রাষ্ট্রপতি কী করবেন জানা নেই, পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক নিয়ম মানা হবে

0
ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরার পর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরের মুখে ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
অজ শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে ঢাকায় পৌঁছালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এ সময় বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কী করবেন না করবেন, সেটি আমি জানি না। তিনি দেশের প্রথম ব্যক্তি।’

নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই হঠাৎ দেশে ফেরার প্রসঙ্গে স্পিকার ব্যাখ্যা দেন, তাঁর মেডিকেল চেকআপ গতকালই শেষ হয়েছে এবং ঢাকায় কিছু ব্যক্তিগত কাজ থাকায় তিনি ফিরে এসেছেন। দেশের বাইরে থাকার কারণে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের বিশদ তথ্য তাঁর জানা ছিল না উল্লেখ করে তিনি জানান, এখন হয়তো তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তবে নিয়ম অনুযায়ী সেই পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছেই জমা দিতে হয়। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এটাই সংসদীয় প্রচলিত পদ্ধতি ও আইন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে ব্যাংককে যান স্পিকার। এদিকে বেশ কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি দেশের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিদায়ের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন মো. সাহাবুদ্দিন।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব নেওয়া ৭৫ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রপতির স্বাভাবিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।