শংকরপুর মাধ্য. বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সাবেক কাউন্সিলর নয়নের বিরুদ্ধে

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের শংকরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শাহেদ হোসেন নয়ন ওরফে হিটার নয়নের বিরুদ্ধে দুইজন কর্মচারী নিয়োগে ডোনেশনের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও সেই সময় ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। তবে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর থেকে শিক্ষকরা এ বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তারা বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে আত্মসাতকৃত ১৪ লাখ টাকা আদায়ে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকদের সূত্রে জানা গেছে, শংকরপুর ইসহাক সড়কের ফারুক হোসেনের ছেলে শাহেদ হোসেন নয়ন পৌরসভা নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। তিনি মূলত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। তবে তাকে নির্বাচনে জয়লাভ করতে বেশি ভূমিকা পালন করেন ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। শাহেদ হোসেন নয়নের ৩ চাচাসহ পরিবারের অধিকাংশ জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী ব্যক্তি। এ কারণে চাচারা শাহেদ হোসেন নয়নকে নির্বাচনে জয়লাভ করাতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ব্যবহার করেন। নির্বাচনে জয়লাভের পর শাহেদ হোসেন নয়ন তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের ডিও লেটারে শংকরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হয়ে যান। বছর খানেক আগে বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্ন কর্মী ও নিরাপত্তা কর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয় দুই যুবককে। পরিচ্ছন্ন কর্মী পদে সদর উপজেলার রুপদিয়ার এনামুলকে এবং নিরাপত্তা কর্মী পদে বলাডাঙ্গা গ্রামের হাসানকে নিয়োগ দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাদেরকে নিয়োগের জন্য ডোনেশনের নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৭ লাখ করে মোট ১৪ লাখ টাকা নেন সভাপতি শাহেদ হোসেন নয়ন। অলিখিতভাবে নেওয়া ডোনেশনের ১৪ লাখ টাকার বিষয়ে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক অবগত রয়েছেন। তবে ডোনেশন হিসেবে ১৪ লাখ টাকা নিলেও বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কোনো অর্থ ব্যয় করেননি শাহেদ হোসেন নয়ন। অর্থাৎ পুরো ১৪ লাখ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বাতিল ঘোষণা করে। তবে ইতোমধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এডহক কমিটি গঠন করা হবে। এমন গুঞ্জনের প্রেক্ষিতে শংকরপুরের জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি পদের জন্য শাহেদ হোসেন নয়নের চাচা সাবেক শিক্ষক হাফিজুর রহমানসহ ৩ জনের নাম জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।