আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে
নাটকীয় জয়ের পর চোখে জল নিয়ে উদযাপনে মেতে ওঠেন লিওনেল মেসি। ছবি : রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক, লোকসমাজ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর শেষ ষোলোর ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস এক নাটকের জন্ম দিল আর্জেন্টিনা। একসময় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিশর। ম্যাচের ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না।
ম্যাচের ২১ মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল লিওনেল মেসির দল। পেনাল্টি থেকে গোল করার সুযোগ পেলেও মিশরের গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে ব্যর্থ হন মেসি। এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় আর্জেন্টিনার ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।
১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে মিশর। বিরতির পরও তাদের আত্মবিশ্বাসী ফুটবল অব্যাহত থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তাফা জিকোর গোলে ব্যবধান ২-০ হলে স্টেডিয়ামজুড়ে মিশরীয় সমর্থকদের উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার বিদায় যেন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে হচ্ছিল।

আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে
গোলের পর সতীর্থ হুলিয়ান আলভারেজকে সঙ্গে নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন লিওনেল মেসি। ছবি : রয়টার্স

তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হাল ছাড়ার পাত্র নয়। ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে তারা ঘুরে দাঁড়ায় দুর্দান্তভাবে। প্রথমে একটি গোল শোধ করে ব্যবধান কমায় আর্জেন্টিনা। এরপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে সমতাসূচক গোল আদায় করে নেয়। ২-২ সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে তুলে নেয় মেসির দল।
যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ে আসে নাটকীয় মুহূর্ত। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নিখুঁত পাস থেকে এনজো ফার্নান্দেজ জালে বল পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই গোলেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় আর্জেন্টিনার জয়।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অধিনায়ক লিওনেল মেসিও। অন্যদিকে অসাধারণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় মিশরকে।
এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নেওয়ার এই ম্যাচটি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অন্যতম স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।