চৌগাছায় আড়াই’শ হেক্টর জমিতে কলাই চাষ বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের

0
ছবি: সংগৃহীত।

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় অন্যান্য ফসলের মত কলাই চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১শ হেক্টর জমিতে বেড়েছে কলাই চাষ। খরচ কম লাভ বেশি সে কারণে কলাই চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় চাষিরা। কৃষকরা মনে করছেন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কলাইয়ের বাম্পার ফলন হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছার কিছু নিচু এলাকা ব্যাতিত গোটা উপজেলাতেই কমবেশি কলাই চাষ হয়েছে। বিগত বছরগুলোর চেয়ে চলতি মৌসুমে কৃষকরা কলাই চাষ বৃদ্ধি করেছেন।

এ বছর উপজেলাতে প্রায় আড়াই’শ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে কলাই। এরমধ্যে মুগ ১১৫ হেক্টর আর মাস কলাই চাষ হয়েছে প্রায় ১২৫ হেক্টর।

মঙ্গলবার উপজেলার ফুলসারা, নারায়ানপুর, সুখপুকুরিয়া, স্বরুপদাহ ইউনিয়নসহ বেশ কিছু ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে অন্য যে কোন বছরের চেয়ে মাঠে কলাই চাষ বেড়েছে। ফুলসারা ইউনিয়নের সৈয়দপুর কোটালীপুর, দূর্গাবরকাটি, আফরা গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায় কৃষকরা কলাই ক্ষেত পরিচযায় ব্যস্ত।

এসময় কথা সৈয়দপুর গ্রামের কৃষক মজিবর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি মুগ ও মাস কলাই মিলে দুই বিঘার কিছু বেশি জমিতে কলাই চাষ করেছেন। কলাই রোপনের পর হতে এ পর্যন্ত যে আবহাওয়া তা কলাই চাষের অনুক’লে। এখন কলাইয়ে ফুল আসতে শুরু করেছে। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে কলাইতে বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি মনে করছেন।

ওই এলাকায় কোটালীপুর মাঠে কৃষক গোলাম হোসেন দেড় বিঘা, আব্দুল্লাহ ২ বিঘা জমিতে কলাই চাষ করেছেন। তারা কলাই চাষ করে আশায় বুক বেঁধেছেন। এ দিকে স্বরুপদাহ ইউনিয়নের খড়িঞ্চা গ্রামের মাঠেগিয়ে কথা হয় কৃষক হাশেম আলীর সাথে।

তিনি বলেন চলতি মৌসুমে তিনি ১ বিঘা জমিতে কলাই চাষ করেছেন। কলাই একটি ডালজাতীয় ফসল তাই এর কদর সর্বত্র, বিশেষ করে নিজেদের পরিবারে প্রচুর ডালের দরকার হয় সে কারণে দাম পাই আর না পাই নিজেদের কথা বিবেচনা করেই প্রতি বছরই কলাই চাষ করি।

ওই মাঠে কৃষক আবু সাঈদ ১৫ কাঠা, শহিদুল ইসলাম ১ বিঘা, মোস্তফা ১০ কাঠা, শহিদুল ইসলাম ১০ কাঠা, ইমামুল হোসেন ১ বিঘা জমিতে কলাই চাষ করেছেন। কেউ চাষ করেছেন মাস কলাই আবার কেউ করেছেন মুগ কলাইয়ের চাষ। তারা প্রত্যেকে বাম্পার ফলনের আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, মাঝে চাষিরা ফল চাষে বেশি ঝুঁকে পড়েন সে কারণে কলাই

চাষ কিছুটা কমে যায়। বর্তমানে কৃষকরা আবারও কলাই চাষে ঝুঁকেছেন তাই এই চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। মুগ ও মাস কলাই যে শুধু ডাল বা কুমড়া বড়ির জন্য বিখ্যাত এমনটি নই। সমস্ত ডালশস্য চাষের পর জমিতে বিঘা প্রতি ৬-৮ কেজি নাইট্রোজেন (১৩-১৭ কেজি ইউরিয়ার সমান) মাটিতে যুক্ত হয়। কারণ ডালশস্যের শিকড়ে গুটির মধ্যে থাকা রাইজোবিয়াম জীবানু বাতাসের নাইট্রোজেন শোষণ করে গাছকে দেয় এবং বাকিটা মাটিতে জমা হয়।

আবার ডাল শস্য চাষের পর গাছে ফুল ফল আসার আগে তা চাষ করে মাটিতে মিশিয়ে দিলে জৈব সার তৈরি হয়। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে এ ধরনের ফসল উৎপাদনে চাষিদের সর্বদা সহযোগিতা দিয়ে থাকি।