যশোর শিক্ষা বোর্ডে অডিট অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অডিট অফিসারের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তে কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। অডিট অফিসার আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে কর্মচারীদের সাথে অসৌজন্যমূলক অচরণ, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও হুমকি-ধামকির অভিযোগ এনে শিক্ষাবোর্ডের কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বোর্ড চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, যশোর শিক্ষাবোর্ডের অডিট অফিসার আব্দুল করিম বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগে প্রভাব খাটিয়ে অধঃস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে নিয়ম বহির্ভূত কাজ করাতে বাধ্য করেন। তার এসব নির্দেশনা মানতে না চাইলে তার সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন। এজন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারীরা তার অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং হুমকি-ধামকির শিকার হন।
অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষাবোর্ডের অন্যতম শীর্ষ পদে চাকরি করার সুবাদে প্রভাব খাটিয়ে অডিট অফিসার আব্দুল করিম তার স্ত্রীকে প্রধান পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। প্রধান পরীক্ষক হিসেবে তার স্ত্রীর নামে বরাদ্দকৃত খাতা বিতরণের পরও তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপালনকারী কর্মচারী আব্দুল জলিলকে আরও অতিরিক্ত তিন শ খাতা দেওয়ার জন্য বাধ্য করেন। এমনকি তিনি গত ২৭ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রীর অনুকূলে বরাদ্দকৃত খাতা আব্দুল জলিলকে খুলনায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এসময় আব্দুল জলিল অপারগতা জানালে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং খাতা ছিড়ে ফেলার হুমকি দেন। এসব ঘটনা বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সামনে ঘটে বলে লিখিত অভিযোগে বলা হয়।
জানা গেছে, কর্মচারী আব্দুল জলিল দীর্ঘদিন পরীক্ষা বিভাগের খাতা বিতরণের কাজ করে আসছেন। তার সাথে এ ধরনের আচরণ করায় বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও হতবাক হয়েছেন। অডিট অফিসারের হিং¯্র মনোভাব ও আচরণে বোর্ডের সকল গ্রেডের কর্মচারীরা বিরক্ত। তারা জানান, বোর্ডের কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়।
এ ব্যাপারে অডিট অফিসার আব্দুল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে তিলকে তাল করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। একজন কর্মকর্তা হিসেবে আমার যতটুকু করার তাই করি। এর অতিরিক্ত কিছুই না বলে তিনি দাবি করেন
শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আহসান হাবিবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়ে তিন সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, যেহেতু তার বিরুদ্ধে কর্মচারীরা লিখিত আবেদন করেছেন সেকারণে বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যর কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কমিটিতে কারা থাকছেন সে বিষয়ে কোনো কিছু স্পষ্ট করেননি তিনি।