নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফিরেও অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাই করা হলো না বাংলাদেশের

0
শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেটেও শেষ রক্ষা হলো না, ১ উইকেটে হেরে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ ।। ছবি: সংগৃহীত

শেষ ওভারে মাত্র ৫ রান দরকার, হাতে ১ উইকেট — পুরো শেরেবাংলা স্টেডিয়াম তখন একটি বলের অপেক্ষায়। কিন্তু তাসকিন আহমেদের তৃতীয় বলে অ্যাডাম জাম্পার কাভার বাউন্ডারিতে শেষ হলো সব নাটকীয়তা। ১ উইকেটে হেরেও অবশ্য বাংলাদেশ ৩ ম্যাচের সিরিজ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ২৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে অস্ট্রেলিয়া ৪৯.৩ ওভারে ২৭৭/৯ করে ম্যাচ জেতে।

শরীফুলের ৬ উইকেট, তবু হার

ম্যাচে সবচেয়ে আলোচিত পারফরম্যান্স শরীফুল ইসলামের। বাংলাদেশের হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট শিকার পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬টি উইকেট নিয়েছেন তিনি, খরচ করেছেন ৪৮ রান। শেষের দিকে পরপর দুই বলে ২ উইকেট নিয়ে যখন অস্ট্রেলিয়ার ৭ উইকেট ফেলে দিলেন, সেই মুহূর্তে বাড়ি ফেরা দর্শকরাও থমকে দাঁড়িয়েছেন।

৩০ বলে মাত্র ৯ রান দরকার ছিল অস্ট্রেলিয়ার। তখনও বিশ্বাস জন্ম নেয়নি। কিন্তু শরীফুলের পরের ওভারে মেহেদী হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে বেন ডোয়াশিস ফেরেন। উইকেটে থাকা সেঞ্চুরিয়ান কুপার কনোলিকেও শেষ পর্যন্ত ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান — অফ স্টাম্পের বাইরের বল টেনে স্টাম্পে লাগিয়ে ফেলেন কনোলি নিজেই।

তবু শেষ উইকেটটি পাওয়া গেল না। তাসকিনের শেষ ওভারে জাম্পার বাউন্ডারিতে ম্যাচ শেষ। মোস্তাফিজুর নিজের বলে নিজেই ক্যাচ মিস করেছিলেন, তানজিদ হাসানও একটি ক্যাচ ফেলে দিয়েছেন — এই দুটি মুহূর্ত না হলে গল্পটা অন্যরকম হতে পারত।

কনোলির ১৪৯ রানই পার্থক্য গড়ে দিল

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ম্যাচ বাঁচিয়েছেন কুপার কনোলি। আগের ১১ ওয়ানডেতে মাত্র একটি ফিফটি করা এই ব্যাটার আজ পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি — ১৪৯ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। ৪৫তম ওভারে তাসকিনকে টানা তিন ছক্কা মেরে ম্যাচ প্রায় একা হাতেই শেষ করে দিয়েছিলেন তিনি। ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন কনোলি।

আগের দুই ম্যাচে প্রথম ওভারেই উইকেট পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আজ পঞ্চম ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ততক্ষণে অস্ট্রেলিয়া করে ফেলেছে ৪০ রান। সেখান থেকে ম্যাচে ফেরা কঠিন হয়ে যায়।

বাংলাদেশের ব্যাটিং: হৃদয়-মোসাদ্দেক-লিটনের লড়াই

বাংলাদেশের ইনিংস শুরু হয়েছিল দুশ্চিন্তা দিয়ে। প্রথম বলেই আউট সৌম্য সরকার। দলের স্কোর ৬১ হতে না হতেই ৩ উইকেট পড়ে। সেই বিপদ থেকে দলকে টেনে তোলেন তাওহিদ হৃদয় ও লিটন কুমার দাস। দুজনের ৯২ রানের জুটিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছিল।

কিন্তু আর্দ্রতায় পেশির টান সামলে পড়েন লিটন, মাঠও ছাড়তে হয় তাঁকে। তখন হৃদয়ের সঙ্গী হন মোসাদ্দেক হোসেন। ৫১ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ রান করেন তিনি। এই সিরিজে ওয়ানডেতে ৪ বছর পর ফেরা মোসাদ্দেক প্রথম ম্যাচেই ম্যাচসেরা হয়েছিলেন; আজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সিরিজসেরার পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে।

হৃদয় আউট হয়েছেন ৮৮ বলে ৮৩ রান করে। শেষ দিকে আবার ব্যাট করতে নামেন লিটন — এবার মিরপুরে ২৭ ওয়ানডে খেলে দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে পান প্রথম ফিফটি (৫৮*)। ৫০ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ২৭৪/৫।

স্কোরকার্ড সংক্ষেপ

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৭৪/৫ (হৃদয় ৮৩, লিটন ৫৮*, মোসাদ্দেক ৫৬*; রেনশ ২/৪৪, বার্টলেট ২/৪৭)।

অস্ট্রেলিয়া: ৪৯.৩ ওভারে ২৭৭/৯ (কনোলি ১৪৯, লাবুশেন ২৯; শরীফুল ৬/৪৮, মোস্তাফিজ ১/৫৬, তাসকিন ১/৫৯)।

ফল: অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জয়ী। সিরিজ: বাংলাদেশ ২-১-এ জয়ী।

ম্যাচসেরা: কুপার কনোলি। সিরিজসেরা: মোসাদ্দেক হোসেন।