তিযোদ্ধারা বাড়িতে বসেই তাদের প্রাপ্য অর্থ পাবেন।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে ৩০ বছরই ক্ষমতায় ছিল মোশতাক, জিয়া, এরশাদ, খালেদা গং। আর বঙ্গবন্ধু সাড়ে তিন বছর এবং তার কন্যা শেখ হাসিনা ১৬ বছর। কিন্তু তারা দেশের জন্যে যে কাজ করেছে, তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি কাজ হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।’ তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেন, “জয় বাংলা’ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। আপনারা নিজ নিজ সন্তানকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভালোভাবে শিক্ষা দিন। তারা যদি ‘জিন্দাবাদের’ স্লোগানে লিপ্ত হয়, তাহলে আমাদের আর ইজ্জত থাকবে না।”
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এমএন মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এসএম আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রাজেক আহমেদ প্রমুখ।
বক্তৃতাকালে পল্লি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা যদি বিজয় লাভ না করতে পারতাম, তাহলে হানাদার ও তাদের দোসররা আমাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতো। আমরা সৌভাগ্যবান, কেননা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছি। লাল-সবুজের এই পতাকা পেয়েছি। সেই যুদ্ধে বন্ধুরাষ্ট্র সহায়তা করেছিল; খাজুরায় যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর ছয় সদস্য আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। আমরা তাদের স্মৃতি চিরজাগরূক রাখতে চাই।’
যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘দেশের যে যে স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রয়েছে, যেখানে যেখানে বধ্যভূমি রয়েছে, সম্মুখযুদ্ধের ঘটনা রয়েছে, সেসব স্থানে বর্তমান সরকার স্মৃতিসৌধ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সময়ের বিবর্তনে আমরা একদিন হারিয়ে যাবো। কিন্তু এসব স্মৃতিসৌধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা চিরঅম্লান থাকবে। যারা নিজেদের জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে দেশমাতৃকার সম্ভ্রম রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তাদের ঋণ কোনোভাবেই শোধ করা সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার আগামী প্রজন্মের কাছে তাদের সেই বীরত্বগাথা অটুট রাখতে নিরলস কাজ করে চলেছে।’ বেলা সাড়ে ১১টায় খাজুরা এমএন মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক কোণে নির্মিত এই স্মৃতিসৌধের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। এসময় তার সঙ্গে অন্যান্য অতিথিসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
স্যাটেলাইট ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে অ্যাপল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ডাটা ট্রান্সমিশনের জন্য স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে যাচ্ছে অ্যাপল। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী এই কাজের জন্য অনেক অ্যারোস্পেস প্রকৌশলী ও অ্যান্টেনা ডিজাইনারও নিয়োগ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বর্তমানে এটি অ্যাপলের একটি প্রকল্প হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। মূলত কোনো থার্ড পার্টি নেটওয়ার্কের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি অ্যাপলের বিভিন্ন ডিভাইস যেমন আইফোনের সঙ্গে ডেটা আদান প্রদান করার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে অ্যাপল। ব্লুমবার্গ জানায়, এর জন্য অ্যাপলকে কোনও স্যাটেলাইট বানাতে হবে না। শুধু ভূমিতে স্থাপিত ট্রান্সমিশন ডিভাইস তৈরি করে কক্ষপথে আবর্তিত স্যাটেলাইটগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলেই হবে। এটি সফল হলে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা অ্যাপলের ডিভাইসগুলোর অবস্থান সঠিকভাবে জানা যাবে। ফলে মানচিত্র বা গাইড করার মতো সেবাগুলো আরও উন্নত হবে বলে আশা করছে অ্যাপল।
স্যাটেলাইটের সঙ্গে সরাসরি ফোনকে সংযুক্ত করার জন্য ইতোমধ্যে লিংক নামে একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ডিভাইসগুলোকে একটি গ্লোবাল রোমিংয়ের আওতায় আনা যাবে। এর মাধ্যমে ভূমিতে স্থাপিত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার চেয়ে অনেক দ্রুত তথ্য আদান প্রদান করা সম্ভব। এর নেটওয়ার্ক কোনও অঞ্চলের স্থানীয় নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করবে না। কোনও এলাকার নেটওয়ার্কের অবস্থা যাই হোক না কেন, স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা ফোনগুলো থেকে ব্যবহারকারী টেক্সট পাঠানো এবং কল ঠিকই করতে পারবে। টেক ক্র্যাঞ্চ জানায়, অ্যাপলের অনেক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই এখনও সাধারণ মানুষ জানে না। এই প্রযুক্তিটি চালু হলে কোনও এলাকায় নেটওয়ার্ক না থাকলেও ব্যবহারকারী আই-মেসেজ, ভয়েস কল, নেভিগেশনসহ ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপ চালাতে পারবেন। তবে এজন্য অবশ্যই তাকে কোনও একটি মূল্যের প্ল্যান কিনে নিতে হবে।
কেমন হবে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচার?
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ব্যবহারকারীদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত নতুন নতুন ফিচার নিয়ে আসে হোয়াটসঅ্যাপ। আগামী বছরও প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য ফিচার নিয়ে আসবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ ২০২১ সালে যেসব ফিচার আনবে তার মধ্যে বেশকিছু ফিচারের পরীক্ষা এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ বছর কয়েকটি ফিচারের পরীক্ষা চালিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। এরমধ্যে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া ফিচারগুলোকে নিয়ে আসা হবে। ভারতের প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম গেজেটস নাউ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগামী বছর বেশকিছু নতুন ফিচার আনবে ফেসবুকের মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভাবা হচ্ছে ‘ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজেস’ ফিচারটিকে।
ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজেস ফিচারের সাহায্যে একটি মেসেজ কতক্ষণ থাকবে তা ঠিক করে দেওয়া যাবে। অর্থাৎ, মেসেজ ডিলিট করা এবং রাখার বিষয়টি নির্ধারণ করা যাবে এই ফিচারের সাহায্যে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী বছর হোয়াটসঅ্যাপের অনেক ফিচারই পাওয়া যাবে। কিন্তু একটি ফিচার আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের ধরনই পাল্টে দেবে। আর এটি হলো ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজেস। এ বছর ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজেস’র দু’বার পরীক্ষা চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ থেকে জানা যায়, গ্রুপ চ্যাটের ক্ষেত্রে ফিচারটি কার্যকর হবে। কোনও গ্রুপ চ্যাটের অ্যাডমিনেস্ট্রেটর যারা থাকবেন তারাই এটি ব্যবহার করতে পারবেন। প্রথমবার যখন ফিচারটির পরীক্ষা চালানো হয় তখন গ্রুপ চ্যাটে একটি মেসেজ কতক্ষণ থাকবে তার ৬টি অপশন দেওয়া হয়। আর সর্বশেষ যে পরীক্ষা চালানো হয় তাতে দেওয়া হয়েছিল দুটি অপশন। ফলে মূল যে ফিচারটি আসবে তাতে কয়টি অপশন থাকবে সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।
১৬ জিবি র্যামের ‘কনসেপ্ট’ ল্যাপটপ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ প্রযুক্তি ব্র্যান্ড এসার বাজারে অবমুক্ত করলো কনসেপ্ট ডি-ফাইভ সিএন৫১৫-৭১ মডেলের নতুন ল্যাপটপ। ল্যাপটপটি মূলত তৈরি করা হয়েছে এআই ইঞ্জিনিয়ার, সফটওয়্যার ডেভেলপার, ফিল্মমেকার ও প্রফেশনাল গেমারদের জন্য। তাছাড়া গ্রাফিকস ও ভিডিও এডিটিংয়ের মতো সব ধরনের কাজে পাওয়া যাবে গতিশীল অভিজ্ঞতা। এতে রয়েছে ইন্টেল নবম প্রজন্মের ৯৭৫০এইচ মডেলের ৪.৫০ গিগাহার্টজ গতির কোর আইসেভেন প্রসেসর, ১৬ জিবি ডিডিআর-ফোর র্যাম,২৫৬ জিবি এসএসডি, ২ টেরা হার্ডড্রাইভ এবং ৬ জিবি ডিডিআর-৬ এনভিদিয়া জিটিএক্স ১৬৬০টিআই ডেডিকেটেড গ্রাফিকস কার্ড। এসারের এই ল্যাপটপের কুলিং সিস্টেম আগের চেয়ে অনেক উন্নত করেছে। ফলে দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারেও ল্যাপটপটি সহজে গরম হয় না। এর ব্যাটারি লাইফ ভালো। ব্যাকলিট কি-বোর্ড, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, ওরিজিনাল উইন্ডোজ প্রোসহ ল্যাপটপটির দাম ১ লাখ আশি ৮০ হাজার টাকা।
অ্যানিমেটেড পিএনজি ছবি নিষিদ্ধ করলো টুইটার
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মৃগী রোগীদের অ্যাকাউন্টে বিপজ্জনক অ্যানিমেটেড ছবি পোস্টের অভিযোগে অ্যানিমেটেড পিএনজি ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ হলো টুইটারে। ভার্জ জানায়, টুইটার কর্তৃপক্ষ এক ধরনের বাগের সন্ধান পায় যার কারণে সেটিংসে অ্যানিমেটেড ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়ার অপশনটি নিজে থেকেই চালু হয়ে যায়। এ বিষয়ে টুইটারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমরা চাই অ্যাকাউন্টটি সবার জন্য নিরাপদ থাকুক। পিএনজি ফাইলগুলোতে সাধারণত মজার বিষয়গুলো থাকে। কিন্তু সেটিংস’র এই অপশনটি যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে তাহলে অ্যানিমেটেড ছবি বন্ধ করে দেওয়াই ভালো। মূলত মৃগী রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হলো। তবে এ পর্যন্ত যেসব পিএনজি ফাইল টুইটারে আপলোড করা হয়েছে সেগুলো ডিলিট করবে না বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে এরপর থেকে শুধু জিআইএফ ফরম্যাটের ছবিগুলো চলবে এই প্ল্যাটফর্মে। ভার্জ আরও জানায়, অ্যানিমেটেড ছবি কখনও কখনও মরণ ঘাতকও হতে পারে। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) টুইটার জানায় তারা পিএনজি ছবির বিপরীতে এমন কোনও ফিচার খুঁজছে যা ব্যবহারকারীদের আরও ভালো অভিজ্ঞতা দিতে পারবে।
আরও কমেছে ডিএসইর মূল্য আয় অনুপাত
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই দেশের শেয়ারবাজারে মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে দাম কমেছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। ফলে গত সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) কমেছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে শেয়ারবাজার পতনের মধ্যে থাকায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্সসহ বাকি দুই সূচকের পতন হয়েছে। সূচকের এই পতনের মধ্যে বাজারে লেনদেনে অংশ নেয়া ৬৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে।
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের এ দাম কমার ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই কমেছে প্রায় এক শতাংশ। গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই ছিল ১১ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত কমেছে দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৮ শতাংশ। খাতভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বরাবরের মতো সব থেকে কম পিই রেশিও রয়েছে ব্যাংক খাতের। সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৭ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সেবা ও আবাসন খাতের পিই ৯ দশমিক ১১ পয়েন্ট অবস্থান করছে। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। এ খাতের পিই ৯ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে রয়েছে।
এছাড়া টেলিযোগাযোগ খাতের পিই ১১ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট, বীমা খাতের ১৩ দশমিক ৭২ পয়েন্ট, বস্ত্র খাতের ১৫ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট, খাদ্য খাতের ১২ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৫ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট, চামড়া খাতের ১৭ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট, প্রকৌশল খাতের ১৫ দশমিক ২৭ পয়েন্ট, তথ্য প্রযুক্তির ১৯ দশমিক ১০ পয়েন্ট এবং পেপার খাতের ১৯ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাকি খাতগুলোর পিই রেশিও ২০ পয়েন্টের ওপরে। এর মধ্যে বিবিধ খাতের ২১ দশমকি ৪৫ পয়েন্ট, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ২৮ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট, সিরামিক খাতের ২৫ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট, সিমেন্ট খাতের ২৪ দশমিক শূন্য ২ পয়েন্ট, আর্থিক খাতের ১৪৭ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট এবং পাট খাতের ৩৯৭ দশমিক ৭০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
ব্যাংকিং খাতে নেতিবাচক প্রভাব, বিপাকে সরকার-সাধারণ মানুষ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ব্যাংকিং খাতে নেতিবাচক প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মো. সায়েদুর রহমান। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সঙ্গে বিএমবিএর নবনির্বাচিত প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিএমবিএ সভাপতি বলেন, ব্যাংকিং কোম্পানি আইন (সংশোধিত)-২০১৮ এর ফলে ফাইন্যান্সিং পাওয়ার, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ, আমানতকারীর সংখ্যা ও শেয়ারবাজারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমে গেছে। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে যেসব নেতিবাচক প্রভাব আসছে তা থেকে বের হওয়ার কোনো শক্তি এখনও তৈরি হয়নি। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতের যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাতে শুধু সাধারণ জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ব্যাংকিং খাতের প্রতি সুদৃষ্টি দিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে দেশের বেসরকারি খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে এফবিসিসিআইয়ের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন বিএমবিএর নতুন কমিটি। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মুনতাকিম আশরাফ, সহসভাপতি মিসেস হাসিনা নেওয়াজ, মো. সিদ্দিকুর রহমান, মো. রেজাউল করিম রেজনু, মীর নিজামুদ্দিন, নিজামুদ্দিন রাজেশ, বিএমবিএ প্রথম সহসভাপতি মো. সোহেল রহমান, বিএমবিএ মহাসচিব মো. রিয়াদ মতিন এবং বিএমবিএ সদস্য মাহবুব এইচ মজুমদার, ওবায়দুর রহমান ও মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।










