সুন্দরবনে ১২ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র গোলাবারুদ জব্দ

0
ছবি: সংগৃহীত।

বাগেরহাট ও মোংলা সংবাদদাতা ॥ সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কোস্টগার্ড বেজ বাগেহোটের মোংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এসব দস্যুরা আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় আত্মসমর্পণকারীরা কোস্টগার্ডের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেন।

এক প্রেসব্রিফিংয়ে কোস্টগার্ড জাহাজ বিসিজিএস কামরুজ্জামানের নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন এ তথ্য দেন। তিনি বলেন, সুন্দরবনে দস্যুরা কোনঠাঁসা হয়ে পড়েছে। যার প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬ টায় সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকারীরা, বিভিন্ন ধরনের ১৩টি অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেন। এর মধ্যে ১টি এইট শ্যূটার, ১টি সিক্স শ্যূটার, ১টি ফোর শ্যূটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রি গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ২টি ওয়ান শ্যূটার, ২টি এয়ারগান রয়েছে। এ ছাড়া ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল বল, ০৫ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, ৪ টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২টি এয়ারগান ম্যাগাজিন, চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি কোস্টগার্ডের কাছে জমা দেন দস্যুরা।

আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন, নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭), আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫), শাহজাহান মালী (৩৫) ও আজিজুর রহমান (৪৫)। এদের বাড়ি বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায়। নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়।

এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।