৮ মাসে ৪৫ লাখ টন চাল রফতানি ভিয়েতনামের

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ভিয়েতনামের চাল রফতানি খাতে মন্দা ভাবের দেখা মিলেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যটির রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। তবে রফতানির পরিমাণ কমলেও চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে চাল রফতানি বাবদ ভিয়েতনামিজ রফতানিকারকদের আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রায়ত্ত জেনারেল স্ট্যাটিস্টিকস অফিসের সর্বশেষ মসিভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও বিজনেস রেকর্ডার।
চাল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় ভিয়েতনামের অবস্থান পঞ্চম। তবে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ ভিয়েতনাম। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যটির মূল্য নির্ধারণে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। ভিয়েতনামের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৪৫ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
চলতি বছরের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৩৯ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছিল, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ কম।
তবে রফতানির পরিমাণ কমলেও চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে চাল রফতানি করে ভিয়েতনামিজ রফতানিকারকদের আয় ছিল বাড়তির দিকে। এ সময় চাল রফতানি বাবদ দেশটি সব মিলিয়ে ২২০ কোটি ডলার আয় করেছে। এক বছরের ব্যবধানে চাল রফতানি বাবদ দেশটির আয় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। বছরের প্রথম সাত মাসে চাল রফতানি করে দেশটি সব মিলিয়ে ১৯১ কোটি ডলার আয় করেছিল।
মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি দামের কারণে রফতানি আগের তুলনায় কমলেও চাল রফতানি করে ভিয়েতনামিজ রফতানিকারকদের আয় বাড়তির দিকে রয়েছে বলে জানান খাতসংশ্লিষ্টরা।
এদিকে মাসভিত্তিক হিসাবে সর্বশেষ আগস্টে ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে পাঁচ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে দেশটির জেনারেল স্ট্যাটিস্টিকস অফিস। এ সময় চাল রফতানি করে দেশটির সম্মিলিত আয় দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ১০ লাখ ডলারে। জুলাইয়ে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে তিন লাখ টন চাল রফতানি হয়েছিল। আয় হয়েছিল ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
চলতি বছরের শুরুর দিকে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে ভিয়েতনামে। অল্প সময়ের মধ্যে দেশটি করোনা জয়ে বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে সক্ষম হয়। ওই সময় সংক্রমণ সীমিত পর্যায়ে আটকে রাখতে সফল হয়েছিল ভিয়েতনাম। তবে মহামারীর কারণে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষা ও জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল রফতানি সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। সহজে ও স্বল্পমূল্যে জনগণের হাতের কাছে চাল পৌঁছে দিতে রাজধানী হ্যানয়সহ বিভিন্ন বড় শহরে চালের এটিএম বুথ চালু করা হয়। তবে জুলাই-আগস্টে এসে ভিয়েতনামে নতুন করে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় ফের সংকটে পড়েছে দেশটির চাল রফতানি খাত।
এ বিষয়ে ভিয়েতনামের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মাই থিয়েন দায়াং বলেন, মহামারীর কারণে মার্চে ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল রফতানি বন্ধ ছিল। এপ্রিলে খাদ্যপণ্যটির রফতানিতে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টনের সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। মূলত অভ্যন্তরীণ খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষা ও জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে এসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। মে মাস থেকে চাল রফতানি স্বাভাবিক হয়ে এলেও তা আগের বছরের একই সময়ের পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে চলতি বছর সব মিলিয়ে ৭০ লাখ টন চাল রফতানির লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করছে ভিয়েতনাম সরকার, যা আগের বছরের তুলনায় চার-পাঁচ লাখ টন বেশি। তবে খাদ্যপণ্যটির রফতানির বর্তমান চিত্র দেখে এ লক্ষ্য পূরণ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।