রাঙামাটি ও বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি; ক্ষয়ক্ষতির ক্ষত নিয়ে ঘরে ফিরছে মানুষ

0
পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড নদীর তীরবর্তী ঘরবাড়ি; কাদা আর জঞ্জাল মাড়িয়ে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরছেন বাসিন্দারা।। ছবি: সংগৃহীত
পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ধাক্কা কাটিয়ে রাঙামাটি এবং বান্দরবান জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করেছে.। বন্যার পানি নামার সাথে সাথে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে শুরু করলেও দুই জেলার দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের কপালে এখন নতুন চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে কাদা আর ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে চললেও এখনো সড়ক যোগাযোগ ও ত্রাণ সহায়তার সংকট কাটেনি।
রাঙামাটির পরিস্থিতি
রাঙামাটিতে বন্যার পানি কমতে শুরু করায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ভিড় কমছে, তবে এখনো সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ সেখানে অবস্থান করছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানিয়েছেন, বর্তমানে জেলার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন মানুষ আছেন এবং এখনো ১ হাজার ৪৪টি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া অতিবৃষ্টির কারণে জেলার ৭টি উপজেলার মোট ১৩১টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে পানি নামার সাথে সাথে বরকল ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ভেসে উঠছে চাষিদের বুকভাঙা ক্ষতির চিত্র। বরকলের ভূষণছড়া ও বুরবুরিছড়া এলাকার পেঁপে চাষি জগৎময় চাকমা ও ধর্মেশ চাকমার মতো বহু কৃষকের লাখ টাকা পুঁজির উন্নত জাতের পেঁপেবাগান ও গ্রীষ্মকালীন সবজিখেত বন্যার পানিতে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
বরকল উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, কেবল ভূষণছড়া ইউনিয়নেই ৪৪টি গ্রামের প্রায় ৪ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং আমনের বীজতলাও নষ্ট হয়েছে। দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারিভাবে যে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
তবে বিলাইছড়ির ইউএনও মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে.।
বান্দরবানের পরিস্থিতি
বান্দরবান জেলা সদর থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। আজ সোমবার সকালে বালাঘাটা, আর্মিপাড়া, উজানীপাড়া ও ইসলামপুর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট কাদায় পরিপূর্ণ এবং বাসিন্দারা তা পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তবে সাঙ্গু নদের পানি উপচে আবারও বাড়িতে ঢুকতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকে এখনো আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়েননি। বন্যার পানি নামলেও জেলা সদরের সাথে বিভিন্ন উপজেলা এবং চট্টগ্রামের যান চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম জানান, সড়ক থেকে পানি নামলেও পাহাড় থেকে ধসে পড়া মাটির কারণে যান চলাচল শুরু করা যাচ্ছে না, তবে শীলক খালের বেইলি সেতুটি ভেসে যাওয়ায় বান্দরবান-চন্দ্রঘোনা-রাঙামাটি সড়কে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম হাসান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।