সাগরের ইলিশ আসছে আগামী সপ্তাহে, বেড়েছে মুরগীর দাম

0
ছবি: সংগৃহীত।

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ আসছে সপ্তাহে সাগরের ইলিশ মাছের সরবরাহ বাড়ার সুখবর দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে আষাঢ় মাস পড়লেও নদীর ইলিশের প্রাপ্যতা এখনও সহজলব্ধ হয়নি। এদিকে চাহিদার শীর্ষে থাকা খামারের সোনালি মুরগির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে আরও ২০ টাকা বেড়েছে। সামান্য ওঠানামা করলেও এ সপ্তাহে সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকার নিচে নেমে এসেছে। ডিমের দাম আরও কমার আশা করছেন বিক্রেতারা।

রোববার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে বাজারের এমন চিত্র দেখা যায়।

বঙ্গোপসাগরের বাংলদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে গত ১১ জুন। সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে প্রতি বছর এই সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকে।

যশোর বড় বাজার মাছবাজারের আড়তদার পিয়ার মুহাম্মদ ও বরগুনার পাথরঘাটা মোকামের পাইকারি ইলিশ বিক্রেতা বাবুরাম কর্মকার লোকসমাজকে জানান, গত ১১ জুন থেকে আবারও সাগরে মাছ ধরতে নেমেছেন উপকূলের জেলেরা। গত ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছিল মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা। এ ব্যবসায়ীরা আশা করছেন আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে জেলেরা ইলিশ নিয়ে সাগর থেকে ফিরতে পারবেন। সে সময় সরবরাহ বাড়লে ইলিশের দাম কমে আসবে।

রোববার বড় বাজার মাছবাজারে খুচরা বিক্রেতা এরশাদ আলী নদীর ১ কেজি ওজনের একটু বেশি ইলিশের কেজি ৩৬শ টাকা, ৮শ-৯শ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজন ইলিশ ২৮শ থেকে ৩ হাজার টাকা, ৭শ-৮শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার থেকে ২২শ টাকা ও ৬শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৮শ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

এদিকে মাছের দাম বেশি হওয়ার সুযোগে ক্রেতা চাহিদার শীর্ষে থাকা খামারের সোনালির মুরগির দামও বেড়ে গেছে। রোববার বড় বাজারে সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছে ৩২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০০ টাকা। তাছাড়া লেয়ার মুরগি ৪০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

অপরদিকে দর সামান্য ওঠানামা করলেও এ সপ্তাহে সবজির বাজার অপরিবর্তিত রয়েছে। বড় বাজার এইচএমএম রোডের বিক্রেতা নির্মল সাহা জানান, রোববার বড়বাজারে গাজর প্রতি কেজি ১৭০ টাকা, টমেটো ১১০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা, মুখিকচু ৬০ টাকা, কচুরলতি ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, ঝিঙে ৫০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ মানভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কুশি ৪০ টাকা, কুমড়ো ৪০ টাকা, পটল ২০ টাকা ও কাগজি লেবু প্রতি হালি ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তাছাড়া আলু প্রতি কেজি ২৫ টাকা ও পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

তবে দীর্ঘদিন পর বড় বাজার কাঠেরপুলে গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকার নিচে নেমে এসেছে। রোববার বিক্রেতারা মানভেদে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

এদিকে, খামারের মুরগির ডিমের দাম আরও কমতে পারে বলে আশা করছেন বিক্রেতা শুভ দেবনাথ। তিনি রোববার খামারের বাদামি রংয়ের ডিম প্রতি হালি ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। গত সপ্তাহেও ডিমের দাম একই ছিল।