দুবাইয়ে বেনজীরের জামিন বাতিলের জন্য সরকার ল ফার্ম নিয়োগ করেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
রাজশাহী পুলিশ লাইনসে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।। ছবি: সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই আদালত থেকে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়ার পর তাঁর সেই জামিন আদেশ বাতিলের লক্ষ্যে সেদেশে একটি বিশেষ ‘ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছে বাংলাদেশ সরকার।
আজ রোববার (২ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে রাজশাহী পুলিশ লাইনসে রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিসার ও ফোর্সের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বেনজীর আহমেদের জামিনের খবর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি এখন শুনলাম, এটা স্টেজে বসে। সাথে সাথে হোম সেক্রেটারির সাথে কথা বলেছি। হোম সেক্রেটারি দুবাইয়ে আমাদের যে অ্যাম্বাসেডর, তাঁর সাথে কথা বলেছেন।”

তিনি আরও জানান, কেবল এই আইনি বিষয়টি পরিচালনার জন্যই কয়েক দিন আগে সেখানে একটি আইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান (ল ফার্ম) নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তাকে ইনস্ট্রাকশন দেওয়া হয়েছে বেইল ক্যানসিলেশনের জন্য সে পার্সিউ করবে। আমি খবর পেয়েছি, তাঁকে অন কন্ডিশন, ইউএই লিভ না করার শর্তে বেইল দিয়েছে। কী শর্ত, আমি সার্টিফায়েড কপিটা জোগাড় করতে বলেছি এবং আমাদের যে ল ফার্ম নিয়োগ হয়েছে, তাদেরকে আমরা ইন্সট্রাকশন দিয়েছি যেন এই বেইল ক্যানসিলেশনের জন্য তারা পার্সিউ করে।”

এখন বাংলাদেশ সরকারের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “তারা আইনানুগভাবে গিয়েছে, আমরা ল ফার্ম নিয়োগ করেছি। আমাদের চেষ্টা আমরা করছি। আমরা আশা করছি, বেইল ক্যানসেল করতে পারব এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে ফেরত নিতে পারব।”

উল্লেখ্য, সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক পদে ছিলেন। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সাত কর্মকর্তার তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল।

২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কিছুকাল আগে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানে নামলে তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং তাঁদের দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জার বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে।