শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: সম্ভাব্য উত্তরসূরি ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জোর আলোচনা

0
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শীঘ্রই পদত্যাগ করতে পারেন বলে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। শারীরিক অসুস্থতাকে তাঁর পদত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে। সরকারের পাশাপাশি বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকেও ইতিমধ্যে তাঁকে পদত্যাগের অনানুষ্ঠানিক বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মীদের খুব দ্রুত বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছু সময় বিশ্রামে থাকবেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন। তবে এ বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারবেন। তিনি পদত্যাগ করলে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম শোনা গেলেও বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা চুক্তিভিত্তিক এক সচিবের নামও তীব্রভাবে আলোচনায় এসেছে। ক্ষমতাসীন দল ও নীতিনির্ধারকরা এমন একজন ব্যক্তিকে খুঁজছেন যিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক চাপ সামলাতে সক্ষম হবেন এবং সব মহলের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে বিগত গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই তাঁর অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। এবার তাঁর সম্ভাব্য পদত্যাগের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।