কেশবপুরে তীব্র শীতে মানুষ অসহায়, বোরো বীজতলার চারা আক্রান্ত
জয়দেব চক্রবর্ত্তী,কেশবপুর (যশোর) ॥ যশোরের কেশবপুরে তীব্র শৈত্য প্রবাহে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে শৈত্য প্রবাহ, দু দিনের বৃষ্টি ও ঘন কুয়াশার কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে। ধানের বীজতলার চারা কোল্ড ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে পাতা লালাভ বর্ণ ধারণ করেছে। প্রতি দিনই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ও শ্বাসকষ্টের রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে হাসপাতাল ও কিনিকগুলোতে ।
চলতি বছর সরকারি ভাবে কেশবপুর উপজেলায় বোরো ধানের আবাদের ল্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৬ হাজার হেক্টর। যার ধান উৎপাদনের ল্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ হাজার ৯৩০ মেট্রিক টন। অপরদিকে উফশী জাতের ধানের আবাদ করা হবে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে। এতে ধান উৎপাদন হবে ৬০ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন। ধান আবাদের ল্েয এ বছর বীজতলা প্রয়োজন হবে উফশী জাতের ৪৫০ হেক্টর এবং হাইব্রিড জাতের ২৪০ হেক্টর। এর মধ্যে ৪৭১ হেক্টর জমিতে বীজতলা ফেলা হয়েছে। এতে ধানের আবাদ করা যাবে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। বাকি ২১৯ হেক্টর জমিতে বীজতলা ফেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চলতি বছর ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ আদৌ হবে কি-না তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। এর ফলে চলতি বছর কেশবপুরে ধান উৎপাদনের ল্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা রয়েছে। এদিকে সময়কালীন আগাম জাতের যেমন, বিআর-২৮,২৯,৫৮,৫০ ও ৮১ জাতের ধান সময় মত রোপন না করা হলে ধানের উৎপাদন কম হয় বলে কৃষি অফিস জানায়।
কৃষি অফিসের মতে, কেশবপুরে ৬৩ ভাগ কৃষক বিভিন্ন উঁচু জমিতে বীজতলা ফেললেও তাদের অধিকাংশ ধানের তে এখনও পর্যন্ত জলাবদ্ধ পানিতে তলিয়ে আছে। অপরদিকে বিল গরারিয়া,বলধালি, পাঁজিয়া-পাথরা ,বুড়–লি, সারুটিয়া বিল সমূহে পানি সেচ না দেওয়ায় কৃষকরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। এরই মধ্যে উঁচু জমিতে তৈরি বীজতলা শৈত্য প্রবাহে কোল্ড ইন্জুুির আক্রান্ত হয়ে পাতা লালচে বর্ণ ধারণ করছে। যা দিয়ে ধান চারা রোপন করা যাবে না। অপরদিকে কেশবপুরের বিল গরালিয়াসহ আশপাশের জমির মালিক ও কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, বিল অভ্যন্তরের কৃষি জমিতে তৈরি করা মাছের ঘেরের মালিকরা তাদের চুক্তি অনুযায়ী ঘেরের পানি অপসারণ না করায় এবার বোরো আবাদ হবে না কয়েক শ হেক্টর জমিতে। কৃষকদের প হয়ে কর্ন্দপপুর গ্রামের মুনসুর আলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর বিলের পানি অপসারণের জন্য আবেদন করেছেন।
ছয় মাসেই শেষ অর্থ বছরের বরাদ্দ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ প্রধান আর্থিক জোগানদাতা রাজস্ব খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অর্থ পাচ্ছে না সরকার। আবার দেশের বাইরে থেকেও আগের মতো ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ সরকারের খরচ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিয়ে চলতে হচ্ছে সরকারকে। এই ঋণের টাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনও দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ছয় মাস না যেতেই এই অর্থবছরের পুরো টাকাটাই নিয়ে ফেলেছে সরকার। এতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ব্যাংক খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যেও। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন বছরে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে। তাদের মতে, সামনের দিনগুলোতে আরও খারাপ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। অর্থনীতিতে একটা বড় ধাক্কা লাগতে যাচ্ছে। ব্যাংকের টাকা উৎপাদনশীল খাতের চেয়ে অনুৎপাদনশীল খাতে বেশি যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যাংকের টাকা উৎপাদনশীল খাতে গেলে অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি অব্যাহতভাবে কমছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হচ্ছে। অন্যদিকে রাজস্ব আয় না বাড়ার ফলে সরকার ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিচ্ছে।’ প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ নেবে বলে ঠিক করেছে। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই সরকার ৪৪ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা ধার হিসেবে নিয়েছে। এই অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ধারের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত অর্থবছরের শেষ দিকে সরকারের টাকার টান পড়ে বেশি। কিন্তু এবার অর্থবছরের শুরুতেই টাকার টান পড়েছে। ফলে প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক থেকে টার্গেটের প্রায় সমান ধার নিয়ে ফেলেছে সরকার। এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আয়ের প্রধান তিন খাতেই আদায় কমেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর এমএ তসলিম বলেন, ‘সরকার রাজস্ব খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত হারে টাকা পাচ্ছে না। আবার বিদেশ থেকেও আগের মতো ঋণ আসছে না। ফলে সরকার বাধ্য হয়েই ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ১০ বছরের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের সবচেয়ে বেশি ধার করার রেকর্ডটি ছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরের। ওই অর্থবছরে ধার নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। অথচ এই অর্থবছরের পাঁচ মাসেই পুরো অর্থবছরের টাকা নেওয়া শেষ করেছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বেসরকারি ব্যাংক থেকে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা যে পরিমাণ ঋণ পাচ্ছে, সরকার ঋণ পাচ্ছে তার চেয়েও বেশি। গত ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের কাছে ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সরকারের কাছে পাবে ১ লাখ ১০ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাবে ৪১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে গত ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত (সাড়ে ৫ মাসে) সরকার ব্যাংক খাত থেকে টাকা ধার নিয়েছে ৪৪ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে ৭ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা; আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নিয়েছে ৩৬ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। এভাবে চলতে থাকলে বেসরকারি খাত চাহিদামতো ঋণ পাবে না বলে মনে করেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের টাকা ধার নেওয়ার প্রবণতা বাড়লে কর্মসংস্থানের বাধা সৃষ্টিসহ জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপও বেড়ে যাবে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণে সরকারের মনোযোগ দেওয়া জরুরি। তার মতে, উচ্চ সুদে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে ব্যাংক থেকে নেওয়া মন্দের ভালো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবরে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ২২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সরকারের ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে এই অর্থবছরে এনবিআরকে সার্বিকভাবে প্রায় ৪৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। অথচ চার মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশের কিছু বেশি। এই সময়ে আয়কর, শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট—কোনও খাতেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। যদিও চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করার টার্গেট দেওয়া আছে। এদিকে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার কথা ২৭ হাজার কোটি টাকা। তবে সঞ্চয়পত্র কেনায় নিয়মকানুন কড়াকড়ি করায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে গেছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে কেবল ৫ হাজার ৫২১ কোটি টাকার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ধার করার কথা সরকারের। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়ার কথা ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় আশানুরূপ ঋণ পাচ্ছে না বেসরকারি খাত। গত কয়েক মাস ধরে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিক কমছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে বেসরকারি খাতে ঋণের হার কমেছে প্রায় দশমিক ৬২ শতাংশ। অক্টোবরে ১০ দশমিক ০৪ শতাংশ ছিল ব্যাংক ঋণের হার। এই হার গত দশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের অক্টোবরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ০৪ শতাংশ হয়েছে। যা আগের মাস, সেপ্টেম্বরে ছিল ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আগস্টে ছিল ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ’ এর চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকার যেভাবে ঋণ নিচ্ছে তাতে বেসরকারি খাত কিছুটা বাধাগ্রস্ত তো হবেই। চলমান প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে, আগামীতে সরকারের ঋণের পরিমাণ আরও বাড়বে।’ এতে ব্যাংক খাতে কিছুটা প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টার্গেটের চেয়ে এখন কিছুটা ঘাটতি থাকলেও বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে এনবিআর। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ সব শহরের বাড়িওয়ালারা যাতে সরকারকে ট্যাক্স দেয়, সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বরধারী (টিআইএন) সবাই যাতে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন, সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আশা করা যায়, সবকিছু ঠিক থাকলে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হলে সরকারের ব্যাংক ঋণও কমে আসবে।’
মুক্তিযোদ্ধাদের পুরাতন তালিকা স্থগিত করে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে : মনিরামপুরে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার, মনিরামপুর (যশোর) ॥ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, নববর্ষের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মুক্তিযোদ্ধাদের পুরাতন তালিকা স্থগিত করে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর যাচাই বাছাই শেষে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন সময়ে মাত্র ১৯ বছর দেশ পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশ পরিচালিত হয়েছে ৩৫ বছর। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এই ১৯ বছরে দেশের যে উন্নয়ন করেছেন, ৩৫ বছরে তার বিন্দুমাত্র পরিমাণও উন্নয়ন হয়নি। শনিবার দুপুরে যশোরের মনিরামপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রোকনুজ্জামানের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুুক্তিযোদ্ধা খয়রাত হোসেন, মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান, উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন প্রমুখ। অপরদিকে মঙ্গলবার বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য উপজেলার রাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উদ্বোধন করেন।
রামনগরে ইমাম ইরফান আলীর ইন্তিকাল
কুয়াদা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোর সদরের রামনগর ইউনিয়নের কুয়াদার ইমাম ইরফান আলী গাজী ইন্তিকাল করেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর বয়স হয়েছিল ১১০ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে শনিবার সকালে কামালপুর নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ কালীগঞ্জ চাপরাঈল জামে মসজিদে ইমামের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ৭ ছেলে, ৪ মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শনিবার বাদআসর দণি কামালপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে মরহুমের নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মরহুমের জানাজায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
শ্যামনগরে অ্যাপোলো হাসপাতালের উদ্বোধন
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ল্েয সুন্দরবন অ্যাপোলো নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা সদরের হায়বাতপুর মোড়ে হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম আতাউল হক দোলন। হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মো. শাজাহান সিরাজ বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ এ উপজেলায় ৫ লাধিক মানুষের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা নিতে রাজধানী ঢাকায় যেতে হয়। এমনকি দেশের গন্ডি পেরিয়ে ভারতে যেতে হয়। এতে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে তিগ্রস্ত হয়। গরীব ও অসহায় মানুষের পে ব্যয় নির্বাহ করা দুরূহ। সুন্দরবন এ্যাপোলো হাসপাতালে ১২টি রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেবা প্রদানসহ রোগ নির্ণয়ে সর্বাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করবেন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা গরীব ও অসহায় মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে তিনি জানান।
সুন্দরবনে ৬ টি নৌকাসহ দুই শ আটল জব্দ
শ্যামনগর (সাতীরা) সংবাদদাতা ॥ বনবিভাগ পশ্চিম সুন্দরবনে অভয়ারণ্য এলাকা হতে ৬ টি নৌকা ও কাঁকড়া ধরা কাজে ব্যবহৃত আটল জব্দ করা হয়েছে। শনিবার ভোরের দিকে সাতীরা সহকারী বন সংরক (এসিএফ) এম এ হাসানের নেতৃত্বে বনকর্মীরা গহীন সুন্দরবনের হলদেবুনিয়া এলাকা থেকে নৌকা ও আটল জব্দ করার সময় জেলেরা পালিয়ে যায়। সহকারী বন সংরক (এসিএফ) এম এ হাসান জানান, সুন্দরবনে নিরাপত্তা টহল দেয়ার সময় হলদেবুনিয়া অভয়ারণ্য এলাকা হতে ৬ টি নৌকা ও ২ শ আটল জব্দ করা হয়।
তালায় মাদ্রাসার বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম চুরি
তালা (সাতীরা) সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাগুরা পীরশাহ জয়নুদ্দীন দাখিল মাদ্রাসার বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও কাশের জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। মাগুরা পীরশাহ জয়নুদ্দীন দাখিল মাদ্রাসার সুপার আলা উদ্দীন জানান,শুক্রবার দিবাগত রাতে মাদ্রাসার অফিস কক্ষের তালা কেটে চোরেরা বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও কাশের জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে গেছে। যার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। এদিকে এলাকাবাসী জানান,মাদ্রাসার লাইটগার্ড হান্নান স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ায় মাদ্রাসায় না থাকার কারণে রাতে চুরি সংঘটিত হয়েছে। তালা থানার ওসি তদন্ত সেকেন্দার আলী চুরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,অভিযোগ পাওয়া গেলে চুরির সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খানজাহান আলী থানা ও কলেজ সড়ক ভারী যানবাহনের দখলে, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা
শেখ বদরউদ্দিন, ফুলবাড়ীগেট (খুলনা) ॥ খুলনার খানজাহান আলী থানার শিরোমণি-বারাকপুর ঘাটের ব্যস্ততম গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ভারী যানবাহনের দখলে চলে গেছে। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের যানবাহনগুলো সড়কের দুই পাশে রেখে দেয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ব্যস্ততম এই সড়কের উপর এলোমেলোভাবে গাড়ি পার্কিং করার করণে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ খুলনা প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মিন্টু দত্ত কিছুদিন আগে তারক-পরশ ফাওয়ার মিলের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। খুলনার শিরোমণি বিসিক শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে খানজাহান আলী আদর্শ মহাবিদ্যালয়, শিরোমণি বিটিসিএল, খানজাহান আলী থানা, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) খুলনা সদর দপ্তর অফিস, খুলনা জেলা পুলিশ লাইন, পুলিশ ফায়ারিং রেঞ্জ, বিএডিসি সার গোডাউন, পলী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, গফ্ফার ফুড লিমিটেড, চরকা স্টিল কোম্পানি লিমিটেড, জেমকন সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেড, শিরোমণি কেডিএ আবাসিকসহ গিলাতলা, বারাকপুর এলাকার হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যম এই সড়কটি। এ সড়ক দিয়ে দিঘলিয়া উপজেলার অপর প্রান্ত দিয়ে ভৈরব নদীর ওপারের বারাকপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সাদামাছের পোনা ব্যবসায়ীরা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে সরবারহ করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির উপর বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভারী যানবাহন চলাচল করে। সড়কের উপর অবৈধ এবং এলোমেলোভাবে গাড়ি পার্কিং করে রাখায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। খোদ খানজাহান আলী থানার সামনে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করে রাখলেও পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে। খানজাহান আলী আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কুলসুম আক্তার বলেন, কলেজে যাতায়াতের সময় প্রায়ই চোখের সামনে দুর্ঘটনা দেখে আতঙ্কে থাকি। অপর শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান বলেন, খুলনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ও আমাদের কলেজে যাতায়াতের পথে চরম অসুবিধার সৃষ্টি হয়। সড়কটির উপর কিছু প্রতিষ্ঠান এবং মালিকানা যানবাহন এলোমেলোভাবে যত্রতত্র রেখে দেয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে পথচারীসহ স্কুল এবং কলেজগামী শিক্ষার্থীদের। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সড়কের উপর গাড়ি পার্কিং করা দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।









