খুলনায় দাম্পত্য কলহের জেরে হত্যার ঘটনা ফাঁস, উঠান খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার

0
খুলনার হরিণটানায় দম্পতির নিজ বাড়ির উঠান খুঁড়ে পুলিশ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করছে।। ছবি: সংগৃহীত

দাম্পত্য কলহের জেরে খুলনা মহানগরে চার মাস আগের একটি বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। স্বামী-স্ত্রী মিলে এক ইজিবাইকচালককে হত্যার পর লাশ নিজ বাড়ির উঠানে পুঁতে রেখেছিলেন। দীর্ঘ দিন বিষয়টি চাপা থাকলেও অবশেষে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী নিজেই থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সোমবার দুপুরে খুলনা নগরের হরিণটানা এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির এবং হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, হত্যাকাণ্ডটি গত রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে সংঘটিত হয়েছিল। নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে মরদেহের বেশির ভাগ অংশ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ত্রিশ বছর বয়সী বাড়ির মালিক ও তাঁর বাইশ বছর বয়সী স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক ওই নারী যৌনকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সেই সূত্রেই কয়েক মাস আগে ওই বাড়ির মালিকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও বিয়ে হয়। বিয়ের পরও স্বামীর সহযোগিতায় তিনি ওই পেশা চালিয়ে আসছিলেন। ঘটনার দিন ওই ইজিবাইকচালককে ওই বাড়িতে ডেকে আনা হয় এবং খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে তাঁকে গলা টিপে হত্যা করেন এবং নির্জন এলাকার সুবিধা নিয়ে মরদেহ বাড়ির সামনের উঠোনে পুঁতে রাখেন। পরে চালকের ইজিবাইকটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে আলাদা করে বিক্রি করে দেন স্বামী।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইজিবাইকের একটি নম্বর প্লেট উদ্ধার করেছে, যা পর্যালোচনা করে খুলনা সিটি করপোরেশনে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। দেখা গেছে, নিবন্ধিত মূল মালিক মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি প্রায় চার বছর আগে এটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। পুলিশের ধারণা, নিহত ব্যক্তি মারুফ নামের কেউ হতে পারেন, যার একটি পা ছিল না। তবে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় কোনো পূর্ববর্তী অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনার নেপথ্য অনুসন্ধানে কাজ করছেন।