৩ ফরম্যাটেই অবিশ্বাস্য নিউজিল্যান্ড

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ আগে কখনই নিজেদের পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি কোনো সংস্করণেই কিউইরা বসতে পারেনি শ্রেষ্ঠত্বের আসনে। একাধিকবার সেমিফাইনাল খেললেও পৌঁছাতে পারেনি ফাইনালে। সেই ধারা ভাঙে ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। এরপর ২০১৯ ওয়ানডের বিশ্ব আসরেও ফাইনাল খেলে নিউজিল্যান্ড। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখলো কিউইরা। চলতি বছরই ভারতকে হারিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে নিউজিল্যান্ড। ওয়ানডে বিশ্বকাপে টানা দুইবারের ফাইনালিস্ট।
টেস্টের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নাম লেখানো-এসব কিছুতেই স্পষ্ট ‘ব্ল্যাক ক্যাপস’দের দাপট। তিন সংস্করণে নিউজিল্যান্ডকেই সেরা মানছেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইক আথারটন। তবে নিজেদের এখনই সেরা ভাবতে রাজি নন ইংল্যান্ড বধের নায়ক জিমি নিশাম ও ম্যাচ সেরা ডেরিল মিচেল। তারা মনে করছেন সেরাদের কাতারে যেতে তাদের এখনো এক ম্যাচ বাকি আছে।
দীর্ঘ সময় ধরে সেমিফাইনাল ‘জুজু’তে আটকে ছিল নিউজিল্যান্ড। ১৯৭৫ থেকে ২০১১ পর্যন্ত ৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ৬টিতেই সেমিফাইনাল খেলেছে কিউইরা। প্রতিবারই শেষ চারে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০০৭ ও ২০১৬’র সেমিফাইনালিস্ট নিউজিল্যান্ড। ওয়ানডে বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলার আক্ষেপ ঘোচে ২০১৫ আসরে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ ছোঁয়া হয়নি। পরের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ফাইনালে ওঠে নিউজিল্যান্ড। এবার দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয় তাদের। ইংল্যান্ডের সমান ২৪১ রান করলে ম্যাচ ‘টাই’ হয়ে যায়। জয়ী নির্ধারণ করা হয় বাউন্ডারির হিসাবে। যেখানে পিছিয়ে থাকায় হৃদয় ভাঙে নিউজিল্যান্ডের। বিশ্ব আসরে ট্রফি জয়ের আক্ষেপ মেটে গত জুনে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে উড়িয়ে সেরা নিউজিল্যান্ড। তৃতীয়বারের চেষ্টায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে ‘ব্ল্যাক ক্যাপস’। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে সাফল্য না আসায় নিউজিল্যান্ডে জনপ্রিয়তায় বেশ পিছিয়ে ক্রিকেট। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট অর্থনীতি তাই বড় নয়। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারে তিন সংস্করণেই দাপট দেখাচ্ছে কিউইরা। ক্রিকেট থেকে অবসরের পর মাইক আথারটন নাম লেখান ক্রিকেট সাংবাদিকতায়। পরবর্তীতে ধারাভাষ্যকার ও বিশ্লেষকের ভূমিকায় দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন স্কাই স্পোর্টসে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নিউজিল্যান্ড ফাইনালে ওঠার পর স্কাই স্পোর্টসের এক অনুষ্ঠানে সাবেক এই ইংলিশ ক্রিকেটার মেনে নেন নিউজিল্যান্ডের শ্রেষ্ঠত্ব। ইংল্যান্ডের হয়ে ১১৫ টেস্ট ও ৫৪ ওয়ানডে খেলা এই ব্যাটার বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড অসাধারণ একটি দল, ক্রিকেটের সব সংস্করণেই। আরেকটি ফাইনালে উঠে এসেছে তারা। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতার দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল, পাশাপাশি ওরা এখন টেস্টেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। আপনাকে মানতেই হবে, এই মুহূর্তে যেকোনো সংস্করণেই ওরা অপ্রতিরোধ্য। সুতরাং ওদের অভিনন্দন জানান।’
বুধবার আবুধাবিতে রোমাঞ্চকর সেমিফাইনাল জিতে মাঠ ছাড়ে নিউজিল্যান্ড। শেষ ৪ ওভারে জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৫৭ রান। কঠিন সেই সমীকরণ মিলিয়ে দেন জিমি নিশাম ও ড্যারিল মিচেল। ১১ বলে ২৭ রান করে নিশাম ফিরলেও মিচেল মাঠ ছাড়েন দলকে জিতিয়ে। বিশ্বকাপেই প্রথমবার ওপেনার হিসেবে খেলা শুরু করা মিচেল খেলেন দুর্দান্ত ইনিংস। ৪৭ বলে ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আথারটনের চোখে ম্যাচের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ নিশামের ঝোড়ো ব্যাটিং। ৩ ছক্কা ও ১ বাউন্ডারিতে ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেন কিউই অলরাউন্ডার। মাইক আথারটন বলেন, ‘সবকিছু খুব দ্রুত বদলে গেল। খেলার অনেক সময় পরও আমার কাছে মনে হচ্ছিল, খেলায় ইংল্যান্ডই এগিয়ে আছে। পিচটাকে বেশ মন্থর বলেই মনে হচ্ছিল, কিন্তু তখনই নিশাম এল এবং দুর্দান্ত কিছু শট খেলে খেলার মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিল।’