শোভাযাত্রা ও গ্রামীণ খেলায় বর্ষবরণ চুয়াডাঙ্গায়
কৃষক কার্ড বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনার কোন সুযোগ নেই : ঝিনাইদহে আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার শপথ নেয়ার পর থেকে নির্বাচনী প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পালন করে যাচ্ছে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে সরকার। আজ কৃষক কার্ড বিতরন করা হলো। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে সরকার একের পর এক কাজ করে চলেছে।
তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলের কন্ঠ রোধ করা হচ্ছে বলে বিরোধী দল জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করেছেন। কিন্তু আমরা বলতে চাই, সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের বরাদ্ধের চেয়ে বেশি সময় দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে শৈলকুপার আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কৃষক কার্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে কৃষক কার্ডধারী ১৬৭৯ জন উপকারভোগী কৃষক সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর ব্লকের কৃষকরা পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে কৃষক কার্ড পাচ্ছেন।
‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
লোকসমাজ ডেস্ক॥ কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির দেওয়া ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আজ (মঙ্গলবার) কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উপলক্ষে দেশের ১০টি জেলায় ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ জন প্রান্তিক কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেয়ার মাধ্যমে সারাদেশে প্রি-পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
বেলা ১২টা ২২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন চাপার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের প্রত্যেকের কাছে মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্টে আড়াই হাজার টাকার নগদ অর্থ চলে যায়।
কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে ১৫ জন কৃষক-কৃষাণী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সরাসরি এ কার্ড নেন। তারা হলেন- টাঙ্গাইলে মো. আবু কায়সার, মো. রোমান, শাহনুর আলম, মো. শাহ আলম, জুলেখা আখতার, নাসিমা খানম সুমনা, শিল্পী, আমেনা বেগম, নবাব আলী, মোহাম্মদ আলী, কবির হোসেন, মোছাৎ মনোয়ারা আখতার, শামীমা আখতার, লায়লা বেগম ও তাহমিনা।
পরে কৃষক সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর আগে বেলা ১১টা ২০মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে সরাসরি মঞ্চে উঠে কৃষক-কৃষাণীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
পরে পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম।
কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে কৃষক-কৃষাণীসহ কয়েক হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক সমবেত হন। পুরো স্টেডিয়ামের মাঠে এবং মঞ্চের সামনে ছাড়াও গ্যালারিতেও লোকজনের উপস্থিতি দেখা যায়।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ; মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু; জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি ও কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ উপস্থিত রয়েছেন।
পরে তারেক রহমান পৌর উদ্যানে কৃষিমেলার উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত কৃষক সমাজের সরাসরি ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পহেলা বৈশাখ থেকে টাঙ্গাইলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল তারেক রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি।
প্রাক-পাইলট পর্যায়ে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক; বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক; ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক; পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক; কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক; কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক; টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক; রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক; মৌলভিবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক; পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক ও জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনে জয়ের মাত্র দু’মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করছেন। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা।
তিন ধাপে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সব কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ দিচ্ছে সরকার। পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে দেওয়া হবে এই কার্ড। এর মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন কার্ডধারীরা।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, কৃষক কার্ড বিতরণ তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এগুলো হল, প্রাক পাইলট (পরীক্ষামূলক), পাইলট এবং দেশব্যাপী কার্যক্রম।
প্রাক পাইলট পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষি বা আহরণকারী; প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি ও দুগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণচাষীও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
প্রাক পাইলট পর্যায়ের জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এই পর্যায় শেষ হওয়ার পর আগামী আগস্ট পর্যন্ত ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরে সারাদেশে এই কার্ড বিতরণ ও তথ্য ভা-ার তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রাক পাইলট পর্যায়ে ওই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণচাষিকে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন কৃষক ২ হাজার ২৪৬ জন; প্রান্তিক কৃষক ৯ হাজার ৪৫৮ জন; ক্ষুদ্র কৃষক ৮ হাজার ৯৬৭ জন; মাঝারি কৃষক ১ হাজার ৩০৩ এবং বড় কৃষক ৯১ জন।
এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ দেওয়া হবে। ২২ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন।
কার্ড পাওয়া কৃষকেরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। সেগুলো হল- ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ; ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা; সহজ শর্তে কৃষিঋণ; স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি; সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা; মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য; কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ; ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ; কৃষি বিমা সুবিধা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা।
কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে সরবরাহ করা পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ,মৎস্য বা প্রাণীখাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন।
এর আগে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ২১ দিনের মাথায় গত ১০ মার্চ নারীপ্রধান পরিবারের নামে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে পাচ্ছেন।
পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম পর্যায়ে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন উপকারভোগীকে এই ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এছাড়াও ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রথম পর্যায়ে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ড দিয়েছে। বেতনের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সম্মাননাও প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ৩০ মার্চ ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় ১২৯ ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন তিনি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ইমাম, মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকারি সম্মানী চালু করেন। গত ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান।
সরকারের এই উদ্যোগের আওতায় দেশজুড়ে ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকসহ উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সম্মানী পাচ্ছেন।
এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জার যাজকরা প্রথমবারের মতো সরাসরি রাষ্ট্রীয় ভাতার আওতায় এসেছেন।
বাঙালির জীবনে পহেলা বৈশাখ

শিকদার খালিদ
বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক অনন্য উচ্ছ্বাস, আবেগ ও ঐতিহ্যের নাম। এটি কেবল নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং একটি সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের দিন। এই দিনে বাঙালি তার শিকড়ের কাছে ফিরে যায়, ঐতিহ্যকে নতুন করে ধারণ করে এবং ভবিষ্যতের জন্য আশার বীজ বপন করে।
ঐতিহাসিক পটভূমি
পহেলা বৈশাখের ইতিহাস বহু প্রাচীন। মুঘল সম্রাট আকবর-এর সময়ে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রচলন করা হয়। সে সময় খাজনা আদায় হতো ফসলের মৌসুম অনুযায়ী, তাই সৌর বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পঞ্জিকা চালু করা হয়। এই প্রয়াস থেকেই জন্ম নেয় বাংলা নববর্ষ।
পরবর্তীকালে এই দিনটি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি পরিণত হয়েছে বাঙালির অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসবে।
সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র
পহেলা বৈশাখ মানেই উৎসবের রঙে রাঙানো এক দিন। লাল-সাদা পোশাক, মুখে আলপনার ছোঁয়া, আর প্রাণখোলা হাসিতে ভরে ওঠে চারপাশ। বিশেষ করে মঙ্গল শোভাযাত্রা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল প্রতীক। বিশালাকৃতির মুখোশ, প্রতীকী ভাস্কর্য ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে এই শোভাযাত্রা অন্যায়, অশুভ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে।
গ্রামে বসে বৈশাখী মেলা-যেখানে থাকে নাগরদোলা, পুতুলনাচ, লোকসংগীত, মাটির তৈজসপত্র ও নানা ঐতিহ্যবাহী পণ্য। শহরেও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করে গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান।
খাবার ও ঐতিহ্য
পান্তা-ইলিশ যেন পহেলা বৈশাখের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। যদিও এটি মূলত একটি প্রতীকী সংস্কৃতি, তবুও বাঙালির রসনাবিলাসে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এর সঙ্গে থাকে ভর্তা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ—সব মিলিয়ে এক গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্বাদ।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক
পহেলা বৈশাখ বাঙালির ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। “হালখাতা” প্রথার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নতুন হিসাব খাতা খোলেন। পুরনো দেনা-পাওনা মিটিয়ে গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। এটি শুধু লেনদেন নয়—একটি সম্পর্ক নবায়নের উৎসব।
মনোজাগতিক প্রভাব
নতুন বছর মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা। পহেলা বৈশাখ মানুষকে অতীতের গ্লানি ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেয়। এটি এক ধরনের মানসিক পুনর্জন্ম, যেখানে মানুষ নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে।
আধুনিকতার সংযোজন
বর্তমান যুগে প্রযুক্তি পহেলা বৈশাখ উদযাপনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ঋধপবনড়ড়শ, ণড়ঁঞঁনব-এর মাধ্যমে মানুষ এখন অনলাইনেই শুভেচ্ছা বিনিময় করে, লাইভ অনুষ্ঠান উপভোগ করে। ডিজিটাল ব্যানার, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন—সব মিলিয়ে উৎসব এখন আরও বিস্তৃত।
পহেলা বৈশাখ বাঙালির জীবনে শুধু একটি দিন নয়-এটি একটি চেতনা, একটি আত্মপরিচয়। সময়ের পরিবর্তনে এর রূপ বদলালেও, এর মূল সুর অপরিবর্তিত—নতুনকে বরণ, পুরাতনকে বিদায় এবং মানবিক মূল্যবোধের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
যশোরে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন
যশোর প্রতিনিধি: বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষ্যে যশোরে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) সকালে যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে এ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে শহরের টাউন হল ময়দান থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান এর নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জায় সজ্জিত শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
শোভাযাত্রাটি টাউন হল ময়দান থেকে শুরু হয়ে জজ কোর্ট মোড়, দড়াটানা মোড়, চিত্রা মোড়, থানা চৌরাস্তা, রেল রোড, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ও মাইকপট্টি মোড় ঘুরে পুনরায় টাউন হল ময়দানে এসে শেষ হয়। এতে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা এনএসআই কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের মোঃ পারভেজ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোর জেলা শাখার সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন এবং চারুপীঠ আর্ট অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা মাহাবুব মাসুদ জামিল সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রাটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে এ আয়োজনে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
বর্ষবরণ উচ্ছ্বাসে মুখর যবিপ্রবি
নতুন বাংলাদেশের সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তি কামনা ও “নববর্ষের ঐক্যতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” স্লোগানকে সামনে রেখে নানা আয়োজনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর প্রথম দিনকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় যবিপ্রবির প্রধান ফটকের সামনে থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাংলা বর্ষবরণের কর্মসূচি শুরু হয়।
বর্ষবরণের কর্মসূচির শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ করে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিকের সামনে দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবন হয়ে যবিপ্রবির কড়ই তলার সামনে এসে শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন এর নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে যবিপ্রবির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়াও শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কড়ই তলায় অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের অংশগ্রহণে যেমন খুশি তেমন সাজো। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে পান্তা-মাছসহ বাঙালি ভোজ করেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন। এরপর বিকাল সাড়ে ৩ টায় উদ্যোক্তা মেলা ১৪৩৩ এর শুভ উদ্বোধন করেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন। বিকাল সাড়ে ৫ টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপি কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নতুন বছর আমাদের সকলের জন্য শুভ হোক। নতুন বছরের প্রত্যাশা সকল গ্লানি মুছে যাক, জরা ঘুচিয়ে নতুনভাবে প্রস্ফুটিত হোক এই কামনা করি।
পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসান নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আজকের এই বৈশাখ উৎসবে অংশগ্রহণ করে প্রাণবন্ত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী-শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, দপ্তরপ্রধানগণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
মহেশপুরে ইছামতিতে অজ্ঞাত যুবকের লাশ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্ত এলাকায় ইছামতি নদীর তীর থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত পৌনে ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বিজিবির একটি টহল দল প্রথমে নদীর পাড় সংলগ্ন ধানক্ষেতে কাদামাখা অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পায়। পরে বিষয়টি মহেশপুর থানা পুলিশকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি কয়েকদিন আগের। নিহতের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তবে এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে থানায় কোনো নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগও পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মরদেহটি সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ মিটার ভেতরে বাংলাদেশের অংশে পাওয়া গেছে। মরদেহের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওই সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের গুলির ঘটনা বা উত্তেজনার খবর নেই। এছাড়া এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজের তথ্যও পাওয়া যায়নি।
এদিকে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
ওষুধ গলায় বেধে শিশুর মৃত্যু
শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা-
ঝিনাইদহের শৈলকূপায় ওষুধ খাওয়াতে গিয়ে বাইজিদ (৪) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শিশু বাইজিদ ছোট মৌকুড়ি গ্রামের মহব্বতের ছেলে। সোমবার দিবাগত রাতে মা তার অসুস্থ ছেলেকে ঔষধ খাওয়াতে গেলে গলায় বেঁধে মারা যায় বলে জানা গেছে। এই ব্যাপারে প্রতিবেশী জাহিদ নামের এক ব্যক্তি ঘটনাটি সত্য বলে জানান।
[বিস্তারিত আসছে]
যশোরে বৈশাখী শোভাযাত্রায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস
নিজস্ব প্রতিবেদক।লোকসমাজ-
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষ্যে যশোরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে এ শোভাযাত্রা বের হয়।
সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে শহরের টাউন হল ময়দানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন।
রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জায় সজ্জিত শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা এনএসআই কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের মোঃ পারভেজ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোর জেলা শাখার সভাপতি দীপংকর দাস রতন এবং চারুপীঠ আর্ট অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা মাহাবুব মাসুদ জামিলসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রাটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে এ আয়োজনে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।











