শার্শায় যুবক খুন করে মাটিচাপা দিয়ে কংক্রিটের ঢালাই, রহস্য উদঘাটনের পর আটক ৪

0
ছবি: সংগৃহীত।

আজিজুল ইসলাম, বাগআঁচড়া (যশোর)॥ শার্শা নিখোঁজ যুবক ইকরামুল কবীরকে (২৬) অপহরণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনায় তথ্য পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল কাদের (৩৬) ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ইতোমধ্যে হত্যায় জড়িত সন্দেহে বসতপুর পূর্বপাড়ার আরশাদ আলির ছেলে আল ফরহাদ, তার স্ত্রী মুন্নী বেগম (২২),কাকলি খাতুন(২৩) ও ফজলুর রহমানকে (৬০) আটক করেছে। ঘটনাটি উদঘাটন হয় শনিবার সন্ধ্যায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ এপ্রিল রাতে শার্শার সেতাই গ্রামে বোনের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন দক্ষিণ বারপোতা গ্রামের মো. আব্দুর রশিদের ছেলে ইকরামুল কবীর। এরপর তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ভিকটিমের পিতা আব্দুর রশিদ শার্শা থানায় ৮ মে একটি মামলা করেন।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেন। ঘাতকরা ইকরামুলকে হত্যা করে একটি গরুর গোয়াল ঘরের ভেতরে গর্ত করে পুঁতে রাখে। আলামত গোপন করতে তার ওপর কংক্রিটের ঢালাই দেয়। শনিবার পুলিশ সেখান থেকে ইকরামুলের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই হত্যাকান্ডের পেছনে মিসেস মুন্নি আক্তার নামে এক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক কাজ করেছে। মুন্নি আক্তারের সাথে ইকরামুলের গোপনে বিয়ের সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনের জের ধরে আব্দুল কাদেরসহ অন্য সহযোগীরা এই হত্যার পরিকল্পনা করে। মুন্নি আক্তারের একাধিক বিয়ের তথ্য পাওয়া গেছে ।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মারুফ হোসেন জানান, আমরা এই ঘটনায় ইতোমধ্যে ৩ নম্বর আসামি কাকলী আক্তার ও ৪ নম্বর আসামি ফজলু ওরফে ফজু মোড়লসহ মোট ৪ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তবে ১ নম্বর ও প্রধান আসামি আব্দুল কাদের (৩৬) পলাতক রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

নিহত ইকরামুলের পিতা আব্দুর রশিদ বলেন, আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। আমি প্রধান আসামি আব্দুল কাদেরসহ এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের ফাঁসি চাই।