রাজবাড়ীতে কথিত সম্পর্কের জেরে গৃহবধূ ও তরুণকে গাছে বেঁধে লাঞ্ছনা, অতঃপর জোরপূর্বক বিয়ে

0
রাজবাড়ী সদরে কথিত সম্পর্কের জেরে এক গৃহবধূ ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পরে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটিয়ে স্থানীয়ভাবে রাতেই তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।। ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ী সদর উপজেলায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে গৃহবধূ ও যুবককে একই রশি দিয়ে মেহগনিগাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে সালিস ডেকে ওই গৃহবধূর আগের বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটানো হয় এবং রাতেই তাঁদের দুজনকে বিয়ে দেওয়া হয়।

গত শনিবার রাতের এই ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়ির উঠানে মেহগনিগাছের সঙ্গে একই রশিতে ওই যুবক ও গৃহবধূকে আটকে রাখা হয়েছে। এ সময় সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের নানা প্রশ্ন করছেন এবং যুবকটিকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনে কল করতে বলছেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী যুবক বাঁধন খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও উপস্থিত কয়েকজন তাতে বাধা প্রদান করেন।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলার ওই যুবকের সঙ্গে গৃহবধূর কথিত সম্পর্ক ছিল। গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তিনি ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে এলে গৃহবধূর স্বামী তাঁকে হাতেনাতে আটকে ফেলেন। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যরা দুজনকে বাড়ির উঠানের মেহগনিগাছে বেঁধে রাখেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক বাসিন্দা জানান, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে জিম্মি অবস্থায় দেখতে পান। এরপর গৃহবধূর স্বামী আর সংসার করবেন না বলে সিদ্ধান্ত জানালে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক বিচ্ছেদের ব্যবস্থা করেন। পরে গভীর রাতেই একজন মৌলভি ডেকে ওই যুবক ও গৃহবধূর বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, এই ঘটনা বা নির্যাতনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত কিংবা মৌখিক কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে পুলিশ দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।