অভিজ্ঞতাহীন গিমারাইসের কাঁধে কেন স্পট-কিকের গুরুভার? ম্যাচ শেষে আসল কারণ জানালেন ব্রাজিল কোচ

0
বিশ্বকাপের নকআউট থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর পেনাল্টি নেওয়ার কৌশল নিয়ে মুখ খুললেন ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানালেও তিনি জানান, দলের যেকোনো গুরুদায়িত্ব নিতে তিনি সর্বদা প্রস্তুত।। ছবি: সংগৃহীত
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের কাছে পরাস্ত হয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিদায়ের পর ফুটবল মহলে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় স্পট-কিক মিসের মহানাটক।
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্রুনো গিমারাইসের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া এবং এর পেছনে ডাগআউটে থাকা মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মাঝে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সেলেসাওদের প্রধান আক্রমণের অস্ত্র ভিনিসিয়ুস জুনিয়র স্পট-কিক নেওয়ার বিষয়ে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় টুর্নামেন্টে দারুণ ফর্মে থাকা এই ফরোয়ার্ড জানান, স্পট-কিক নেওয়ার ক্ষেত্রে দলে ব্যক্তিগত কোনো অহংকার বা সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার আশা তাঁর ছিল না। কোচিং স্টাফদের পূর্বপরিকল্পনা অনুসারেই গিমারাইস শটটি নিয়েছিলেন।

ভিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ম্যাচ শুরুর আগেই আমাদের কার কী ভূমিকা তা সুনির্দিষ্ট করা থাকে। কোচ ব্রুনোকে আমার চেয়ে ভালো স্পট-কিকার মনে করে দায়িত্বটি দিয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতি যেমনই হোক, আমি কখনোই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা থেকে পিছিয়ে যাইনি।”
স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে নিয়মিত পেনাল্টি নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন যে, কঠিন সময়ে দায়িত্ব ছেড়ে পালানোর মানসিকতা তাঁর নেই।

ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ভিনিসিয়ুস এ পর্যন্ত ১৯টি স্পট-কিকের মধ্যে ১৩টিতে সফল হয়েছেন, যদিও জাতীয় দলের জার্সিতে ৩টির মধ্যে গোল পেয়েছেন মাত্র একটিতে।

বিপরীতে, গিমারাইস ক্লাব ফুটবলে ৩ বার পেনাল্টি নিয়ে শতভাগ সফল হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর আগে কখনো এই চাপের মুখে পড়েননি। অভিজ্ঞতাহীন একজন খেলোয়াড়কে এমন মহাগুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বেছে নেওয়াতেই মূলত সমালোচকদের আঙুল এখন কোচের দিকে।

ব্রাজিলিয়ান ডেরার প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি অবশ্য এই সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। তাঁর মতে, কার পর কে স্পট-কিক নিতে আসবেন, সেই অগ্রাধিকার তালিকা অনেক আগেই কারিগরি দল চূড়ান্ত করে রেখেছিল। সেই সূচিতে নেইমার, ইগর থিয়াগো কিংবা রাফিনিয়া ওপরের দিকে থাকলেও মাঠের বাস্তবতায় ওই মুহূর্তে তাঁরা কেউই খেলার মধ্যে ছিলেন না। বেঞ্চ এবং মাঠের সমন্বয়ের পর ব্রুনো গিমারাইস এবং মার্তিনেল্লির নামই শেষ বিকল্প হিসেবে টিকে ছিল, যার মধ্যে গিমারাইসকেই তৎকালীন পরিস্থিতিতে সেরা মনে করেছিল দলটির থিংক ট্যাংক।