সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ: বিস্ফোরক আইনে মামলা, যুবলীগের সাবেক নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

0
সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এনসিপির সমাবেশ চলাকালীন মঞ্চের অদূরে বিস্ফোরণের পর তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।। ছবি: সংগৃহীত
সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পরবর্তী সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব মো. সালামত উল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সাভার মডেল থানায় এই মামলাটি করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের দুই নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার পূর্ব ভাকুম গ্রামের মো. নুরুল ইসলাম (৫২) ও সাভার পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লার মো. সজীব (৩২)। ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম জানান, সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে সাভারের আনন্দপুর থেকে এই দুজনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে নুরুল ইসলাম সিংগাইর একটি ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সজীব সাভার যুবলীগের কর্মী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম ও জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় ডিবি পুলিশের অভিযানে সাভার থেকে গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগের দুই কর্মী।। ছবি: সংগৃহীত
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এনসিপির সমাবেশের কার্যক্রম সন্ধ্যার পর শুরু হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছান। নেতারা মঞ্চে ওঠার ঠিক ৫ থেকে ১০ মিনিট আগে হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়।
রাত ৯টা ৪২ মিনিটে জেনারেটরের অপর্যাপ্ত আলোর মধ্যেই নেতাদের বক্তব্য চলাকালে মঞ্চ থেকে মাত্র ১০-১৫ ফুট সামনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর চারদিক সাদা ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় এবং হুড়োহুড়িতে বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, এনসিপি নেতাদের ও সাধারণ শ্রোতাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পিত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে এবং এর পেছনে কোনো নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সংঘবদ্ধ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

এদিকে পুলিশের তদন্তের গতি ও গ্রেপ্তার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ। তিনি বলেন, “মধ্যরাতে অভিযোগ দেওয়ার পর সকালের মধ্যেই দুজনকে গ্রেপ্তার করে ফেলা হলো, বিষয়টি আমার কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার না।”

তিনি আরও যোগ করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হোক, তা তাঁরাও চান। তবে শুধু দায় এড়ানোর জন্য কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি—সে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বা বিএনপি যাই হোক না কেন, সে যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অন্যায্য শাস্তির মুখোমুখি না হয়। তদন্তে গাফিলতি হলে তার দায় পুলিশকেই নিতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।