আদালতে আসামির পাউরুটির ভেতরে গাঁজা-ইয়াবা

0
সিএমএম আদালতে পাউরুটির ভেতরে মাদক: হাজতখানার গেটে তল্লাশিতে ধরা পড়ল গাঁজা ও ইয়াবা ।। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার সময় এক হাজতির কাছে থাকা পাউরুটির ভেতর থেকে গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। আদালত চত্বরেই এক স্বজন ওই হাজতিকে খাবারের কথা বলে পাউরুটিটি দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ধরা পড়ার পর অভিযুক্তদের শনাক্তসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।

আজ রোববার আদালত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, আসামি মামুনকে নিয়মিত হাজিরার জন্য সিএমএম ১১ নম্বর আদালতে আনা হয়েছিল। মামলার শুনানি শেষে তাঁকে পুনরায় আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে আদালত প্রাঙ্গণেই আসামির এক স্বজন খাবার হিসেবে তাঁর হাতে একটি পাউরুটি তুলে দেন।

পরবর্তীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের এসকর্ট কনস্টেবলের সঙ্গে হাজতখানায় প্রবেশের আগে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় দায়িত্বরত হাজত ইনচার্জের সন্দেহ হলে তিনি পাউরুটিটি পরীক্ষা করেন। এ সময় দেখা যায়, পাউরুটির ভেতরে কৌশলে লুকিয়ে রাখা কাগজে মোড়ানো তিনটি ছোট গাঁজার পুরিয়া এবং তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মাদকগুলো জব্দ করে।

ঘটনার বিষয়ে আসামিকে বহনকারী কনস্টেবল শাহেদ বলেন, “আমি ১১ নম্বর আদালত থেকে মামুন নামের একজন আসামিকে হাজতখানায় নিয়ে যাচ্ছিলাম। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, কোনো ধরনের খাবার, প্যাকেট বা অন্য কোনো বস্তু ভেতরে নেওয়া যাবে না। তাই সাধারণত আমরা এসব গ্রহণও করি না। আসামির সঙ্গে কয়েকজন স্বজন ছিলেন। তারা সিঁড়ির কাছে এসে একটি পাউরুটি দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ ও চাপ দিতে থাকেন। পরে মানবিক দিক বিবেচনা করে পাউরুটিটি আসামির কাছে দিতে দিই। হাজতখানার গেটে দায়িত্বরত সদস্যরা সেটি নিয়ে তল্লাশি করেন। আমি আসামিকে বুঝিয়ে দিয়ে আবার আমার ডিউটিতে ফিরে যাই। এরপর পাউরুটির ভেতর থেকে মাদক উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারি।”

ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল বলেন, “আমি দায়িত্বে থাকা কনস্টেবলের সঙ্গে কথা বলেছি। আসামিকে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় তার স্বজনরা খাবার দেওয়ার জন্য জোরাজুরি করছিল। কনস্টেবল প্রথমে রাজি না হলেও মানবিক বিবেচনায় একটি পাউরুটি নিতে দেন। রুটিন তল্লাশিতে প্রথমে কোনো সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। কারণ তখন কারও ধারণা ছিল না যে পাউরুটির ভেতরে মাদক লুকিয়ে রাখা হতে পারে। পরে আবার পরীক্ষা করে পাউরুটিতে একটি ছোট ছিদ্র দেখতে পাওয়া যায়। সেটি খুঁটিয়ে দেখার পর ভেতর থেকে গাঁজার কয়েকটি ছোট প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্টদের খোঁজ করা হলেও যারা খাবারটি দিয়েছিল, তারা ইতোমধ্যে চলে যায়।”

নিরাপত্তা ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে খাবার প্রদানকারীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং প্রয়োজনে ওই হাজতিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটি একটি গুরুতর নিরাপত্তাজনিত বিষয়। তাই দায়িত্বে থাকা সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে কিংবা জেলখানা থেকে আদালতে আসামি আনা-নেওয়ার সময়ও অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটে, যার নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়ানো দরকার।”